সুত্রপাত / নারী / ‘’মা’’ শব্দটার সাথে সবসময় দুঃখি ট্যাগ কেন?

‘’মা’’ শব্দটার সাথে সবসময় দুঃখি ট্যাগ কেন?

ইসলাম ধর্ম মতে,সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় যদি মায়ের মৃত্যু হয় তা শহীদি মৃত্যু,সে বিনা বিচারে জান্নাত পায় ।
কিন্তু মা’টা ভাবে আমি মরলে বাবুটার কি হবে? বাবুটার কথা ভাবলে তার কাছে স্বর্গ ও তুচ্ছ মনে হয় !

আচ্ছা মাকে নিয়ে কবিতা,গান সবখানেই মাকে দুঃখী দেখানো হয় কেন বা আমাকদের মায়েরা সবসময় দুঃখীই বা হন কেন? তার কারন কি আমরা কেউ খুঁজে দেখি? নাকি এটাকে টেইকেন ফর গ্রান্টেড করে নেই? ভাবি এটাই স্বাভাবিক?

সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য মাকে সেই তের বছর বয়স থেকেই সহ্য করতে হয় প্রচুর শারিরিক কষ্ট। সেই ভবিষ্যৎ মায়েদের স্বাস্থ নিয়ে আমরা কতটুকু সচেতন ?

অনেক শিশুই দুর্বল স্বাস্থ্য ,সল্প মেধা, দৃষ্ট শক্তিতে সমস্যা ইত্যাদিতে ভোগে গর্ভাবস্থায় মায়ের মানুষিক অশান্তির কারনে, প্রতিবন্ধী হওয়ার কথা নাহয় বাদই দিলাম।বর্তমানে মায়ের শারিরিক ব্যপারে খেয়াল রাখা হলেও মানুষিক স্বাস্থ্যর ব্যপারে আমারা এখনো উদাসীন।

সরকারী ভাবে মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুযোগ সুবিধা পেলেও বেসরকারি চাকরীতে তার অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত মায়েরা।

কর্মজীবী মায়েদের এত দুর্দশা থাকতো না, যদি না কর্পোরেট প্রভূরা তাদের প্রতিষ্ঠানের মায়েদের শিশুদের জন্য ছোট্ট করে ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রাখতো।

প্রথম অবস্থায় প্রেগনেন্ট নারীকে দেখলেও বোঝা যায় না, আর সে তখন রিস্কেও থাকে বেশি । অফিস যাওয়া আসায় বেশির ভাগের বাসেই চড়তে হয়। সেসব বিশেষ অবস্থার কথা বিবেচনায় আনলে আমি নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের পক্ষে।

প্রেগন্যান্সির সময় প্রয়োজনয়ীয় হরমোন ১০০ – ১০০০ গুন (100- 10000 fold decrease) কমে যাওয়া এবং MAO – A হরমোনের হঠাত বেড়ে যাওয়া যা ব্রেইন সেলে বিষন্নতা উতপন্নকারী হরমোন বাড়িয়ে দেয় ।’প্রসব পরব্ররতীকালীন বিষন্নতা’ বাচ্চা জন্মের দুই বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে।
কারণ ছাড়া মন খারাপ হয় , কারণ ছাড়াই বিরক্তি লাগে , মেজাজ খিটখিটে থাকে , বাচ্চা ও বাচ্চার যত্ন নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন হয়, নিজের উপরে নিজের অসন্তোস , নিজের ক্যারিয়ার + নিজের রূপ সবকিছু নিয়ে হিনমন্যতায় ভোগা, নিজের জীবনের প্রতি মায়া চলে যাওয়া এসব সমস্যা হয়।
এর প্রতিকারে বাচ্চার বাবারা সদ্য মায়ের প্রতি রাখতে হবে বিশেষ খেয়াল। শুধু মিস্টি ব্যাবহার , সহানুভূতীপূর্ণ কথা ও ব্যাবহার, কাছে কোথাও ঘুরে আসা, রোমান্টিকতা এসবই যথেষ্ট এটা কাটিয়ে উঠতে।

নেপোলিয়ন বলেছেন,” একজন বাবার সন্ততানকে দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে তার মাকে ভালবাসা।”
জনম দুঃখিনী মা, কথাটা প্রচলিত থাকতো না যদিনা বাবারা মায়েদের প্রতি আরো একটু সহানুভূতিশীল হতেন।

মায়েরা সবসময় নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান।মায়ের প্রিয় খাবার কি এটা কয়জন জানি? এদিকে চল্লিশের পরেই মায়েদের ক্যলশিয়ামের ঘারতি জনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমন হাড্ডি ক্ষয়। ত্রিশের পর থেকে প্রতিটি মা যেন প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খান তা নিশ্চিত করলে তা প্রতিকার সম্ভব। মায়াদের কাছেতো আমরা অনেক আবদারই করি,অনেক জেদ করি। তার সুস্থতার জন্য তাকে প্রতিদিন স্বাস্থসম্মত খারাব খাওয়ানোর জেদটা আমরা করতেই পারি।

আমরা মাকে শুধু ত্যগের মূর্ত প্রতিক হিসেবেই দেখি, আমাদেরও যে মায়ের জন্য কিছু করার আছে তা ভাবি না। ছেলেরা মায়ের প্রতি দায়িত্ব বলতে বউকে মায়ের কথা শুনে চলতে বলা পর্যন্ত বোঝে। অথচ নিজে যে সারাজীবন মাকে কত জালাইল তার হিসাব নাই।আর মেয়েরা নিজে মা হওয়ার পর বুঝে মা কি জিনিস,তার আগে না।

মা দিবসের কথা উঠলে আমাদের মাথায় শুধু বয়স্ক ইমেজ আসে কেন আর ওল্ড হোমের কথাই আসে কেন?
ছোট বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি রাফ বিহেভ করে মায়ের সাথে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তেমন সাহস পায় না। কেন জানেন, কারন সে ঘরের অন্যদের (বাবা, দাদা-দাদী, চাচা-ফুফি) তাকে তেমন গুরুত্ব দিতে দেখে না, সে দেখে মা তাদের জন্য শুধু করেই যায় আর পান থেকে চুন খসলেই তাদের মুখ গোমড়া।তাই সেও এটাকে নরমাল মনে করে।

ছোটদের বইয়ে মাকে ভালবাসা সম্পর্কিত রচনা গুলিতে শুধু মা কে নিয়ে ভারী ভারী কথাই লেখা থাকে। লেখা থাকে আমাদের অসুখ করলে মায়ের রাত জাগার কথা, আমাদের মায়ের জন্য কি করা উচিত তা তেমন একটা লেখা থাকে না।লেখা থাকে না পরিবারে মায়ের প্রতি অন্যায় হলে প্রতিবাদের কথা।মাকে ভালোবেসে মায়ের কাজে সাহায্য করার কথা লেখা থাকে না।মায়ের যাতে কস্ট না হয় এর জন্য নিজের কাজ নিজে করার কথা লেখা থাকে না। এক কথায় লেখা থাকে মাকে যেন কষ্ট না দেয়, এদিকে মায়েদের কষ্টের রঙ গুলো কেমন তা খোঁজার চেষ্টা করার সময় কই আমাদের?

এভাবেই ভাল থাকে না মায়েরা। গানে, কবিতায় তাদের কষ্টের করুণ শৈল্পিক বর্ণণা করি আমরা। তাদের ভাল রাখার উপায় খুঁজি কজন?

লেখক- তরুন গল্পকার ও প্রাবন্ধিক
শিক্ষার্থীঃ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।ইসলাম ধর্ম মতে,সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় যদি মায়ের মৃত্যু হয় তা শহীদি মৃত্যু,সে বিনা বিচারে জান্নাত পায় ।
কিন্তু মা’টা ভাবে আমি মরলে বাবুটার কি হবে? বাবুটার কথা ভাবলে তার কাছে স্বর্গ ও তুচ্ছ মনে হয় !

আচ্ছা মাকে নিয়ে কবিতা,গান সবখানেই মাকে দুঃখী দেখানো হয় কেন বা আমাকদের মায়েরা সবসময় দুঃখীই বা হন কেন? তার কারন কি আমরা কেউ খুঁজে দেখি? নাকি এটাকে টেইকেন ফর গ্রান্টেড করে নেই? ভাবি এটাই স্বাভাবিক?

সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য মাকে সেই তের বছর বয়স থেকেই সহ্য করতে হয় প্রচুর শারিরিক কষ্ট। সেই ভবিষ্যৎ মায়েদের স্বাস্থ নিয়ে আমরা কতটুকু সচেতন ?

অনেক শিশুই দুর্বল স্বাস্থ্য ,সল্প মেধা, দৃষ্ট শক্তিতে সমস্যা ইত্যাদিতে ভোগে গর্ভাবস্থায় মায়ের মানুষিক অশান্তির কারনে, প্রতিবন্ধী হওয়ার কথা নাহয় বাদই দিলাম।বর্তমানে মায়ের শারিরিক ব্যপারে খেয়াল রাখা হলেও মানুষিক স্বাস্থ্যর ব্যপারে আমারা এখনো উদাসীন।

সরকারী ভাবে মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুযোগ সুবিধা পেলেও বেসরকারি চাকরীতে তার অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত মায়েরা।

কর্মজীবী মায়েদের এত দুর্দশা থাকতো না, যদি না কর্পোরেট প্রভূরা তাদের প্রতিষ্ঠানের মায়েদের শিশুদের জন্য ছোট্ট করে ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা রাখতো।

প্রথম অবস্থায় প্রেগনেন্ট নারীকে দেখলেও বোঝা যায় না, আর সে তখন রিস্কেও থাকে বেশি । অফিস যাওয়া আসায় বেশির ভাগের বাসেই চড়তে হয়। সেসব বিশেষ অবস্থার কথা বিবেচনায় আনলে আমি নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের পক্ষে।

