সুত্রপাত / অন্যান্য / পাঁচটি কবিতা

পাঁচটি কবিতা

তুমি আমাকে একান্ত তোমার করে চাও

 

তুমি আমাকে একান্ত তোমার করে চাও?

আমি তোমার,

আমি শ্যামলীর-

শ্যামলীকে চিনলে না?

মেথরপট্টির শ্যামলী;

রোজ রাতে হাত বদল হওয়া ফুল,

সন্ধ্যার তাজা গোলাপটি প্রভাতেই বাসি-

ঝরে পড়ে না

বেঁচে থাকে!

আমি সেই বাসি ফুলটিকেও ভালবাসি।

 

আমি তোমার,

আমি কয়েকজন সমাজ বিচ্ছিন্ন মানুষের

রেলস্টেশন,বাসস্টান্ড,হাটে বাজারে ঘুরে বেরায় যারা-

ওরা না নারী -না পুরুষ,

ওরা মানুষ-

আমি ওদের ও।

 

আমি তোমার,

আমি অভুক্ত শ্রমিকের- মজুরের

জোর লাথি খাওয়া যতো কুকুরের!

আমি তোমার,

আমি দুনিয়ার যতো নিপীড়িত মানুষের-

যারা রোজ বাঁচে অনাহারে

ক্ষুধার শিকল পায়ে,

আমি কামারের মতো বসে কাটি শিকল

কানে কানে দেই মন্ত্র

ওঠ রুষে ওঠ বঞ্চিত যতো

ভেঙে ফেল এ সমাজযন্ত্র।

 

তুমি আমাকে একান্তই তোমার করে চাও?

আমি তোমার,

আমি নব সমাজের স্বপ্ন সারথি

আমি ঝাঁঝাল স্লোগান মিছিলের

আমি আলোর পথযাত্রী।

 

আমি তোমার,

তুমিও যে আমার-

তুমি আমার থমকে যাওয়া একটু সময়

হতাশার মাঝে আশার আলো

ভীত সঞ্চারিত অন্ধকারে তুমিই আমার অভয়

সে দিন প্রভাতে আমাদের হবে পরিণয়;

যেদিন প্রভাতে ফুটপাতে শোয়া যিশু পাবে-

মানুষের পরিচয়

সেদিন প্রভাতে আনন্দালোকে রবে না অন্ধকার

সব ব্যবধান ঘুচে যাবে

তোমার আমার।

 

হরিপদ হাভাতে জাগবে

 

বহুত বাল ফেলছেন মোশাই;

মোসাহেবি কইরা এরে ওরে ধইরা

পোলাডারে বানাইছেন ডাক্তর,না না কসাই।

কেরানির পোলায় কেরানিরথন হইছে বড় কিছু

সিনা টান কইরা হাঁটে ডাঁটে- ঠাটে,

করে না মাথাখান নিচু।

 

হুনছি এইবার যাইবেন হজে,

সুদের ব্যবসায় মারছেন তো পাছা অনেকের-

ঘুষের টাকার গরজে।

চুদে দেন,সুদে দেন, দেন যে ভাবে

পাছা দেওয়া জনগণ-

আছে দেখেন বড় অভাবে।

 

ঘুরে আসেন হজ শেষে টাইটেল লাগিয়ে-

দাম আছে ওসবের,

নোট ছাড়ুন ভোট চেয়ে -নমিনেশন বাগিয়ে।

দল আছে,বল আছে,আরো আছে ধর্ম

ঠাপ দেন,দাপ দেন-

বাপ ডাকা জনতার চোখে নাই চর্ম।

 

আপনারা মাই বাপ,দেশ দশের রক্ষক

দেশটাই আপনার রোজকের ডাইনিং,

গণিমতের মাল ভেবে হয়েছেন ভক্ষক।

খাচ্ছেন দাচ্ছেন,মাঝে মাঝে নাচ্ছেন,

বগলে মাগি রেখে-

দাড়িতে তা দিচ্ছেন।

 

দুমদাম ফাটছে জনতার পশ্চাতে ফোসকা,

বেগুনের পোড়া ঝোলে পুঁটিমাছ রান্না-

বাজারের দর নিয়ে দেননা বে টোটকা।

মাছেভাতে বাঙালির নোলা গেছে চুপসে

খাই খাই স্বভাবে -পড়ে গেছে অভাবে

হরিপদ হাভাতে,আজ কেন চুপ সে?

