সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / ইতিহাস / শঙ্করদেব পাঠের গোড়ার আলাপ

শঙ্করদেব পাঠের গোড়ার আলাপ

আর্য সারথীঃ

শঙ্করদেব আমাদের এই অঞ্চলের ভাবান্দোলন বা ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। আমাদের এই অঞ্চলের জনগণের সামাজিক-সাংস্কৃতিক -রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রবাদ পুরুষ।তিনি ১৪৪৯ খ্রীষ্টাব্দে আসামে জন্মগ্রহণ করেন।সালটা পড়ে আমরা বুঝতে পারছি তিনি চৈতন্যদেবের প্রায় অর্ধশতাব্দী আগেরকার মানুষ। এই মহান ব্যক্তিত্ব শুধু আসামের নন, তিনি একইসঙ্গে বাঙলার সাথে সংযুক্ত। আমরা বলতে পারি তিনি বৃহৎ বাঙলার ভাবান্দোলনের প্রবাদ পুরুষ। তাঁর সাহিত্য- দর্শন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহৎ বাঙলার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার জন্য তাঁকে পাঠ করা আবশ্যক।চৈতন্যদেবের পূর্বে তিনিই জাতপাতববিরোধী লড়াই এই বৃহৎ বাঙলায় প্রবলভাবে ছড়িয়ে দেন।চৈতন্যদেব যখন এই কাজ শুরু করেন তখন তিনি শঙ্করদেবকে পর্যালোচনা করেই অগ্রসর হয়েছিলেন।আজ এই বৃহৎ বঙ্গের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া কেন জরুরী তা সবার আগে জেনে নিতে হবে।

ইতিহাসের কুটিল চক্রে আজ বৃহৎ বাঙলা ভূগোল ছেড়ে তাবে ঠাই নিয়েছে। বৃহৎ বাঙলাকে কেতাবে বন্দী করার পর আজ অবধি যে হরেক রকম জাতীয়তাবাদী প্রোপাগান্ডা চলছে তা দ্বারা এই অঞ্চলের মানুষ উৎপীড়িত। এই অঞ্চলের মানুষ আজ তার ইতিহাস হতে বিচ্ছিন্ন।ঔপনিব েশিক আমলে যে “বর্ণবাদী ইতিহাস” রচিত হয়েছে তা- ই আজও আমাদের কাছে নমস্য। তাই ইতিহাস সচেতন করে তোলার ব্যাপারটা স্বাভাবিক। এছাড়াও হাল আমলে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো শঙ্করদেবের জন্মস্থানেই আজ তাঁর তত্ত্বকে লোকেরা আমলে না নিয়ে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের হাড়িকাঠে মাথা গলাচ্ছে। এই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের (হিন্দুত্ববাদের) ভিত্তি হচ্ছে বর্ণবাদ, জাতপাত, লিঙ্গবাদ ও শোষণবাদ। শঙ্করদেব সারাজীবন এগুলোর বিরুদ্ধে লড়েছেন। কিন্তু আজ যখন তাঁর জন্মস্থানে এগুলো ফিরে এসেছে তখন শঙ্করদেবকে নতুন করে পাঠ করার তাগিদ অনুভব করা যাচ্ছে। শঙ্করদেবের লড়াই বৃহৎ বাঙলার মজলুম জনগণের লড়াই। মজলুম জনতার লড়াইকে আরও অগ্রসর করার জন্য শঙ্করদেব পাঠ করতে চান অনেকে।যারা শঙ্করদেব পাঠে আগ্রহী তাদের বড় সংকট হচ্ছে কিভাবে বা কোন কোন বিষয়কে সামনে রেখে শঙ্করদেব পাঠ করতে হয় তা তারা জানেন না। সেই সংকট কিঞ্চিৎ মোকাবেলার জন্যই এই আলাপের সূত্রপাত।

