সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / গল্প অথবা উপন্যাস / হঠাৎ দেখা সভ্যতা

হঠাৎ দেখা সভ্যতা

শিপ্ত বড়ুয়াঃ

কর্মব্যস্ত শহরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখা হলো রিমির সাথে। জন-লোকারণ্যে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছুটছে রিমি, গন্তব্য নিশ্চয় কর্মস্থল। সংসার আর সুখের ছোঁয়া পেতে কতোই না কষ্ট, সে খবর কেবল রিমি জানে এখন।প্রায় দু’বছর আগে কলেজ, বন্ধু, প্রেম আঁকড়ে ধরেছিলো রিমিকে। আর এখন কেবল সংসারের চিন্তা গ্রাস করছে রিমিকে। অনাথ আশ্রম, সামাজিকতার বেড়াজালে বন্দী গ্রাম আর বাবাহীনতা একটি মেয়েকে এখনো জর্জরিত করে। ১০শে আষাঢ় প্রবল বাতাসে রাস্তার ধারের টং এ বসে চা আর বিড়ি ফুকছিলো প্রিদিম এবং ভাবছিলো কথাগুলো। প্রেম প্রিদিম এবং রিমিকে আপন করেই পর করেছে। গ্রামের আর দশটি মেয়ের মতো রিমি গড়ে উঠেনি, সভ্যতা-সততা-প্রগতি ছোটকাল থেকে শিখেছে সে। তাই তো স্কুলের গন্ডি পেরিয়েই কলেযে পা রাখতেই প্রিদিমের খুব ভালো বন্ধু হতে পেরেছে রিমি। কিন্তু এ সমাজ-সভ্যতা কোনটার মূল্যই দেয় নি রিমিকে।

কলেজ থেকে ফিরছিলো রিমি, মাতব্বর আর গ্রামের চায়ের দোকানের বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার মুল আলোচনা রিমির লেখাপড়ায় ঠেকলো। মাইয়াগুলো লেখাপড়া কইরা কি করবো? কলেজে ছেলেলোকের সাথে নষ্টামি-মাখামাখি এইসব ছাড়া এই মেয়ে আর কি করে! লেখাপড়া মাইয়া ছেলের লাইগা আসে নাই। রিমি তার কতো কিছুই অনুভব করে,গ্রামের মানুষগুলো শুধু কারণবিহীন সমালোচনায় করে। মাতব্বর সাব সন্ধ্যায় রিমির বাড়িতে উপস্থিত, দু’রুমের ভাঙা বাড়িতে বসে ভাঙা কিছু কথা শোনালো মাতব্বর। রিমির মাকে অনর্গল বলে যাচ্ছিলো কলেজে যাওয়ার অপকারিতা আর নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পরাধীনতা। রিমির স্বাধীন চিন্তা, সভ্যতা সবকিছু যেনো মাতব্বর কেঁড়ে নিচ্ছে।
গ্রামের মান-ইজ্জত তোমরা মা-মাইয়া মিল্লা ডুবাইবা। কাল থেইক্কা ঐসব নোংরামি করতে মাইয়ারে পাঠাইবা না কইয়া দিলাম, কথা না শোনলে গা ছাড়া হইতে হইবো। কলেজে প্রতিদিন দেখা হতো প্রিদিম আর রিমির, তাদের ভালো বন্ধুত্ব আর মেলামেশা অনেকেই প্রেম বলে ভ্রম করতো। মাতব্বর সাবের কথায় রিমির হঠাৎ কলেজ যাওয়া বন্ধে প্রিদিম চিন্তিত ছিলো খানেকটা। প্রায় দশদিন পর প্রিদিম রিমির ঘরে গিয়ে জানলো রিমি নতুন একটি সম্পর্কের জন্ম দিতে বাধ্য হয়েছে, সে এখন অন্য গ্রামের বউ। প্রিদিম অনেকটা কষ্ট বুকে চেপে বাড়ি ফিরে গোসলখানার পানির শব্দে কান্নার শব্দ মেশালো।

প্রিদিম ঘুম থেকে উঠেনি এখনো, রিমির বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ঘুম ভাঙানোর কেউ নেই তার। সারারাত নির্ঘুম থাকার দায় রিমির কাঁধে ঝুলিয়ে আধ সকালে ঘুমোয় প্রিদিম। সারাক্ষণ চিন্তার পোঁকা তার মাথায় উঠে বসে, ইদানিং মাঝেমধ্যে চিৎকার দিয়ে ঘুম ভাঙে প্রিদিমের পাড়ার লোকজন সে দায় ও রিমিকে দিতে দ্বিধান্বিত হয়না। কেনো এমন অস্বাভাবিক হলো ছেলেটা, সে দায় শুধু রিমিই কেনো নেয় সে কথা জিজ্ঞেস করার উদ্দ্যেশ্যে রিমির খুব কাছে গিয়ে বলে উঠতে পারেনি। নিজ উদ্যমতায় রিমি ছুটে চলছে দুমুটো ভাতের সন্ধানে।

শেয়ার করুন
  • 56
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *