সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / মুক্তমত কলাম / ফিলিস্তিন-সিরিয়া ইস্যুতে অবশ্যই আমি মুছলমান

ফিলিস্তিন-সিরিয়া ইস্যুতে অবশ্যই আমি মুছলমান

তানভিরুল মিরাজ রিপন:

পৃথিবীর কোন তন্ত্রই আপনাকে আমাকে স্বাধীন করে দেওয়ার কথা বলবে না, বরং সকল দর্শন মতবাদ আপনাকে শত্রুর খুব কাছাকাছি রেখে দিবে। গোটা পৃথিবীর সকল সংকটকে পুঁজিবাদী সৃষ্ট হিসেবে মানতে হবে, এবং এই সংঘর্ষগুলোর পেছনে আগাগোড়া সাম্রাজ্যবাদ শক্তি জড়িয়ে আছে। কিন্তু ধর্ষন, শিশু হত্যা, যুদ্ধ বাধানোর পেছনে বারাক ওবামা সহ ট্রাম্প জড়িত। এখন কথা হলো তাদের বিচার করবে কে? বিচার হতে হবে না কিন্ত তাদের পতন হবে সাম্রাজ্যবাদ যে নির্মমতা আর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলে তারা বুঝতে পারছে তাদের শত্রু বলতে আর কেউ নেই কিন্তু গোটা বিশ্বই তাদের বিরুদ্ধে। কিছু শত্রু যুদ্ধে ধ্বংস হয় না আপনা আপনি ধ্বংস হয়।

পুঁজিবাদী আগ্রাসনের কারনে পৃথিবীর সকল যুদ্ধ চলছে এটা যেমন অসত্য নয়। পুঁজিবাদের আদম বোমা খ্যাত সৃষ্ট ধর্মই এসব সংকটকে প্রবল করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন চোলাই মদ খ্যাত ভূ-রাজনীতি সংকটের সমাধানে সেলাই না পড়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যেভাবে সউদি অারবকে সঙ্গে নিয়ে সুতো ছিড়ছে ঠিক তুরস্ক তার আধিপত্যতা বা খেলাফত মতবাদ ফেরত আনার জন্য এরদোয়ান গংরাও জড়িত। মানে কোন পক্ষই এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেনা। বরং চুক্তি ও স্বার্থ কষাকষি করছে। কেউ
ন্যাটো থেকে বের হয়ে আবার কেউ ন্যাটোকে সমর্থন করে।

কিন্তু এটাও বলা যাবে না, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়টাতে আল্লাহ বিশ্বাস করুন, যে ধর্মের অনুসারী আপনি হোন না কেনো এখানের বিষয়টা ভাবতে হবে মুছলমান হয়ে, সিরিয়া কিম্বা ইয়েমেন, ফিলিস্তিন কিম্বা লিবিয়া কোনটাতেই আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারা
যাবে না, এই সংকট মার্কসবাদের পর্যালোচনা দিয়েও সমাধান করা যাবে না। কারন দুই কট্টরপন্থীর যুদ্ধ, দুই ক্ষমতা লোভী যুদ্ধের আগে ভাবতে হবে ধর্মের যুদ্ধ চলছে। সমাধান হবে না! তবে ক্রমান্বয়ে পুঁজিবাদের আগ্রাসন বেড়ে গিয়ে সমাপ্তির পর্যায়ে পৌছুবে। তাছাড়া আযান, গজব এসব বিশ্বাসের গরমেও এসব থামবে না। কারন কট্টরপন্থী এয়াহুদির  সাথে কট্টরপন্থী মুছলমানের যুদ্ধ। আবার কুর্দীর সাথে আইএসের যুদ্ধ। মুছলমানের সাথে মুছলমানের যুদ্ধ। যতসংখ্যক জঙ্গি সংগঠন আছে তারাও খেলাফত চায়, খনিজ সম্পদ, তেল, এসব চায়। তুরস্কও চায় মধ্যপ্রাচ্য এবং পারস্যের খেলাফত চায়।

এখানে আমেরিকা বা ইজরায়েলের ভূমিকাটা হলো প্রাচীন বিষ জমানো প্রতিশোধগ্রহণের। আর ধর্মযুদ্ধটা হযরত উসমানের খেলাফতে সৃষ্ট। এয়াজিদ এবং হাসান ও হোসেনের যুদ্ধ। সেসব যুদ্ধের প্রতিবাদ করছেন টুইটার, ফেইসবুকের মাধ্যমে। কিন্তু সেসবের মর্মান্তিক দৃশ্যগুলোর বেশির ভাগই ডিলেট হচ্ছে। এবং এগুলোর কার্যকরি কোন ফল নেই। গণমাধ্যমের চরিত্র হয়ে গেছে পুরো বিপরীত।

যারা এই সংকট নিয়ে ভাবছেন তাদের সকলেরই মুছলমান দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে। কেনোনা ব্যাথা বোঝার জন্য আপনাকে মুছলমান সত্তাকে অনুভব করতে হবে। “ভালোবাসা এবং মৃত্যু খুব কাছাকাছি পরিবেশে বসবাস করে শুধু স্বার্থ ছেড়ে
অনুধাবন করলে হয়।”

লেখক: কলামিষ্ট।

শেয়ার করুন
  • 20
    Shares