তান্ত্রিক তত্ত্ববিচার যখন শেষাবধি কামচর্চাকেন্দ্রিক সাধনায় পরিণত হলো এবং ভুত- প্রেত-যক্ষ-গ্রহ- নক্ষত্রের চাপে যখন সাধারণ জনগণের জীবনকে অতিষ্ঠ করে করে তুলল তখন আবির্ভাব হয়েছিল শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের। তিনি এসব কঠিন /জনবিচ্ছিন্ন আচার ফেলে দিয়ে সহজ ও সরল আচার নিয়ে এলেন। তত্ত্ববিচারকে কামচর্চার কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে রসতত্ত্বের জমিনের উপর দাঁড় করালেন।দূরীভূত করলেন প্রেত- যক্ষ – পিশাচের প্রভাব।পরমের সাথে জীবের সম্পর্ককে বুঝতে তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁর ভাবচর্চার রস ছিল দাস্যরস। ভক্তি আন্দোলনের বিকাশে দাস্যরসের গুরুত্ব উপলব্ধি করার জরুরী। পরম/ব্রহ্ম/বিষ্ণু হচ্ছেন জগতের কর্তা। তিনিই সবকিছুর পালন করেন।সেই কর্তা আছেন সর্বত্র। তাঁকে আলাদা করে সেবা করবার কিছুই নেই।তিনি নিজেই সেবা নেন। নেন মানুষের হৃদয় থেকে। মানুষের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভক্তি জাগলেই তাঁর সেবা করা হয়। তাঁর প্রতি ভক্তি জাগাবার উপায় হচ্ছে জীবজগতের সেবা/ সৎকার/ পালন।পরমের সবচেয়ে অগ্রসর জীব হচ্ছে মানুষ। এই অগ্রসরতার কারণ হচ্ছে মানুষ হরির প্রতিনিধি হিসেবে জগতের প্রতিপালন করতে পারে।

মানুষই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারে, করতে পারে পুনরুৎপাদন। মানুষ যদি পরমকে পেতে চায় তাহলে মনের মধ্যে পরমের হাজিরি চাই। নিজস্ব কোনো কর্তাসত্তা তার মধ্যে থাকতে পারবেনা। দয়ালরূপে যে কর্তা আছেন তাকেই মানতে হবে। নিজেকে মনে করতে হবে দাস মাত্র। জগতের সবই যেহেতু পরমের মুখাপেক্ষী তাই জগতের কেউই কর্তা নয়, অন্যের উপর মালিকের মত ব্যবহারের অধিকার নেই, জীব হিসেবে সবাই সমান।তাছাড়া সকল প্রকার অন্যায় – অবিচার-শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হবে। কারণ জগতের বা প্রাণীজগৎ এর সৎকারের সাথে এই অন্যায়ের বিরোধিতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।এটাই হচ্ছে শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের দাস্যভাবের মৌলিক জায়গা। তাঁর এই বয়ানটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা সহজেই অনুমান করি। যেকোনো প্রকার অন্যায় – অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই হোক, যোকোন প্রকার জাতীয়তাবাদবিরোধী
লড়াই হোক কিংবা হোক বুর্জোয়া মালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সকল ক্ষেত্রেই বয়ানটি আমাদের বিপ্লবী প্রণোদনা দেয়।

“সেই চণ্ডালই শ্রেষ্ঠ যাঁর জিহবাগ্রে হরিনাম বিরাজ করে। তিনি সমস্ত তীর্থে স্নান, তপ, হোম ও দানের ফল প্রাপ্ত হন”
-শ্রীমন্ত শঙ্করদেব
“সব আক্রোশ ত্যাগ করে শয়নে ও ভোজনে সর্বদাই হরির নাম উচ্চারণ করো।এই নাম নেবার দেশ, কাল বা অন্য নিয়ম নেই।অশৌচ অবস্থাতেও এই নাম স্মরণে কোনো দোষ নেই। হরি এই দুই অক্ষর যার জিহবাগ্রে থাকে, তার গঙ্গা, গয়া, কাশী বা প্রয়াগ তীর্থে যাবার প্রয়োজন নেই। ”
-শ্রীমন্ত শঙ্করদেব।

আমরা শঙ্করদেবের দুটি উদ্ধৃতি থেকে তাঁর ভাবচর্চার কার্যকারণ অনেকিখানি আন্দাজ করতে পারি।তিনি ধর্মাচরণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।পূর্বেকার ব্যয়সাধ্য ও উচ্চবর্ণকেন্দ্রীক ধর্মাচরণ খারিজ করে দিয়ে সর্বসাধারণ এর ধর্মাচরণ নির্মাণ করেছেন।যে ধর্মাচরণ মানুষ থেকে বহু দূরে কোন তীর্থে, সংস্কৃত পুঁথিতে বা কোনো সামন্তপ্রভুর প্রতিষ্ঠা করা মন্দিরে বাস করতে, যে ধর্মাচরণ মানুষে মানুষে বিভেদের দেয়াল তৈরি করেছিল তাকে তিনি উৎখাত করলেন। শঙ্করদেব প্রবর্তিত নব- বৈষ্ণব আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। তিনি অন্যান্য গুরুদের মত “নিরামিষ আহার”- এ বেশি গুরুত্ব দেননি। ব্যাপারটা কতটা বৈপ্লবিক ছিল আমরা আজও বিভিন্ন মঠে – মন্দিরে গেলে টের পাই। তাঁর এই কাজটি প্রমাণ করে যে তিনি জনতার অংশগ্রহণ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে কতটা বিশ্বাসী ছিলেন।কারণ তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে যাদের শ্রমের সাথে সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই (যেমন : সাধু, সামন্ত প্রভু ইত্যাদি) তারা নিরামিষ খেতেই পারে। কিন্তু যারা সরাসরি শ্রমের সাথে যুক্ত তাদের আমিষ খেতেই হবে। তাই উচ্চবর্ণের এসব উন্নাসিক প্রবৃত্তি তিনি ঝেটিয়ে বিদায় করে দিলেন।

