সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / চিন্তা ও দর্শন / বিদ্যাসাগরের “নতুন মানুষ”

বিদ্যাসাগরের “নতুন মানুষ”

-আর্য সারথী
“এদেশের উদ্ধার হইতে বহু বিলম্ব আছে।পুরাতন প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি বিশিষ্ট মানুষের চাষ উঠাইয়া দিয়া সাত পুরুমাটি তুলিয়া ফেলিয়া নতুন মানুষের চাষ করিতে পারিলে, তবে এদেশের ভাল হয়।”
-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বিদ্যাসাগর মহাশয়ের এই কথাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই কথাটি দ্বারা আমরা তাঁর চিন্তাধারার বা মতামতের হদিশ করতে পারি। বস্তুত বিদ্যাসাগরের যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া কখনও আমরা অগ্রসর হতে পারবনা।তিনি যে জিজ্ঞাসা, যে তর্কসমূহ উত্থাপন করেছিলেন তার যথাযথ বোঝাপড়া আজও হয়নি বলে আমাদের এই অঞ্চলের বৈপ্লবিক প্রকল্পসমূহ বারংবার ব্যর্থ হচ্ছে।এই অঞ্চলের বৈপ্লবিক প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নিতে সাধক, কবি, ভাবুক, বুদ্ধিজীবী, কবি সবারই যথার্থ পর্যালোচনা চাই।সেই যুক্তিতে বিদ্যাসাগর এর সাথে বোঝাপড়া করতেই হবে।কিন্তু তাঁকে পর্যালোচনা করার আরও একটি কারণ আছে যে বিষয়ে আমরা সচেতন নই।বিদ্যাসাগর জন্মেছেন ঔপনিবেশিক আমলের শুরুর দিকে।পুরাতন ব্যবস্থার কবর রচনা করে তার উপরে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নবাগত শাসকদের পত্তন করা ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার উপযোগী বিভিন্ন “উন্নতি কর্ম” শুরু হয়েছে, শুরু হয়েছে তথাকথিত আধুনিক জ্ঞানচর্চা। কেন তথাকথিত? কারণ সেই আধুনিক জ্ঞানচর্চা ছিল পুরোপুরি ইউরোপকেন্দ্রীয় এবং এদেশের ভৌম ভাবনা হতে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন। সেই আধুনিকতার চর্চাকারীরা তখন বুঝে গিয়েছিলেন তারা “অসভ্য” ও শাসকেরা “সভ্য”। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে অগ্রসর মানুষেরা (যেমন:রাজা রামমোহন রায়) ভাবতেন ইংরেজ ছাড়া এদেশে সভ্যতা আনায়ন অসম্ভব, “বাতি জ্বালানো ” অসম্ভব। সেই টানাপড়েন এর যুগে বিদ্যাসাগর এর বেড়ে উঠা। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে বিদ্যাসাগর কি অভাবনীয় কাজটি করেছিলেন বা কি নতুন বয়ান হাজির করেছিলেন তা বোঝা জরুরী। সকলে যখন সাম্য, ন্যায়, সভ্যতা, উদারতা এসব ধারণার নির্মাণ ও প্রচার ইউরোপীয় ধারণার আলোকে করছে সেই সময় বিদ্যাসাগর ইউরোপ থেকে ভারতে বা বাঙলায় ফিরে আসছেন বা ফিরে আসবার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন।এই ব্যাপারটা যদি আমরা এড়িয়ে যাই তাহলে আমরা কোনোদিন সমস্যার সমাধান করতে পারবনা।সেই কারণে বিদ্যাসাগর এর সাথে বোঝাপড়া জরুরী, দ্বিতীয় যে যুক্তির কথা বলেছি এটাই সেই যুক্তি।আমার কাছে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে আজ বিদ্যাসাগর এর একটি ধারণা নিয়ে কথা বলব।সেই ধারণাটা হচ্ছে “নতুন মানুষ”। আমরা বিদ্যাসাগর এর যে ফিরে আসবার কথাটি বলেছি তার সাথে এই ধারণাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শুরুতেই বিদ্যাসাগর এর “নতুন মানুষ” সম্পর্কিত বাণীটি উল্লেখ করে নিলাম।এবার প্রবেশ করব মূল আলোচনায়।
১.
