সেমেটিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বে মানুষজাতি

দিয়ার্ষি আরাগঃ

ঈশ্বর, অন্ধকার আর শূন্যতাই শুধু ছিল তখন। কোটি কোটি বছর পর হঠাৎ ঈশ্বরের মনে হলো তিনি কিছু সৃষ্টি করবেন! তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বসৃষ্টির। ( তবে বিশ্বসৃষ্টির আগে ঈশ্বর কী করতেন? থাক, অতকিছু নাই বুঝলাম!) ঈশ্বর প্রথমে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। ঈশ্বর জাদুকরের মতো ‘কিছু না ‘ থেকে জগৎ সৃষ্টি করতে শুরু করলেন। ‘কিছু না ‘ থেকেই সমগ্র বিশ্ব পয়দা করতে ঈশ্বরের ছয়দিন সময় লেগেছিল!

( ১) ( লাগবেই তো, অত বড় দুনিয়া!) প্রথম দিন (প্রথম দিন! না দ্বিতীয় দিন! আর তিনি দিন পেলেন কোথায় ? কী জানি বাবা!) তৈরি হলো আলো ও দিনরাত্রি। (উৎস ছাড়াও আলো হয় দেখছি!) দ্বিতীয় দিন তৈরি করলেন পানির মাঝে আকাশ। ( পানি কখন সৃষ্টি করলেন, তা বলতে ভুলে গেছেন ঈশ্বর !) তৃতীয় দিনে সকল প্রকার গাছপালা। চতুর্থ দিবসে আলো দেবার জন্য সূর্য, চাঁদ এবং নক্ষত্ররাজি। পঞ্চম দিনে তৈরি করলেন বিভিন্ন প্রকার প্রাণী, মাছ ও পাখি।

(২) বিশ্ব সৃষ্টি হলো! এবার তিনি আশরাফুল মাখলুকাত তৈরি করলেন। তৈরি করলেন আদম। এই বস্তু তৈরি করতে তিনি ‘ কুন ‘ বা ‘Let it be! ‘ পদ্ধতিতে না করে কাদামাটি নাড়াচাড়া করলেন। মূর্তি তৈরি করলেন তাও আবার নিজের প্রতিকৃতিতে। (৩) এই মাটির মূর্তির নাকে ফুঁ দিয়ে প্রাণ সঞ্চার করলেন।

(৪) এরপর আদমের আবদারে ঈশ্বর নারী সৃষ্টি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ( তিনি যদি নারী সৃষ্টি করতে নাই চাইবেন, তবে কেন যে তিনি হিজড়া তৈরি না করে পুরুষ তৈরি করলেন এটা একটা রহস্য। ঈশ্বর নারী এবং পুরুষ তৈরি করেছেন সত্য, তবে হিজড়া যে কে সৃষ্টি করেছেন তা পুরোনো গ্রন্থগুলো থেকে জানা যায় না। হয়তো ঈশ্বরের ভুলো মন !) যাই হোক নারী সৃষ্টি করতে ঈশ্বর তিনবার উদ্যোগ নেন। এবং ঈশ্বর নারী সৃষ্টি করতেও ‘কুন ‘ বা ‘Let it be! ‘ ফর্মুলা ত্যাগ করে মাটির মূর্তি তৈরি পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু করেন। ঈশ্বর আদমের মতোই প্রথম নারী সৃষ্টি করেন মাটি দিয়েই। আদমের জন্য। আর নাম দিলেন লিলিথ। কিন্তু লিলিথকে নিয়ে আদম মহা ঝামেলায় পড়ে যান। লিলিথ আদমকে নাকানি চুবানি খাইয়ে দেন, বিভিন্নভাবে। আদম চাইছিলেন লিলিথের উপরে ওঠে সঙ্গমকার্য করতে। কিন্তু লিলিথ সেটা কখনোই হতে দেননি। বরং লিলিথ আদমকে নিচে ফেলে নিজের ভেতর আদমকে গ্রাস করে নেন। আদম বেচারা খুব নাকাল বোধ করেন।

