বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন

মোর্শেদ হালিমঃ

১৯২৪ সালের শেষের দিকে বর্মার গোপন পার্টির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় “সারা বর্মা বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। নামে বাঙালী ছাত্র হলেও অবাঙালী ছাত্ররাও এর সদস্য হতে পারত।অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এই ছাত্র ইউনিয়ন তার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং বর্মার বাঙালী ছাত্র-ছাত্রীদের অতি প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়। সেই সময় বিপ্লবী ছাত্র কর্মীরা এই সংগঠনের সদস্য ছিল। এই সংগঠন বহু বিপ্লবী কর্মীর জন্ম দিয়েছে। রেঙুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেরা ছাত্র জ্যোতীশ যিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকটা স্বর্ণপদক পান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে ২৫০ টাকা করে পান তাও পার্টির ফাণ্ডে জমা দিতেন। বই কিনার টাকা ছিল না বলে অন্যের বই এনে হাতে লিখে তার কাজ চালাতেন। তারই একাগ্রতায় ও প্রচেষ্টায় বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়।

বাঙালী-অবাঙালী সমস্ত ছাত্রেরই তিনি ছিলেন প্রিয়। ধর্মে বৌদ্ধ হলেও ধর্মের গোঁড়ামি তাঁর ছিল না। পার্টির প্রতি তিনি ছিলেন সহনুভূতিশীল। পার্টির গোপন  মিটিং তাদের বাসায় হতো। হয় স্বাধীনতা নয়…মৃত্যু এই ছিল তাদের ইংরেজ বিরোধী  মূলমন্ত্র।বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন রেঙুন শহরে প্রতি বছর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি স্পোর্টস ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। উৎসব গুলোতে ছাত্র ইউনিয়ন নানা প্রকার গল্প ও প্রবন্ধ সহ তাদের বাৎসরিক রিপোর্ট ছাপিয়ে বের করত। রেঙুনের অনেক নামজাদা লোক তাদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকত। ছাত্র ইউনিয়ন লাইব্রেরী পরিচালনা করত। মাঝে মাঝে দূর পাল্লার হাঁটা ও সাঁতার প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করত। ছাত্রদের শরীরচর্চার জন্য স্কুলের বাহিরে ব্যায়াম কেন্দ্র ও তাদের মধ্যে তর্ক ও আলোচনা সভার ব্যবস্থা নিয়মিত করত বাঙালী ছাত্র ইউনিয়ন।

এছাড়াও রেঙুনে “বেঙলি একাডেমী” নামে যে হাইস্কুল ছিল তাতে বাংলা পড়ানো হতো কিন্তু বর্মী ভাষা শিখানো হতো না। গোপন দলের বাঙালী ছাত্রদের জোর দাবিতেও কর্তৃক বর্মী ভাষা শিখানো চালু করে না। ছাত্রদের আন্দোলন চলমান থাকে।

তথ্য : জীতেন ঘোষ।

শেয়ার করুন

ব্লগার আমার কলম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।