এদেশের উদ্ধার বলতে কি বোঝাতে পারেন ঈশ্বরচন্দ্র তার কিছুটা আমরা আন্দাজ করতেই পারি। আমাদের প্রথম যা মাথায় আসবে তা হচ্ছে এদেশের মানুষের মধ্য থেকে কুসংস্কার, হিংসা, বিদ্বেষ দূর করা ও সাম্রাজ্যবাদ -উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি লাভ করা। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা বিদ্যাসাগর এই কথার মাধ্যমে দেশের বৃহদাংশ মজলুম জনগণের মুক্তির কথা বলছেন।আসলে বিদ্যাসাগর নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ না করার ফল এটা। তবে এই কথার সাথে অনেকে একমত পোষণ করবেন না।কারণ হিসেবে আমরা জানি, বিদ্যাসাগর ওই সময়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসেবে কৃষকশ্রেণীর অধিকারের জন্য বিশেষ কোনো কথা বলেননি।সে কারণে অনেকে তাঁকে কৃষকের শ্রেণীশত্রু হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।তৎকালীন উপনিবেশবাদী শাসকের হাতে গড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীর রকমসকম দেখলে “শ্রেণীশত্রু ” কথাটা উড়িয়ে দেবার জো থাকেনা। কিন্তু শ্রেণীগত টানাপোড়ন থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যাসাগর কৃষকের বা মজলুম জনগণের বিরোধী ছিলেন এটা বলা অনুচিত।
অন্ততপক্ষে আমরা যদি সিরিয়াসলি বিদ্যাসাগর পাঠ করি তাহলে আমরা তা বুঝতেই পারব।কারণ বিদ্যাসাগর এমন অনেক কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন যাতে স্পষ্ট বোঝা যায় বিদ্যাসাগর এর দেশের মুক্তি বা উন্নতি চাওয়াটা শ্রেণীনিরপেক্ষ নয়।সেখানে তিনি বলিষ্ঠভাবে দরিদ্র-বঞ্চিত-মজলুমের পক্ষ নিচ্ছেন।যাক সে বিষয়ে ভিন্ন একটি আলোচনা হবে সামনে। কারণ আমাদের পাওয়া এসব বাণী একটাও বিদ্যাসাগর এর লেখা কোনো বইয়ে নেই। মানুষ ভালবেসে শ্রুতির মত মনে রেখেছে। পরবর্তীকালে বিভিন্ন স্মারক গ্রন্থ ও জীবনীগ্রন্থে এগুলো সঙ্কলিত হয়েছে।তাই সে বিষয়ে আলাদা আলোচনার প্রয়াস থাকবে।
আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে বিদ্যাসাগর সাম্রাজ্যবাদ -উপনিবেশবাদ এর বিরোধী ছিলেন।তিনি কখনই বলেননি ইংরেজ হচ্ছে একমাত্র সভ্য এবং তারা ছাড়া কেউ এদেশে বাতি জ্বালাতে পারবেনা। বরং বিদ্যাসাগর ভিন্ন ধারার মানুষ ছিলেন।।তাঁর সময়ের উদারনৈতিকরা যখন ইউরোপকেন্দ্রীয় ধারণাকে গ্রহণ করে “আন্তর্জাতিকতাবাদ” এর ধারক বাহক হলেন তখন তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করছেন।তিনি সংস্কৃত শাস্ত্র ও ইউরোপীয় শাস্ত্র দুইই পড়েছেন ভালভাবে। দুই জায়গা থেকে অনেককিছু নিয়েছেন।কিন্তু অন্ধভাবে ইউরোপকেন্দ্রীক ছিলেন না। তাকে সঙ্কীর্ণ অর্থে আমরা জাতীয়তাবাদী বলতে পারি।সঙ্কীর্ণভাবে আমরা বলতে পারি বিদ্যাসাগর আন্তর্জাতিকতাবাদী হয়েও জাতীয়তাবাদী। তাই বিদ্যাসাগর শুধু এই বাণীতে নয় জীবনের বহুক্ষেত্রে যে উদ্ধার, মুক্তি এসব বুলি আওড়াতেন তার ভিত্তি ইংরেজ শাসনে ছিলনা ছিল স্বশাসনে। আর এই স্বশাসনের কেন্দ্রে ছিল মজলুম জনগণ।
২.