একদিন আদম লিলিথকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন, লিলিথ কী এক মন্ত্র বলে উধাও হয়ে যান। ( আমাদের তসলিমার মধ্যে লিলিথের ছায়া আছে! মাশাল্লাহ!) ঈশ্বর প্রথমবার নারী সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হলেও বসে থাকার চিজ তো তিনি নন! তিনি আদমের জন্য প্রথম হাওয়াকে তৈরি করতে শুরু করলেন। আদম সেই সৃষ্টি প্রক্রিয়া এবং সৃষ্টির উপকরণ দেখতে পান এবং সেসব দেখে ঘৃণায় বমি করতে শুরু করেন। ঈশ্বর আদমের এই অবস্থা দেখে প্রথম হাওয়াকে গায়েব করে ফেলেন। তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি!
ইতোমধ্যে অভিজ্ঞ ঈশ্বর আর তৃতীয় ভুল করলেন না। আর কাদামাটি নাড়াচাড়াও ঈশ্বরের পক্ষে অশোভনীয়, তাইনা? এবার তিনি দ্বিতীয় হাওয়াকে সৃষ্টি করতে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করলেন। আদমকে নিদ্রামগ্ন করে তার একটা পাঁজর ছিঁড়ে নিয়ে তা দিয়ে সুন্দরী হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন।( এটা কিন্তু জাদু নয়, স্রেফ হাত সাফাইয়ের কাজ। ঈশ্বর সব পারেন! পরবর্তীতে আদম কি One sided হয়ে গিয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি!)

আদমের পাঁজর এবং মাংস দিয়ে তৈরি হওয়ায় আদমই হাওয়ার মা অথবা বাবা। হাওয়া যে আদমের স্ত্রী এটাও সবার জানা।
হাহাহা, ঈশ্বরের কী অপার লীলা! (উহ্ , সব ঝামেলা ঈশ্বর শেষ করেও একটা ঝামেলা রেখেই দিলেন! হাওয়াকে আমরা মা হাওয়া ডাকি! আদমকে কী নামে ডাকব, বাবা আদম না দাদা আদম ? সেজন্যই বোধহয় ইসলামে নিজের কন্যা ধর্ষণের মহামারি লেগে গিয়েছে! পুত্রবধু বিয়ে তো রীতিমতো সুন্নাত। ইরানের পার্লামেন্টও পালিতা কন্যা বিয়ের আইন পাশ করেছে! আলহামদুলিল্লাহ!)
আদম-হাওয়া সৃষ্টির পর তিনি সমগ্র বিশ্ব শাসনের সিদ্ধান্ত নেন এবং সিংহাসনে আরোহণ করেন। এবং স্বঘোষিত মালিকিন্নাস উপাধি ধারণ করেন। বেহেস্তে আদম – হাওয়ার জন্য এক পেনাল কোড জারি করেন, ” তোমরা ঐ বৃক্ষের ফল খেও না। “(৫) ওরা ঐ নিষেধ মান্য করার গুরুতর অপরাধে ( হাহাহা, একটা আপেল খেয়ে ফেলা কি সাধারণ অপরাধ !) শাস্তি স্বরূপ বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হন।(৬) আদমই আমাদের প্রথম নবি। (তিনি বোধহয় হাওয়ার উপর নবিগিরি ফলাতেন!)

পৃথিবীতে আদমের দুই পুত্র কয়িন ও হেবল মারামারিতে লিপ্ত হন এবং ছোটভাইকে বড় ভাই খুন করে ফেলেন।(৭) (শেষ নবিই এত খুনখারাবি করেছেন আর প্রথম নবির পুত্র বলে কথা!) খুন করে তিনি দূরে পালিয়ে যান এবং সেখানে বিয়ে করেন।(৮) ( সেখানে মেয়ে আসল কোথা থেকে? ঈশ্বরই জানেন!) সৃষ্টির শুরুতেই ফেরেস্তারা নিষেধ করেছিলেন, মানুষ সৃষ্টি না করতে, তারা বলেছিলেন, মানুষ অশান্তি সৃষ্টি করবে। কিন্তু ঈশ্বর ধমক দিয়ে তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ” আমি যা জানি, তোমরা তা জান না। ” কিন্তু ফেরেশতাগণ সঠিক ছিলেন। মানুষ ক্রমান্বয়ে অনেক বেশি পাপকার্যে লিপ্ত হতে লাগল। ( ফেরেস্তারা কি ঈশ্বরের চেয়ে বেশি জ্ঞানী ? কী জানি, বাবা!)

পৃথিবী পাপে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ঈশ্বর কিছু নমুনা নুহের নৌকায় তুলে দিয়ে বাকি সব প্রাণীদের পানিতে চুবিয়ে মারলেন। ( আহারে দয়াময় ঈশ্বর!) তারপর আবার নুহের কিস্তি থেকে শুরু হলো ঈশ্বরের দ্বিতীয় ট্রায়াল।(৯)(ঈশ্বরের প্রতি আবার খামখেয়ালিপনার অভিযোগ আনবেন না, গুনাহ হবে !) হজরত নুহ নয়শত পঞ্চাশ বছর জীবিত ছিলেন। এবং মহাপ্লাবনের পর তিনি মদ খেয়ে উলঙ্গ হয়ে মাতলামি করতেন। (১০)( এদেরই বংশধর মানুষ!)

