শিবচতুর্দশী, চন্দ্রনাথ পাহাড়, ভ্যালেন্টাইন্স ডে এবং আমি

সোহেলী তাহমিনা:

এ বছরের ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমি আমার এক হিন্দু বান্ধবীর সাথে সেজেগুজে মন্দিরে গিয়ে শিব চতুর্দশী উদযাপন করে কাটাব- এরকম একটা প্ল্যান করে মোটামুটি খুশিই ছিলাম। ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে সেই বান্ধবীর সাথে মন্দিরে যাওয়ার প্ল্যান করতে করতেই হঠাৎ ফেসবুকের জনপ্রিয় গ্রুপ ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ এর একটি পোস্ট আমার নজর কাড়ে, যেখানে একজন ভ্রমণপ্রেমী বড় ভাই তাঁর কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে শিবচতুর্দশীর মেলায় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ট্রেকিং করে চূড়োয় ওঠার গল্প শেয়ার করেন। আমি এর আগেও পাহাড়ে ট্রেকিং করেছি, তাই পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠার সাধ আমার ততটা নেই। আমি পছন্দ করি নতুনকে জানতে, নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে। আর আমার দেশের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে- পেশাদারী শব্দে যাকে বলা হয়- ডেস্টিনেশন মার্কেটিং বা কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং।

শ্লোক ছাপা বস্ত্র

এ পর্যন্ত আমর প্রায় বেশিরভাগ ভ্রমণেই একদল অপরিচিত বা স্বল্প-পরিচিত মানুষের সাথে যোগ দিয়েছি। কিন্তু এবারে ঠিক করলাম, এই যাত্রায় আমি একাই যাব। সেই অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারী ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে রাত ১১ টার বাসে একাই যাত্রা শুরু করলাম, গন্তব্য: সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম আমার ১ম সত্যিকারের সোলো ট্রিপ ও ২৭ তম জেলা ভ্রমণ। পরদিন অর্থাৎ ১৪ তারিখ দুপুরের মধ্যেই আমাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরতি পথে যাত্রা করতে হবে। এই কারণে পুরো পথেই আমি শুধু দুশ্চিন্তা করে চলেছিলাম যে যদি কোন কারণে সময়ের গরমিল হয়ে যায়, তাহলে কিভাবে সেটা মিলিয়ে নিব। সেই সাথে বহুক্ষণ অভুক্ত থাকায় আমার পাকস্থলীও বেশ মেজাজের সাথেই মোচড়ামুচড়ি করছিল। মধ্যবিরতিতে গরম গরম পরোটা আর মুগ ডালের ভুনা দিয়ে রাত ৩:১৫ এর দিকে পেটপূজা সেরে, হোটেলটির আশপাশ একটু ঘুরতে বেড়িয়ে দেখতে পেলাম একই মেলার উদ্দ্যেশ্যে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবেই নয়, বরং ট্যুর গ্রুপের সাথেও অনেকেই যাত্রা করছে। বাসে ফিরে জানতে পারলাম, আমার ঠিক সামনের সিটে বসে থাকা তিন জনের ছোট্ট পরিবারটি, তাদের পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলেকে সাথে নিয়ে এই তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছে। হিন্দু পূরাণে কথিত আছে, মহাদেব শিবকে তাঁর শ্বশুরমশাই অভিশাপ দিয়েছিলেন। আর স্ত্রী স্বতী এই কষ্টে আত্মহত্যা করলে মহাদেব মাত্রাতিরিক্ত রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীর শবদেহ ঘাড়ে করে তা-ব নৃত্য করেছিলেন।

এই সময়েই স্বতীর মৃতদেহটি ৫১ টি টুকরো হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরেছিল। তারই একটি টুকরো পরেছিল এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আর একারণেই এটি হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। সকাল ৭ টার একটু আগে বাস আমাকে আর সেই পরিবারটিকে সীতাকুন্ড বাজারে নামিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশ্যে চলে গেল। আর আমরা শুরু করলাম আমাদের তীর্থযাত্রা। মজার ব্যাপার এই যে আমাদের দলের মধ্যে শুধু আমিই জেনেছিলাম যে বাস থেকে নামতেই যাত্রা শুরু হয়, যা সীতাকুন্ড বাজারের ভিতর দিয়ে চলতে চলতে এগিয়ে যায়। ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি হলেও, বেশ শীত করছিল। হাঁটতে হাঁটতেই জানতে পারলাম, বাচ্চা ছেলেটির নাম পরশ আর তার কথা বলায় একটু সমস্যা রয়েছে; সে ”র” উচ্চারণ করতে পারেনা সেটি অ হয়ে যায়।