 

মুখ গুঁজে কাগজে খোঁজে সে রেপ কেস,

সুখ পেতে উৎসুক চোখ চায় বিনোদন,

অতশত কে ভাবে-কি দেবে দেশ টেশ?

হরিপদ একদিন চেয়ে দেখে সব শেষ!!

খবরের শিরোনাম আদরের কন্যা;

ছিল সে ইস্কুলে সব থেকে মেধাবী!

সাতদিন রাতদিন খবরের শিরোনাম,

কতজন তুলেছিল বিচারের দাবি।

 

হরিপদ সেই থেকে বড্ড উন্মাদ,

রাজনীতি ভাতে ভাতে,খুনিদের হাতে হাতে

হরিপদ বুঝে গেছে-

হরিপদ এতদিনে করেছে প্রতিবাদ।

হরিপদ হাভাতের দেশে নাই হিস্যা

হরিপদ হাভাতের দল নেই,বল নেই;শুধু জানে-

দেশটারে দালালেরা করেছে বেশ্যা।

 

দেশটারে কন্যার মতো করে ভাবে সে

হরিপদ হাভাতে জেগেছে -জাগবেই

হরিপদ মরবে ও মারবে,মানবে না আপসে।

 

আমরা এসেছি বহু আগে

 

পালিয়ে আসার সময় আমাকে রেখেই দৌড়েছি

ব্যাগের তলায় ছিল আর ডি এস প্যাঁচানো তার

সুইচ হাতের আঙ্গুলে

খটাশ খটাশ শব্দে কয়েকশো নল তাঁক হয়েছে

গর্জনের অপেক্ষায়

 

কয়েক ঝাঁক বুলেট রক্ত পিপাসায় অধীর আক্রোশে

এই ছুটে আসবে

ধুক্ ধুক্ ড্রামে ড্রিম ড্রিম তালে

চৌকশ সেনা প্লাটুন মার্চ করে বুকের বা’পাশে

আমি অপেক্ষায়

 

এই তাতিয়ে উঠবে একটি কিন্নর কণ্ঠ “ফায়ার”

আর সাথে সাথা ধামাকা ঘটবে

সুইচ আমার হাতের আঙ্গুলে

কয়েকশো গরম ধাতব স্পর্শ আমার হৃদপিণ্ড ছুঁয়ে যাবে

পলকা বাতাসের মতো সুরসুরি দিবে চুলে

রেবতী যেমন আঙ্গুল নিয়ে খেলত

লাঙলের মতো চষে ফেলত আমার মাথা

টুসটুস শব্দে আঙ্গুলে টিপে মারত নিক

কিংবা দামরা উকুন

 

আমাদের মস্তকে পরিপুষ্ট হয়েছে অসংখ্য উকুন

আমাদের রসদে

আমাদের করে দেয় নিশ্চিহ্ন সেনা ছাউনি গড়ে

নিরাপত্তার অজুহাতে বেদখল হয়েছে মা মাটি মোহনা

জালে লাশ ওঠে মাছ ওঠে না

অথচ কোথাও কোনো যুদ্ধের খবর ছাপা হয়নি

যুদ্ধ চলেছে ভেতরে ভেতরে

 

আমি এসেছি শান্তিচুক্তি সাক্ষরের কলমের ডগা চুয়ে

আমার আমি এসেছে বহু আগে সিধু-কানুর রক্ত বীজ হতে

বুক বোঝাই আর ডি এস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি সেনা ছাউনিতে

আমার আমি এবং অন্যান্যরা

সুইচ হাতের আঙ্গুলে

 

আমি কোন সভ্যতার জ্যোৎস্না পোহাই

 

রোজকের মতো কয়েকটি খিস্তি ঝেড়ে-

মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করি,

হলুদে পেচ্ছাপের গন্ধে মাতাল তিলোত্তমা শহর।

 

চোখ কচলে নিয়ে দেখি

মিটমিট হাসছে পৌষপার্বণের চাঁদ,ও শালা আজ গিলেছে মাইরি-

বেশ ইশারা দিচ্ছে;

সখীপুরের সখীটির বুকের উপর থেকে আঁচল হরকে যাওয়া –

সে রাত্তিরে, দেখেছিলাম বিশাল বক্ষে ফিকফিকে হাসি

ব্লাউজের ভেতর ঠেসে রাখা এক থালা পূর্ণিমা!