এবার আমরা আসব বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত “পুরাতন” বর্গটি নিয়ে।আমরা বুঝে নিতে পারি এখানে জীর্ণ, পরিত্যক্ত ও দীর্ঘপ্রচলিত জাতীয় অর্থই প্রয়োগ করতে হবে।কিন্তু যে মানুষটা ওই সময়ে বাংলা (+ভারত) -ইউরোপ-বাংলা (+ভারত) এরমত জ্ঞানতাত্ত্বিক যাত্রা চালাতে পারে সে পুরাতন মানেই অপরিত্যাজ্য এমন ধারণা নিশ্চই করবেনা।সত্যও তাই বিদ্যাসাগর তেমনটি করেনও নি।নাহলে পোষাকে, আচারে, বিশ্বাসে উপমহাদেশীয় ঐতিহ্যের প্রতি ভক্তিভাব রাখতে পারতেন না।যখন সবাই ইউরোপের মহত্ত্বের আফিম খাচ্ছিল তখন তিনি নেশামুক্ত থেকে ভৌম ভাবনার বা আত্মপরিচয় এর সন্ধান করেছেন।সেক্ষত্র
ে এই যে “পুরাতন” তার মর্ম বাঙলা অভিধানে কিংবা ব্যাকরণে নেই। মর্ম আছে অন্যকোনোখানে।যেহেতু এখানে পুরাতন মানে পরিত্যাজ্য এমন ধারণার কোন সম্ভাবনা নেই তাহলে বুঝে নিতে হবে শব্দটা নিরপেক্ষ, সরল নয়। এর একটা জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক পক্ষপাতিতা আছে বলিষ্ঠভাবে। আর বিদ্যাসাগরকে যারা পাঠ করেন তারা ভাল করেই জানেন তার মধ্যে “নিরপেক্ষতা ” নামক কোন জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থান ছিলনা, তিনি ১০০% পক্ষপাতিত্বমূলক ব্যক্তি ছিলেন। তবে সর্বমতের আলোচনা ও বোঝাপড়ার গণতান্ত্রিক মানসিকতা তার মধ্যে ছিল।তিনি চিন্তায়- মননে গণতান্ত্রিক ছিলেন।এই কথা নিতান্ত নান্দীপাঠ নয়। বরং বিদ্যাসাগর এর পক্ষপাতদুষ্ট পুরাতনকে বুঝতে এটা কাজে দেবে। সেটা কেমন? সেটা এমন যে পুরাতনকে যদি আমরা জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক থেকে বিচার করি তাহলে পাবো :
১)বিচার- বিবেচনা ছাড়াই হাজির থাকা জ্ঞান গ্রহণ করা এবং একেই চূড়ান্ত সত্য মনে করা।
২) ভিন্নমতকে খণ্ডন বা উচ্ছেদ করতে তাতে কালিমা লেপনের বা তার নামে বদনাম রটানোর কাজটি সুচারুরূপে করলেও তাকে ভালভাবে বুঝতে চেষ্টা না করা।
৩) তুলনামূলক জ্ঞানচর্চা না করে নিজেকে সত্যানুসন্ধান থেকে দূরে রাখা বা নিজস্ব কোনো দৃষ্টিকোণ তৈরি না করা।
৪) হাজির থাকা/ক্ষমতাকেন্দ্রিক পদ্ধতির মুখোমুখি দাঁড়াতে না পারার দূর্বলতা এবং
৫) আরও উন্নত ও কার্যকর পদ্ধতির নির্মাণ না করা।
এবার পুরাতনকে যদি আমরা আর্থ- সামাজিক তথা ঐতিহাসিকতার নিরিখে বিচার করি তবে পাবো বর্ণবাদ, লিঙ্গবাদ, জাতপাত, ধর্মীয়সম্প্রদায়গত হিংসা, সর্বপ্রকার শোষণ এবং বঞ্চনা।
এগুলোই হচ্ছে বিদ্যাসাগর এর ” পুরাতন “। বিদ্যাসাগর নিয়ে আরও কয়েকটি আলোচনায় তা প্রমাণিত হবে।
৩.
এবার আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবেশ করার অধিকার লাভ করলাম।আমাদের আলোচনার শিরোনাম ছিল : বিদ্যাসাগরের “নতুন মানুষ”। সেক্ষেত্রে এই নতুন মানুষ ব্যাপারটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায়। কিন্তু সরাসরি কেন আমরা এই ক্যাটাগরি /প্রপঞ্চ/ বর্গ- তে প্রবেশ করলাম না তাও জানা জরুরী। মূলত এই প্রপঞ্চটির সাথে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে পূর্বের কথাগুলো। কারণ বিদ্যাসাগর কিভাবে বা কোন কোন নিরিখে তাঁর ধারণার নির্মাণ করছেন তা বোঝা আবশ্যক।এর সাথে তৎকালীন আধুনিক চিন্তা এবং এদেশের ভৌম ভাবনা দুটোরই যোগ আছে। তারচেয়েও বড় সত্য এটা যে, এই দুই আঞ্চলিক চিন্তার দ্বান্দ্বিকতাকে জারি রেখেই তাঁর ধারণার বিকাশ ঘটিয়েছেন।