শিবলিঙ্গের পূজাঅর্চনায় নারী ভক্তকূল

মেলায় ঢোকার মুখেই দেখতে পেলাম স্টেশনে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে উদ্যত ট্রেন। সেই সাথে ছিলপাহাড়ে চড়ার বিকল্প ব্যবস্থা কষ্ট করে পাহাড়ে না চড়ে, ২০০/- দিয়ে গাড়িতে চড়ে পাহাড়ে উঠুন; আবার একই পরিমাণ খরচা করে, নেমে যান। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে, আশেপাশের মানুষের অতি উৎসাহের খোরাক হতে হতে ও মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন সামগ্রী দেখে মুগ্ধ হতে হতেই আমার একান্ত ব্যক্তিগত এই ভ্রমণ চলতে থাকল। যাওয়ার পথে ঠিক করলাম, ওপরে উঠার পথে কোন কিছু খাব না বা কোন ছবি তুলব না। কিন্তু পেটের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও, ক্যামেরা আর আমার হাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলাম না। বিশেষ করে যোগী বেশে মেলার রাস্তার দুই পাশে বসে থাকা বিভিন্ন কিসিমের জটাধারী সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী, শিব-স্বতী ও মহাকালীর রূপে সেজে থাকা অসংখ্য অভিনেতার সামনে পরলে ছবি না তুলে থাকা সম্ভব নয়। আর এভাবে এই মডেলদের ছবি তুলতে গিয়ে বেশ কিছুটা পকেট খরচাও করতে হয়েছে বৈকি! তবে বেশিরভাগ তীর্থযাত্রীই টাকা-পয়সার পাশাপাশি চাল আর ডালের মিশ্রণে তৈরি শুকনো খাদ্য সামগ্রীও বিলিয়ে দিচ্ছিলেন- যাতে এই যোগীরা পরে রান্না করে খেতে পারেন।

এরপরে সৌভাগ্যবশতই, রাস্তা কিছুটা ভুল করে পৌঁছে গেলাম ব্যসকুন্ডে সৌভাগ্য একারণে যে, ঠিক ঐ সময়ে ব্যসকুন্ডের ভীড় কিছুটা হলেও সহনীয় ছিল। রামায়ণে কথিত আছে যে, শ্রীরাম যখন স্ত্রী শীতাকে নিয়ে বনবাসে ছিলেন, তখন শীতা এই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের তলদেশে অবস্থিত পুকুরেই স্নান করতেন। সে জায়গাটিই এখন ব্যসকুন্ড নামে পরিচিত, যেখানে পাহাড়ের চূড়োয় অবস্থিত মন্দিরের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করার আগে পুরুষেরা মুু-ন করে স্নান করে পবিত্র হয়ে নেন। রয়েছে মাথার পাশাপাশি, দাড়ি-গোঁফ কামানো ও বগলের চুল ছাঁটার ব্যবস্থাও । তবে পরে জানতে পারি যে, মাথা মু-নের এই ধাপটি তাঁদেরই করতে হয়, যাঁরা পরিবারের মৃতদের জন্য এই তীর্থযাত্রা করে থাকেন। মহিলারাও এই পুকুরে স্নান করে থাকেন। তাছাড়া এই ব্যসকুন্ডের বিভিন্ন ধরনের পূজারও ব্যবস্থা রয়েছে। একজন সহৃদয় পূজারী আমাকে রাস্তা চিনিয়ে দিলে আমি আবার আমার যাত্রা শুরু করি। সরাসরি পাহাড়ের উদ্দ্যেশ্যে, ছবি তুলতে তুলতে।