এক্ষেত্রে বুদ্ধের শিক্ষা তাঁর কাজে লেগেছিল বৈকি। বুদ্ধ যেমন উন্নাসিক প্রবৃত্তি বাদ দিয়ে আদর্শ প্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন শঙ্করদেবের মাঝেও আমরা তা দেখতে পাই। শঙ্করদেব সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিয়ে এলেন নামের ভজনা। এই নামের ভজনা করার জন্য তথাকথিত সদাচারী, উচ্চবর্ণ, যে সংস্কৃত শাস্ত্র নারী ও শূদ্রদের পড়তে দেয়া হতনা সেই শাস্ত্রে পারঙ্গম ইত্যাদি হবার দরকার নেই।ভিটে- মাটি বন্ধক দিয়ে তীর্থভ্রমণ, নিজের ধনসম্পত্তি অযথা মন্দিরে বা ব্রাহ্মণকে দানের প্রয়োজন নেই এরকম একটা ধর্মাচরণ প্রবর্তন করাটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় মাপের কাজ।তার চেয়ে বড় কথা সাধন- ভজন থেকে নারী- শূদ্রকে আলাদা না করা বরং যুক্ত করা কি শক্ত কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।নামের ভজনা চক্র-মণ্ডল-গ্রহ- নক্ষত্র-কুম্ভক-রেচকের মাঝে আটকে থাকেনি। নামের ভজনার সারকথা হল নাম করার মধ্যদিয়ে হরিতে মন স্থির করা।জাগতিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে নয় বরং কাজের মধ্যে থেকেই সর্বদা হরিকে স্মরণ করা বা ডাকাই নামের ভজনার শিক্ষা। হরি আছে এই জগতেই। এই জগতের বাইরে তালাশ করলে হরিকে পাওয়া যাবেনা। এরদ্বারা আমরা বুঝতে পারি,ইহলৌকিক জগৎ ও পারলৌকিক জগতের ব্যবধান সম্পূর্ণ খারিজ না করে দিলেও নামের ভজনার মাধ্যমে শঙ্করদেব এই ব্যবধান অনেক কমিয়ে এনেছিলেন।

শঙ্করদেবের সবচেয়ে বড় অবদানের একটি হচ্ছে নিজভাষায় শাস্ত্র রচনা। যে সংস্কৃত শাস্ত্র নারী-শূদ্রের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, জ্ঞানচর্চায় বাধাপ্রদান করেছে তাকে তিনি মোটামুটি বিদায় করে শান্ত হয়েছেন। কেবল এসব শাস্ত্র থেকে কিছুকিছু বিষয় গ্রহণ করে নিজের মত করে শাস্ত্রের বয়ান নির্মাণ করেছেন।এরদ্বারা তিনি যেমন ভাষিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী লড়াই শুরু করেছিলেন তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছিলেন তীব্র আলোড়ন। বৃহৎ বাঙলার রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসে এর অবদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণ্যবাদ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কি মৌলিক একটি তৎপরতা শঙ্করদেব চালালেন তা আজ আমরা হয়ত অনুধাবন করতে পারবনা। কিন্তু আজ থেকে ৫০০/৬০০ বছর আগেই পরিস্থিতি নিয়ে আমরা যদি চিন্তা করি তাহলে হয়তবা বুঝতে সক্ষম হব।