প্রেগন্যান্সির সময় প্রয়োজনয়ীয় হরমোন ১০০ – ১০০০ গুন (100- 10000 fold decrease) কমে যাওয়া এবং MAO – A হরমোনের হঠাত বেড়ে যাওয়া যা ব্রেইন সেলে বিষন্নতা উতপন্নকারী হরমোন বাড়িয়ে দেয় ।’প্রসব পরব্ররতীকালীন বিষন্নতা’ বাচ্চা জন্মের দুই বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে।
কারণ ছাড়া মন খারাপ হয় , কারণ ছাড়াই বিরক্তি লাগে , মেজাজ খিটখিটে থাকে , বাচ্চা ও বাচ্চার যত্ন নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন হয়, নিজের উপরে নিজের অসন্তোস , নিজের ক্যারিয়ার + নিজের রূপ সবকিছু নিয়ে হিনমন্যতায় ভোগা, নিজের জীবনের প্রতি মায়া চলে যাওয়া এসব সমস্যা হয়।
এর প্রতিকারে বাচ্চার বাবারা সদ্য মায়ের প্রতি রাখতে হবে বিশেষ খেয়াল। শুধু মিস্টি ব্যাবহার , সহানুভূতীপূর্ণ কথা ও ব্যাবহার, কাছে কোথাও ঘুরে আসা, রোমান্টিকতা এসবই যথেষ্ট এটা কাটিয়ে উঠতে।

নেপোলিয়ন বলেছেন,” একজন বাবার সন্ততানকে দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে তার মাকে ভালবাসা।”
জনম দুঃখিনী মা, কথাটা প্রচলিত থাকতো না যদিনা বাবারা মায়েদের প্রতি আরো একটু সহানুভূতিশীল হতেন।

মায়েরা সবসময় নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান।মায়ের প্রিয় খাবার কি এটা কয়জন জানি? এদিকে চল্লিশের পরেই মায়েদের ক্যলশিয়ামের ঘারতি জনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমন হাড্ডি ক্ষয়। ত্রিশের পর থেকে প্রতিটি মা যেন প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খান তা নিশ্চিত করলে তা প্রতিকার সম্ভব। মায়াদের কাছেতো আমরা অনেক আবদারই করি,অনেক জেদ করি। তার সুস্থতার জন্য তাকে প্রতিদিন স্বাস্থসম্মত খারাব খাওয়ানোর জেদটা আমরা করতেই পারি।

আমরা মাকে শুধু ত্যগের মূর্ত প্রতিক হিসেবেই দেখি, আমাদেরও যে মায়ের জন্য কিছু করার আছে তা ভাবি না। ছেলেরা মায়ের প্রতি দায়িত্ব বলতে বউকে মায়ের কথা শুনে চলতে বলা পর্যন্ত বোঝে। অথচ নিজে যে সারাজীবন মাকে কত জালাইল তার হিসাব নাই।আর মেয়েরা নিজে মা হওয়ার পর বুঝে মা কি জিনিস,তার আগে না।

মা দিবসের কথা উঠলে আমাদের মাথায় শুধু বয়স্ক ইমেজ আসে কেন আর ওল্ড হোমের কথাই আসে কেন?
ছোট বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি রাফ বিহেভ করে মায়ের সাথে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তেমন সাহস পায় না। কেন জানেন, কারন সে ঘরের অন্যদের (বাবা, দাদা-দাদী, চাচা-ফুফি) তাকে তেমন গুরুত্ব দিতে দেখে না, সে দেখে মা তাদের জন্য শুধু করেই যায় আর পান থেকে চুন খসলেই তাদের মুখ গোমড়া।তাই সেও এটাকে নরমাল মনে করে।

ছোটদের বইয়ে মাকে ভালবাসা সম্পর্কিত রচনা গুলিতে শুধু মা কে নিয়ে ভারী ভারী কথাই লেখা থাকে। লেখা থাকে আমাদের অসুখ করলে মায়ের রাত জাগার কথা, আমাদের মায়ের জন্য কি করা উচিত তা তেমন একটা লেখা থাকে না।লেখা থাকে না পরিবারে মায়ের প্রতি অন্যায় হলে প্রতিবাদের কথা।মাকে ভালোবেসে মায়ের কাজে সাহায্য করার কথা লেখা থাকে না।মায়ের যাতে কস্ট না হয় এর জন্য নিজের কাজ নিজে করার কথা লেখা থাকে না। এক কথায় লেখা থাকে মাকে যেন কষ্ট না দেয়, এদিকে মায়েদের কষ্টের রঙ গুলো কেমন তা খোঁজার চেষ্টা করার সময় কই আমাদের?

এভাবেই ভাল থাকে না মায়েরা। গানে, কবিতায় তাদের কষ্টের করুণ শৈল্পিক বর্ণণা করি আমরা। তাদের ভাল রাখার উপায় খুঁজি কজন?

শেয়ার করুন
  • 103
    Shares

একটি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!