সর্বশেষ সংযুক্তি
সুত্রপাত / চিন্তা ও দর্শন / ক্ষুদে জিনিয়াসদের যত বিড়ম্বনা

ক্ষুদে জিনিয়াসদের যত বিড়ম্বনা

তামান্না তাবাসসুম :

বিখ্যাত গণিতবিদ ‘কার্ল ফ্রিডরিখ গাউস’ মাত্র সাত বছর বয়সেই ক্লাসে গণিতের শিক্ষককে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন নিজের প্রতিভায়।  স্যার ছাত্রদের একটা অঙ্ক কষতে দিলেন। ১+২+৩+৪+৫+…+৯৬+৯৭+৯৮+৯৯+১০০=? যোগ করো একের পর এক সংখ্যা, সমানে মনে রাখো সমষ্টি, কোনও এক ধাপে ভুল হলেই সব গোলমাল। শিক্ষক চাইলেন গণনার ভারে ছাত্রদের জর্জরিত করতে। তারা সবাই হিমশিম খেলেও তা হলনা একটি ছেলের বেলায়। কারণ ক্লাসের সব বাচ্চা অঙ্কটা যেভাবে কষতে গেল, ও হাঁটল না সে পথে। আর সবাই যেভাবে দেখল প্রবলেমটাকে, ও সেভাবে দেখল না মোটেই।

১+২+৩+৪+…+৯৭+৯৮+৯৯+১০০; কে বলেছে উত্তর পেতে সমানে করে যেতে হবে যোগ? সমষ্টি তো মিলতে পারে অন্য পথেও।আর সে পথটা যে অনেক সুন্দর এবং মসৃণ। কী রকম? ১+১০০=১০১; ২+৯৯=১০১; ৩+৯৮=১০১; ৪+৯৭=১০১। এ রকম জোড়ায় জোড়ায় যে আলাদা করা যায় সংখ্যাগুলোকে। প্রত্যেক জোড়ার সমষ্টি ১০১। মোট জোড়া ৫০টি। তা হলে ব্যস,
১+২+৩+৪+…+৯৭+৯৮+৯৯+১০০=১০১×৫০=৫০৫০।  যে জার্মান গণিতজ্ঞ পরে আশ্চর্য সাফল্যের নিদর্শন উপহার দেবেন সংখ্যাতত্ত্ব, রাশিবিজ্ঞান, বীজগণিত, জ্যামিতি, ভূ-পদার্থবিদ্যা, তড়িৎবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, এমনকি আলো গবেষণাতেও এত কীর্তির জন্য যাকে বলা হয় ‘গণিতের রাজপুত্র’ তার প্রতিভার দ্যূতি তো বিচ্ছুরিত হবে শৈশবেই। ( উদাহরনটি ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকার ‘চাইল্ড প্রডিজি’ ফিচার থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে নেয়া)

সভ্যতাকে আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিকে আরো আলোকিত করতে যুগে যুগে জন্ম নেয় কিছু অসাধারন প্রতিভাধর মানুষ ; যারা ছোটবেলা থেকেই তাদের মেধার দূতী ছড়ায় ।মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে রবি ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। এদের কেউ ম্যথমেটিকাল জিনিয়াস, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং জিনিয়াস, কেউবা রাইটার, এছাড়া আরো অনেক ক্ষেত্রে শিশুর অভাবনীয় প্রতিভা থাকতে পারে। আচ্ছা যে মানুষগুলো অনন্য প্রতিভার অধিকারি, আর দশজনের থেকে আলাদা তাদের শৈশবওতো আলাদা ভাবে কাটার কথা তাইনা? এই আলাদা হওয়ার জন্যকি আলাদা রকমের কিছু বিরম্বনাও পোহাতে হয়? ইতিহাস থেকে আমরা জানি অনেক বেশি জিনিয়াস মানুষদের তাদের সময়কার মানুষেরা কখনো বুঝতে পারেনি।

এমন কিছু ক্রিয়েটিভ পার্সোনালিটিদের ছেলেবেলা কেমন ছিলো এই নিয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ছোট একটা রিসার্চ করেছিলাম কিছুদিন আগে। সেখান থেকে কারো নাম প্রকাশ না করে রেন্ডমলি কিছু ফাইন্ডিংস তুলে দিচ্ছি-