শাঁখা শিল্পী ও বিক্রেতা

মোটামুটি সাড়ে তিন মাইল, যাত্রার প্রায় অর্ধেক পথ, উপরে ওঠার পরে সেই স্থানে অবস্থিত মন্দিরে, আগত দর্শনার্থীরা পূজা দিচ্ছিলেন। তাঁদের এই পূজা দেওয়ার কারণে সৃষ্ট জটলার স্বীকার হয়ে অনেকেই এই স্থানে দুই থেকে চার ঘন্টা যাবৎ বসে থেকে অপেক্ষায় রয়েছিলেন। আমিও একই জায়গায় প্রায় ঘন্টাখানেক ওঠানামা করে সময় নষ্ট করেছি। আর এই সময়েই আমার ভ্রমণকালীন ছোট্ট জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনার একটি ঘটে যায়। ঘটনাটি এরকম জনৈক তীর্থযাত্রী যখন জানতে পারলেন যে এই অবিবাহিত মুসলিম নারী একাই এই যাত্রায় এসেছে, তখন তিনি আমার সাথে একটি ছবিতে নিজেকে বিশেষ একটি শারীরিক ভঙ্গিমায় তুলে ধরার লোভটি সামলাতে পারলেন না। ছবিটি তোলার সময়ে এই ঘটনাটিকে আমি খুব সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে মেনে নিলেও, পরে যতবার দেখেছি, ওনার এধরনের কাজে বেশ খুশিই হয়েছি। এরকম অভিজ্ঞতার খোঁজেই তো আমার একা আসা!

ওদিকে সকাল ৯ টা বাজছে প্রায়। সময় ফুরিয়ে আসছে। তাই ট্রেকিং এখানেই শেষ করে, নিচে নামতে শুরু করলাম। উঠতে, নামতে, চলতে চলতে অনেক ধরনের মানুষের সাথে কথা হল। এদের মধ্যে অনেক উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর তীর্থযাত্রীও ছিলেন। কেউ কেউ জানালেন এখানে আসা অধিকাংশ অনুসারীই ভারতীয়। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকেও তীর্থযাত্রীরা এখানে এসেছেন। কেউ আবার একটু দু:খ প্রকাশ করে জানালেন যে ভিনদেশীদের কারণে তাঁরা নিজের দেশেই যাত্রা পুরো করতে পারেননা। আবার অনেককেই বলতে শুনলাম যে, ভারতীয় তীর্থস্থানগুলোতে খাবার সহ অন্যান্য সুবিধার আয়োজন অনেক গোছানো ও সুন্দরভাবে পরিচালিত। আরও জানতে পারলাম, এঁদের বেশিরভাগই প্রায় ১২ ঘন্টা ব্যয় করে তবেই তারা সফল হয়ে ফিরছেন।

আমার এই যাত্রার প্রধান উদ্দ্যেশ্য ছিল মেলাটি যা শুধু ধর্মীয় কারণেই নয়, দেশীয় ঐতিহ্যের কারণেও বিখ্যাত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের কারিগর, হস্তশিল্পী ও রন্ধন শিল্পীরা নিজেদের শিল্প ও সামগ্রীকে এই মেলায় তুলে ধরেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৫০ ধরনের শুকনো মিষ্টি জাতীয় খাবার, আঁচার, ঘিয়ে ভাজা বিভিন্ন ধরনের হালকা রসাল মিষ্টি, ছোট আকারে তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, পূজায় ব্যবহৃত সব ধরনের সরঞ্জামের অসংখ্য উপস্থাপনা, ছোট ছোট মন্দির, আবীর, শাঁখা ও সিঁদুর এর দোকান, তুলসীর মালা, বাঁশের তৈরি নানান ধরনের বাঁশি, শ্লোক ছাপা বস্ত্র যা মন্দিরের পূজারীরা পরে থাকেন, মাদুর, দা-বটি-ছুরি জাতীয় পণ্যের দোকান, পূজায় ঘরোয়াভাবে ব্যবহৃত ঢাক, ট্রেকিং এর জন্য উপযোগী ও নকশাদার বেতের তৈরি পোল বা লাঠি যা অনায়াসে ঘরে সাজিয়ে রাখা যায়। আমি, শুধু ভাষায় এগুলো প্রকাশ করতে পারব না। ফরিদপুর, নওগাঁ, কুমিল্লা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ফেণী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসকল শিল্পীরা এই মেলায় আসেন এবং প্রতি বছর আসেন। কোন কোন দোকানে আমি কিছু খাবার খেয়ে দেখলাম কিনতে হয়নি, তাঁরা টেস্ট করার জন্যও যথেষ্ট পরিমাণে দিয়েছিলেন।