পা টলছে,সিগন্যালে দাঁড়িয়ে কবিতা লিখছে ট্রাফিকপুলিশ

ল্যাম্পপোস্ট জড়িয়ে উন্মত্ত দুটো নর নারীর শরীর ঠিকরে বেরুচ্ছে কবিতা,

শীত্কার মধুর আবৃতি।

 

আমার মুখ ফসকে বেরুয় ‘শালী বেশরম মাগী’,

ভ্রুক্ষেপ হীন দু জোরা উজ্জ্বল চোখ আমাকে নাড়া দেয়;

কার্তিকেয় কুকুরের চুম্বকীয় প্রেম মাখা শহরে

এদের শয্যার লজ্জা নেই।

এ ভবনে ও ভবনে ততক্ষণে কবিতা ছড়িয়েছে

শরমের মিনিস্কার্ট খুলে ল্যাংটো চাঁদ

হুইস্কির ফেনায়িত গ্লাসে টুপ করে ডুবে বুদ।

 

অট্টালিকার ছায়াবৃত ফুটপাতে সারে সারে কবিতার কঙ্কাল;

কিশোরীর চুপসে যাওয়া বুকে জ্যোৎস্না নেই

ফিউজ বাল্বের মতো দপ করে জ্বলে নিভে গেছে ঝুপড়ির যৌবন

তবুও সঙ্গমরত কয়েকটি ছায়া নড়ে ওঠে;

কাঠপুতুলের সঙ্গমে বিধ্বস্ত অন্ধাকারে দাঁড়িয়ে টহলপুলিশ হাত পাতে

হাত ভরে যায় কবিতায়

এই সব সঙ্গমের ন্যায্য হিস্যা জমা পড়ে রাষ্ট্রীয় কবিতাগারে,

গণভবনে বসে ভরাট কণ্ঠে আবৃতি করে রাষ্ট্রপ্রধান।

 

সেই মেয়েটি কি শিখেছে

 

সেই মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল না?

বিভৎসতা তার কৈশোরের শরীরে লেখা।

মলাট খুলে প্রেমিক উন্মোচন করল তিল গুলো,

স্তনে কামড়ের দাঁগ!

দাঁগ উরুতে,

ধর্ষিতা সেই মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করল না?

সেই মেয়েটি,যাকে কেউ চিনতে চাইল না-

বেশ্যা বলল।

 

তবু সেই মেয়েটি চিমটি সমান জীবন ধরে;

আত্মহত্যা করতেই পারত।

স্লিপিং পিল মুঠোভরে কি ভেবেছে সেই মেয়েটি?

চিমটি সমান জীবন-

জানালার বাইরে বিশাল আকাশ,আকাশ তাকে ডাকে।

সেই মেয়েটি মেঘের কাছে যায়-

ছাঁদে দাঁড়ায় বিকেলবেলা?

প্রেমিক যে তার ছিল,

মলাট খুলে কি পড়েছে সে?

সে পড়েছে উরুর ফাঁকে নষ্ট যোনি,দলিত স্তন,পরিত্যক্ত শরীর।

আর কিচ্ছু না?

বই পড়া চোখ চশমা খুলে শরীর পড়ে,

ভুল পড়েছে-

মনের মলাট কে খুলেছে?

বুকের কাপড় সরিয়ে নিয়ে স্তন দেখেছে,নরম মাংস।

 

নগ্ন করে কি পেয়েছে?-একশটি তিল।

সেই মেয়েটি,যার আত্মহত্যা করার কথা ছিল-

জীবন তাকে কি শিখাল?

প্রেমিক অথবা পুরুষের চোখ এক’ই।

লেখক: তরুণ কবি ও গল্পকার।

শেয়ার করুন
  • 73
    Shares
error: Content is protected !!