নামের ভজনা

নামের ভজনা হাতে জপমালা নিয়ে সারাদিন টিপলেই হয়না।যদি আসল ব্যাপার না বুঝে হাতে মালা নিয়ে ঘোরা হয় তাহলে কোনো লাভ হয়না।এই ক্ষেত্রে হিসাবই (কত জপ হলো)প্রধান হয়ে যায়।এতে নামের মহিমা বোঝা যায়না।

অনামক অধরকে নাম দিয়েই ধরতে হয়।এই নাম দিয়ে অনামককে ধরাকে বলে নামের ভজনা।এর কোনো বাঁঁধাধরা নিয়ম নেই।এই নামকে সম্বল করেগিয়েছেন মহাপ্রভু।আমরা উনার শিক্ষা থেকে আমরা বহুদূরে আছি বলেই এত ঝামেলা।চৈতন্যদেবের পর নাম এর ব্যাপারটা হরিচাঁঁদ সমাধান দিলেও আমরা তা বুঝিনি।

নামের ভজনা হবে সর্বক্ষণ। এই ভজনা হবে তৎপরতার মধ্যদিয়ে।কখনও নির্দিষ্ট নাম বের হবে কখনও হবেনা।কিন্তু ভজনা চলবে।

মহাজনদের কথা ঠিকই আছে।নামই আমাদের উদ্ধার করবে।কারণ এটি আমাদের জীবরূপ থেকে শিবরূপের দিকে ধাবিত করে।  শিব একই সঙ্গে জাগতিক অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করেন ও কামনা-বাসনা থেকে ক্রমশ নিজের  উত্তরণ ঘটান।

মার্কস এর তত্ত্ব হতে জানি যে, আমাদের শ্রমই আমাদের একমাত্র ব্যক্তিগত সম্পদ।নাম আমরা লাভ করি শ্রমের মাধ্যমে। শ্রমের বাইরে নামের কোনো অস্তিত্ব নেই।এই শ্রম হতে উৎপন্ন নাম আবার শ্রমকেই প্রণোদিত করে। নাম বাঁঁচতে শেখায়, প্রতিবাদ করতে শেখায় ও ভোগবাদ থেকে  উত্তরণ শেখায়।

শেষাবধি শ্রম নামের ভজনার বাইরে থাকে না। তা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।মহাজনেরা তাই বলেন, “নামই সম্বল”।

নাম কোনো অনুর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা নয়।এর মাঝেই আছে ইতিহাস সচেতনতা।এই ইতিহাস সচেতনতা কথাটি মার্ক্সবাদী বয়ান।সুফি সাধকদের ভাষায় এটা রুহানিয়াৎ। তাই নামের ভজনা জরুরি। 

শেয়ার করুন
  • 10
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!