পাহাড় থেকে নেমে প্রথমে জগন্নাথ মন্দিরে ঘুরলাম। অদূরেই একটি শিব মন্দিরে মহাশ্মশান এর উন্নয়ন কাজের জন্য দানবক্স এর প্রচার কাজ চলছিল। শিব মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকে প্রথমেই দেখা মিলল, বজরংবলী তথা হনুমান দেবের মূর্তির। মূল মন্দিরের ভিতরে খালি পায়ে ঢুকে দর্শন করলাম স্বয়ং মহাদেব এর। দেখলাম শিবভক্তরা কিভাবে পরম যত্ন শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এবং সেই সাথে দুধ ও নানা রকম ফলমূল দিয়ে শিবলিঙ্গটির পূজা-অর্চনা করছেন। শুধু শ্রদ্ধা জ্ঞাপনই নয়, অভুক্ত শরীরে কে কার আগে মহাদেবকে তুষ্ট করতে পারেন সে নিয়ে প্রতিযোগিতাও চলছিল। আর এই পূজা দিতে পুরুষেরাও সমান সক্রিয়। মন্দিরের আঙ্গিনাতেই দেখা মিলল, শিব মন্দিরের খুব সাধারণ ও চিরন্তন এক ভক্তদলের, যারা সিদ্ধি আর তামাক পাতা দিয়ে তৈরি সিগারেট এখানে বেশ খোলাখুলিভাবেই বিক্রি ও সেবন করে চলছিল।

হনুমান দেব

সকাল ১০ টা বাজতে লাগলে আর ক্ষুধা ভুলে থাকতে পারিনি, লুচি আর লাবড়া দিয়ে নাস্তাটা সেড়ে নিই। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই সময়ে নিরামিষ ভোজন করে থাকেন, আর নারীরা রীতিমত উপোস করে থাকেন, আর উপোস অবস্থাতেই পাহাড়ে চড়েন! নাস্তার পরে একটু বিশ্রামের জন্যচলে যাই রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গনে, মেলা প্রাঙ্গণের ভিতরেই। এতখানি অ্যাডভেঞ্চারের ও শারীরিক ধকলের পর এই বিশ্রামটি মেডিটেশনের চেয়ে অনেক বেশি উপকারি ছিল। তারপর মেলার বাকি অংশটুকুও হেঁটে ঘুরে দেখে শেষ করলাম। যাত্রার উদ্দ্যেশ্য পুরোপুরি সফল। উল্লেখ্য, মেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা রীতিমত প্রশংসনীয় ছিল। মেলা থেকে বেরিয়েই সোজা চলে যাই রেলওয়ে স্টেশনে, একেবারে পাশেই। এরকম ছবির মত সুন্দর ছোট্ট ছিমছাম রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম আমি শুধু মুভি আর ছবিতেই দেখেছি। তারপর অন্য একটা দিকে এগিয়ে গিয়ে সীতাকুন্ডের সাধারণ মানুষদের জীবনযাপন কিছুক্ষণ দেখলাম। আরও কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একটা রিক্সা ডেকে বললাম, বাস স্ট্যান্ড।

একসাথে, চট্টগ্রাম থেকে আগত ঢাকাগামী একটি বাসে, আমরা মোট আঠার জন উঠলাম। বিকালে মেঘনা নদী পার হওয়ার সময়ে অসাধারণ সুন্দর আরও একটি সূর্যাস্তমন ভরিয়ে দিল। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ৯ টা- পুরো ২২ ঘন্টা। কিন্তু বাড়ি ফেরার সাথে সাথেই মনে হতে লাগল আবার কবে?

শেয়ার করুন

ব্লগার আমার কলম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।