তিনি তাঁর ধারণাটিতে দ্বন্দ্বকে বিকাশমান অবস্থায় রেখে আগামীদিনের কর্তব্যকর্মের হদিশ দিয়েছেন। এটা অবশ্যই বৈপ্লবিক। কারণ তিনি উদারনৈতিক মানবতাবাদ এর কাছ থেকে “মানুষ” শব্দটি নিলেন। আবার তার আগে যখন নতুন কথাটি বসালেন তখনই করে দিলেন কাজের কাজ। নতুন ব্যাপরটাকে দাঁড় করিয়ে দিলেন ” পুরাতন ” এর বিপরীতে। আর এই কাজটিই ছিল তার ইউরোপকেন্দ্রীক চিন্তা থেকে ফিরে এসে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক পারম্পর্যের আলোকে নতুন করে জ্ঞানতত্ত্ব নির্মাণ যাতে ভারত ও ইউরোপ দুই পদ্ধতির কাছ থেকে গ্রহণ- বর্জন বিদ্যমান।আর নতুন মানুষ নামক প্রপঞ্চের সাথে সংযুক্ত হবার জন্য বা তাকে বুঝবার জন্য ” এদেশের উদ্ধার ” এর সাথে তাকে জুড়ে দিলেন।সকল কাজই বিদ্যাসাগর সজ্ঞানভাবে করেছিলেন একথা ভাবা হয়ত ঠিক নয়।তবে এই ব্যাপারগুলো তার মধ্যে উপসর্গ আকারে ছিল তাই অবচেতনের দ্বারা করতে পেরেছিলেন।
বিদ্যাসাগর এর” মানুষ “নামক ধারণার মূল দার্শনিক ভিত্তি মানবতাবাদ। কিন্তু যখনই তা নতুনের সাথে যুক্ত হয় তখন তিনি অবচেতনভাবে তার লালন করা “মানুষ ” ধারণা ও তৎকালীন আধুনিকতাকে চ্যালেঞ্জ করলেন।আমরা পূর্বে যে পুরাতন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি তার আলোকে নতুনকে বুঝতে হবে। নতুনকে যদি পুরাতনে বিপরীতে দাঁড় করাই তাহলে সেই নতুন শেষাবধি শ্রেণীদ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক শোষণে এসে থামে। সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত বিদ্যাসাগর এর মানুষও নিরপেক্ষ থাকেনা। শেষমেশ তা ক্ষমতাবানের পাহাড় বেয়ে নির্বল- অত্যাচারিতের সমতলে এসে থামে। তাই প্রচলিত মানবতাবাদ, উদারবাদ এর মত করে আর নতুন মানুষের তত্ত্ব হাজির করা চলেনা। বিদ্যাসাগর এর নতুন মানুষ কেবল আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ, মানবতাবাদী আকারে নিজেকে পরিচিত করে ক্ষান্ত হয়না। সে সর্বপ্রথম হয় সর্বপ্রকার শোষণ- বঞ্চনার বিরোধী, দ্বিতীয়ত সর্বমতের উত্তম পর্যালোচনাকারী এবং শেষত সত্যানুসন্ধানী যে তার সত্যের দ্বারা দুনিয়াকে বদলে দেবে।এই বদলের কাজে সে কারও মুখাপেক্ষী হবেনা, পিছপা হবেনা, সত্যপ্রতিষ্ঠাই তার লক্ষ্য হবে।সত্যের প্রসঙ্গ এত বলিষ্ঠভাবে আসছে এর কারণ হলো বিদ্যাসাগর আবার “সত্য” নামক বিষয়টাকে ভারতীয় ঋষিদের মত অখণ্ড, ন্যায্য, সমতাপূর্ণ ও কল্যাণকর হিসেবে দেখতেন।আমরা মার্ক্সবাদী বয়ানে বিদ্যাসাগরের নতুন মানুষকে ” বিপ্লবী” ও বলতে পারি।
৪.
বিদ্যাসাগর এই “নতুন মানুষ” এর প্রতিই ভরসা রাখছেন।বলছেন নতুন মানুষ চাষ করার কথা। যত কষ্টই হোক প্রয়োজনে সাত পুরু মাটি তুলে ফেলতে হলেও নতুন মানুষের চাষ করা থেকে বিরত হওয়া যাবেনা।এই নতুন মানুষই পারে বদল করতে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই নতুন মানুষের ব্যাপারটা কি শুধু এই উপমহাদেশ ( তৎকালীন ভারতবর্ষ) কেন্দ্রিক? এর উত্তর হচ্ছে না। কারণ বিদ্যাসাগর আরেক বিখ্যাত বাণীতে প্রত্যেক দেশে থাকা মানুষের কর্তব্যকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিব করেছেন।তাই শেষ পর্যন্ত নতুন মানুষের কাজ সারাবিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা পূর্বে সঙ্কীর্ণ অর্থে বিদ্যাসাগরকে আন্তর্জাতিকতাবাদী হয়েও জাতীয়তাবাদী নামক অভিধায় অভিহিত করেছি।বিদ্যাসাগর এর নতুন মানুষের তদ্রুপ বৈশিষ্ট্য থাকাই যুক্তিসঙ্গত।
তাই আমরা বলতে পারি বিদ্যাসাগর চাইতেন এই নতুন মানুষেরা প্রত্যেক দেশে জন্মাক ও দুনিয়া বদলে দিক।

শেয়ার করুন
  • 43
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *