শান্তির দূত কফি আনান

প্রথমবারের মত কোনো কালো ব্যক্তি  জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছিলো।কফি আনান,পুরো নাম কফি আত্তা আনান।১৯৩৮ সালের ৮ ই এপ্রিল আফ্রিকার দেশ ঘানাতে যার জন্ম।বাবা ছিলেন একজন প্রাদেশিক গভর্নর,শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ ঘানাতেই কেটেছিলো, পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৬২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট অফিসার হিসেবে শুরু করেন কর্মজীবন। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।তার সময়ে পৃথিবী দুইটি বড় সংকটে পড়ে একটি হচ্ছে ইরাক যুদ্ধ এবং অপরটি হচ্ছে এইডস।

দুইক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সরব।ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন কফি আনান এবং এ যুদ্ধকে তিনি অবৈধ বলে মন্তব্য করেন বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার বিভেদ তৈরী হয় এবং ২০০৬ সালে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কেনিয়ার রাইলা ওডিঙ্গা ও মাওয়াই কিবাকির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতা করেছিলেন কফি আনান।

সিরিয়া যুদ্ধে তাকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয় জাতিসংঘ ও আরব লিগ। এ ছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গঠিত আন্তর্জাতিক কমিশনের নের্তৃত্ব ছিলেন আনান। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুপারিশ করা এ কমিশন পরিচিতি পায় ‘আনান কমিশন’ হিসেবে। জাতিসংঘকে নতুনভাবে গড়ে তোলা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার রাখার জন্য তিনি ২০০১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। অতঃপর গত ১৮ই আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৮০ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় এই মহান নেতার। পৃথিবী হারালো এক শান্তির দূতকে।শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এ মহান নেতার প্রতি।

শেয়ার করুন

ব্লগার আরাফাত এইচ রাশেদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।