“হৃদয়ে তাঁর চরণ চিন্তা করবে। তিনি সর্বভূতে বিরাজমান। এইকথা জেনে সমস্ত প্রাণীকে সৎকার করলে তবেই কৃষ্ণের প্রতি তোমার আসক্তি জন্মাবে হরিসেবায় কোনো প্রয়াসের দরকার নেই।তিনি স্বয়ং হৃদয়ে বাস করেন।তিনি স্বয়ং সেবা গ্রহণ করেন। কৃপাময় কৃষ্ণ জীবের সাক্ষী -স্বরূপ। দুরাশয়েরা তাঁকে ছেড়ে সামান্য দেব-দেবীকে সেবা করে।… ভক্তিমার্গে দেব,দ্বিজ ও ঋষি হবার প্রয়োজন নেই।তপ,জপ,যজ্ঞ ও দানাদি সবই বিড়ম্বনা মাত্র। কেবল শুদ্ধ ভক্তিতেই নারায়ণ সন্তুষ্ট হন।স্ত্রী, যক্ষ, রক্ষ, শূদ্র ও ব্রজবাসীরা, এমনকি পশুপাখিও শুধু কৃষ্ণকে ভজনা করেই বিষ্ণুময় হয়েছেন।”
-শ্রীমন্ত শঙ্করদেব

আমরা এই কথাটি দ্বারা শঙ্করদেব এর মতবাদ সম্পর্কে অনেকটা স্বচ্ছ ধারণার অধিকারী হতে পারি।বিশেষত দ্বিতীয় অংশের দ্যোতনা ভালই অনুভব করতে পারছি। শুধু মানুষ পর্যায়ে তাঁর চিন্তাকে তিনি সীমাবদ্ধ না রেখে একেবারে পশুপাখির বিষ্ণুময় হওয়া নিয়ে তিনি মতামত দিয়েছেন।এটা নিয়ে তর্ক হতেই পারে।আমরা হাজারটা সমালোচনা করতে পারি তবে এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। আমাদের ভাব চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে এটি। তবে কিঞ্চিৎ গোলে পড়তে হয় প্রথমদিককার কথা নিয়ে। সেই গোল নিরসনের জন্য আমাদের মনে রাখতে হবে শঙ্করদেবের মতবাদকে একশরণীয়া ধর্ম বলে।কারণ এখানে শুধু বিষ্ণুর স্মরণ নেবার কথা আছে।এখানে আমরা মাধ্বাচার্যের শুদ্ধদ্বৈত মতের আভাস পাই। কারণ মাধ্ব মতের মতই এখানেও : ১) সগুণ ব্রহ্ম আকারে বিষ্ণু স্বীকৃত ও ২) জগতের সত্যতা স্বীকৃত।

ফলে শঙ্করদেব তাঁর বয়ান নির্মানে মাধ্ব মতের পর্যালোচনা করে নিয়েছিলেন। এটা তাঁর দূরদৃষ্টি। কারণ এর দ্বারা মায়াবাদীদের প্রতিহত করা খুবই সহজ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া নির্গুণ ব্রহ্মের স্থলে সগুণ ব্রহ্মের আগমন ঘটছে। কারণ ভক্তিবাদ এর ভিত্তি তৈরির জন্য সগুণ ব্রহ্মের খুবই প্রয়োজন ছিল।তাছাড়া বহুদেবতার বদলে এক দেবতায় বিশ্বাস আনায়নের দ্বারা জনতাকে কাছে টানা গেছে ও ধর্মীয় কঠিনতা থেকে মুক্তি দেয়া গেছে। প্রশ্ন আসতে পারে এধরনের কাজ ব্রাহ্ম সমাজ করে সফল হলনা কেন? প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। এই দুটো জায়গায়তো তারাও ছিলেন। এর বড় কারণ ছিল এই যে শঙ্করদেবের মূল ভিত্তি ছিল ভক্তি আন্দোলন তথা মানুষের মুক্তি। কিন্তু ব্রাহ্ম সমাজের ভিত্তি ছিল খ্রীষ্টিয় দর্শনের মত একটা মত তৈরি করে প্রচার করা। আর শঙ্করদেব নিয়ে যখন পাঠ হবে তখন কিছু বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে:
১) শঙ্করদেব আসামে কৃষিবিপ্লব করেছিলেন। তিনি সেচ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন,লাঙলের চাষকে বিস্তৃত করেছিলেন। তাছাড়া সেটা করলেন সমবায় পন্থায়। অর্থাৎ সমবায় কৃষিকর্মের প্রবর্তন করলেন।
২) আসামের লোকেদের বলা হত দানব, রাক্ষস ইত্যাদি। ফলে তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করা হত।শঙ্করদেব এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আসামের ইতিহাস পর্যালোচনা করে নতুন ধরনের সাহিত্য – শিল্প – সংস্কৃতি প্রবর্তন করলেন। তিনি এসব পরিচয়হীন মানুষকে নতুন পরিচয় দিলেন। শঙ্করদেব পাঠের ক্ষেত্রে এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলেই আমরা তাঁর কাজের তাৎপর্য বুঝতে সক্ষম হব।

শেয়ার করুন
  • 75
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!