এরপর আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ পৃথিবীতে পায়ুকামকে(Sodomy) তাদের যৌনতৃপ্তির উপায় হিসেবে বেছে নেয়। বিশ্ব হয়ে যায় পায়ুকামী বিশ্ব। (হায়!)। হযরত লুত (নবি) মানুষকে ঈশ্বরের শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।(১১) একদিন ঈশ্বরের নির্দেশ নিয়ে দু ‘জন ফেরেশতা সুন্দর পুরুষরূপে লুতের কাছে আসেন।(১২) এদের সৌন্দর্যের খবর পেয়ে পায়ুকামী বিশ্ববাসী লুতের বাড়ি ঘেরাও করে। হযরত লুত তাদেরকে শান্ত ও ক্ষান্ত করার জন্য তাঁর পবিত্র কুমারী কন্যাদের ভোগ করার অনুরোধ করেন। ( কি মহান পিতা !) তিনি অনুরোধ করেন, ওরা যেন তার মেহমান ফেরেশতাদের সঙ্গে কুব্যবহার অর্থাৎ পায়ুকাম না করে।(১৩) কিন্তু জনগণ নবির কন্যাদের সঙ্গে ফুর্তি করতে রাজি হলো না। (কী বেয়াদপ!) ওরা সুন্দর ফেরেশতাদের সঙ্গেই পায়ুকামে লিপ্ত হতে চাইলো!(১৪)

হযরত ইব্রাহিমের { কে এই ইব্রাহিম? একজন মহান নবি এবং গোষ্ঠীপতি। যিনি বিয়ে করেন তাঁর বোনকে (সারী), অগ্রাহ্য করেন স্ত্রীকে, ধর্ষণ করেন পরিচারিকাকে ( হাগার বা হাজেরা, ইব্রাহিম তাকে আবার বিয়েও করেন) , যিনি এক সন্তানকে ( ইসহাক বা ইসমাইল) মরুভূমিতে তাড়িয়ে দেন যে সে অনাহার মরে বা কষ্ট পায়, এবং আরেক পুত্রকে ( ইসমাঈল বা ইসহাক) জবাই করার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি চালান। } কান্নাকাটি সত্ত্বেও ঈশ্বরকে পুনরায় ধ্বংসকার্য চালাতে হলো। ঈশ্বর সবাইকেই মেরে ফেললেন। বেঁচে রইলেন শুধু হযরত লুত ও তাঁর মেয়েরা। লুতের পবিত্র মেয়েরা উনাকে পাহাড়ে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মদ পান করালেন। মদ খেয়ে মাতাল হলেন তিনি। তারপর ? তারপর নিজ মেয়েদের সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হলেন আমাদের মহান পুর্বপুরুষ লুত নবি।(১৫) ( মিয়া খলিফা, শরম পাবেন না, দয়াকরে!)

আমরা এই মানবজাতি তাদেরই গর্বিত বংশধর! আমিন!

তথ্যসূত্র :
১.কোরআন, সূরা হুদ, সূরা আরাফ ৫৪, সূরা ফোরকান ৫৯।
২.Genesis 1.
৩.Genesis 1:27, “ইন্নাল্লাহা খালাকা আদামা মেন সুরাতিহী ” – আল হাদিস।
৪.Genesis 2:7
সূরা হিজর ৩০, সূরা সিজদা ৯।
৫.Genesis 2:17, কোরআন, সূরা বাকারা ৩৫, সূরা আরাফ ১৯।
৬.Genesis 3:23,কোরআন, সূরা বাকারা ৩৬, সূরা আরাফ ২৪,সূরা তাহা ১২৩।
৭.কোরআন, সূরা মায়িদা ৩০।
৮.Genesis 4:17.
৯.আদি পুস্তক ৭:২১-২৪,কোরআন, সূরা আনকাবুত ১৩-১৪, সূরা আরাফ ৬৪,সূরা হুদ ৩৬-৪৯।
১০.আদি পুস্তক ৯:২১-২৪।
১১.কোরআন, সূরা আশশোয়ারা ১৬০-১৬৮।
১২.আদি পুস্তক ১৯:১-৩,কোরআন, সূরা হিজর ৭১,সূরা হুদ ৭৭।
১৩.Genesis 19:7-8,কোরআন, সূরা হিজর ৭১,সূরা হুদ ৭৮।
১৪.কোরআন, সূরা হুদ ৭৯,সূরা হিজর ৭২।
১৫.আদি পুস্তক ১৯:৩০-৩৮।

By | ২০১৮-০৭-০৪T২৩:৫৮:৫৪+০০:০০ জুলাই ৪, ২০১৮|ধর্ম ও দর্শন|০ Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!