সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / স্লো পয়জনিং ।। অনুপম আইচ

স্লো পয়জনিং ।। অনুপম আইচ

রসায়ন শাস্ত্রে ‘স্লো পয়জনিং’ নামে একটা ঘটনার উল্লেখ আছে। কিছু ভারী ধাতু আছে (যেমনঃ শীসা) যেগুলো আমাদের শরীরে কোনভাবে ঢুকে গেলে শরীরের প্রত্যঙ্গগুলো ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করে।শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা কমিয়ে দিতে দিতে একসময় একেবারে থেমে যায়; অর্থাৎ মৃত্যু।

মনে করুন আপনি জীবনের প্রতি ভীষণ ক্ষিপ্ত, বেঁচে থাকার আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। বেছে নিতে চান আপনার সেই কাঙ্খিত পথ ‘সুইসাইড’। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণার এমন সব ভয়াল বর্ণনা শুনেছেন যে সাহস পাচ্ছেন না। তবুও আপনি থেমে নেই। গুগলে অনবরত খুঁজে চলেছেন ‘বিনাকষ্টে আত্মহননের উপায়’।


স্লো পয়জনিং এক্ষেত্রে যুগান্তকারী উপায়। (তবে আমি আপনাকে অতি অবশ্যই আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছিনা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াতে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এই টোটকা আসলে ওদের জন্য।)
…যাইহোক ফাজলামি বাদ দিয়ে আসা যাক ঘটনায়। ‘স্লো পয়জনিং’ আসলে একটা দুর্দান্ত মার্ডার প্লান।কারণ ডাক্তার এক্ষেত্রে ভিকটিমের শরীরে রোগ ধরতে অক্ষম হবেন এবং মৃত্যুর পর স্বাভাবিক মৃত্যুর সনদ দিবেন।


কিন্তু পড়তে যতটা সহজ এবং কম সময় লাগছে ব্যাপারটা এত সহজে ঘটানো যায় না। কারণ কেউ চাইলেই কারো শরীরে এই জাতীয় ধাতু প্রবেশ করাতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন হবে একজন প্রফেশনাল এবং দক্ষ কেমিস্ট। কাওকে স্লো পয়জনিং এর মাধ্যমে মার্ডার করার প্লান করা হলে তার নিত্যদিনের স্বাভাবিক খাবারের সাথে এসকল ভারী ধাতু খুবই মিহিদানা করে নির্দিষ্ট পরিমানে প্রতিনিয়ত খাইয়ে দেওয়া হয়।প্রতিনিয়ত খাওয়ানোর ফলে তার শরীরে অদ্ভুত কিছু উপসর্গ(symptoms) দেখা দেয়।ভিকটিমের ওজন কমতে থাকে,চুল পড়ে যেতে শুরু করে দ্রুতহারে,শ্বাসকষ্ট হতে থাকে নিয়মিত, হার্টের প্রব্লেম হতে থাকে,চলাচলের শক্তি কমে যেতে থাকে,শরীর ধীরে ধীরে প্যারালাইজড হতে থাকে এবং একসময় জীবনপ্রদীপ ধপ করে নিভে যায়।ডাক্তারি পরীক্ষায় সাধারণত প্রথমদিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণ ধরা পড়ে কিন্তু চিকিৎসায় রোগীর কোনো উন্নতি হয় না।এবং সর্বশেষ ভিক্টিম সুপরিকল্পিত ভাবে খুন হন।


আমাদের মানবশরীর খুব সামান্য পরিমান বিষ স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে। (যেমনঃভীমরুল বা বোলতা কামড়ালে খুব যন্ত্রনা হলেও আমরা কিন্তু মারা যাইনা।) কিন্তু বিষের মাত্রা যখন শরীরের সহ্যক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যায় তখন মানবশরীর অকেজো হয়ে যায়(যাকে আমরা মৃত্যু বলি)। ‘স্লো পয়জনিং’ তাই আসলে কাওকে বিষ প্রয়োগে হত্যা। সুতরাং পাব্লিক সাবধান। খিয়াল কইরা চলাচল…..

শেয়ার করুন