– লাইব্রেরী তে আমার আসা যাওয়া বেশ থাকায় সব টিচারদের মনে আলাদা একটি যায়গা করে নিয়েছিলাম- কিন্তু নিরানন্দটা হচ্ছে সহপাঠীরা কেওই আমার এই ব্যাপারে কাজে আসতো না।।
– বাসায় নতুন কেউ এলে তাকে আপাদমস্তক খেয়াল করতাম, সে কিকরে নাকরে, তার চলা,কথাবলা,কিভাবে খায় ইত্যাদি রাজ্যের সবকিছু নিয়ে রাতে ঘুমাতে গেলে সারাদিনের কড়চা গল্পআকারে আব্বুকে বলতাম।
– একাকী থাকতাম, রাস্তায় হাঁটলে চারপাশের যত পোষ্টার সব পড়তাম, যেকোন কিছুতে খুব আগ্রহ থাকতো।
– সমবয়সী বন্ধু ছিল না বললেই চলে বড় আর ছোটছোটদের সাথেই বেশি চলাচল।
– ক্লাস ওয়ানে থাকতে উপন্যাস আর জীবনানন্দ দাশের কবিতার বই পড়েছিলাম।

– একজন সাংষ্কৃতিক ব্যক্ত্বিত্ব বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই আবৃতি, ছবি আঁকা, গানের বিভিন্ন কম্পিটিশনে অনেক পুরুষ্কার জিততাম, কিন্তু অংক ইংরেজীতে খারাপ হওয়ায় সেই সব অর্জন ম্লান হয়ে যেত। সবাই লেখাপড়ার জন্য বকা দিত বলতো এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটিজ ছেড়ে দিতে।
– অনেক প্রতিকূলতা জয় করে আসা একজন তরুন উদ্দোক্তা বলেন- মাঠে খেলার সময় সবাই যেভাবে খেলে আমার সেটা ভাল্লাগতোনা, আমি ভাবতাম এই একি খেলা অন্য আর কি কি নয়মে খেলা যায়, অন্য কোন নিয়মে খেললে আরো বেশি মজা হবে। এসব কারনে আমার পাড়ার বন্ধুদের সাথে মিলতো না। পাড়ার ছেলেরা আমাকে বোকা বলতো। কিন্তু ভাল ছাত্র হওয়ায় স্কুলে অনেক বন্ধু ছিলো। তাই আমার স্কুলেই বেশি ভাললাগতো।
– একজন সফল একাডেমিক ব্যক্তিত্ব বলেন, খুব ইন্ট্রোভার্ট আর কল্পনা বিলাসী ছিলাম, নানা বিষয়ে কল্পনার জাল বুনতাম ।ক্লাস্মেটদের সাথে মিশতে অসুবিধা হতো, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই ভুলবোঝার শিকার হয়েছি। টিচার বা বন্ধু দুপক্ষের কাছেই প্রায়ি পজেটিভ আচরন পাইনি। এই ভাল কিন্তু কোন কারন ছাড়াই খারাপ আচরন পেতাম। টিচাররা বেশিভাগ ক্ষেতেই আনসিম্প্যাথেটিক ছিলেন।
আমি ছড়া কবিতা লিখতাম, গান শুনতাম, বই পড়তাম এসব কারনে নিরানন্দ হতে দিতাম না। কিন্তু ঐযে ভুল বোঝার শিকার হয়ে ভিক্টিমাইজ হতাম এই কারনে দূরবিষহ লাগতো।এগুলো আমার আত্নবিস্বাস কমিয়ে দিয়েছিলো। আই উইশ আমার মাবাবা স্পেশালি বাবা আমাকে বুঝতো !
– একজন লেখক ও ব্যাংকার বলেন, আমি নিজের খেলনা নিজে বানাতাম, লোকে হাসত, আমাদের আশেপাশে ক্রিয়েটিভিটি বোঝার লোক কম।
– বিদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যায়নরত একজন বলেন, কলেজে উঠার আগ পর্যন্ত শিক্ষাজীবন বোরিং লাগতো। যদিও সব রকম ইভেন্ট, কালচারাল প্রোগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতাম, তাও। মনে হতো আমার ব্রেইন যথেষ্ট পরিমাণ চিন্তার খোরাক পাচ্ছে না! বন্ধু ছিল এক, দুই জন। ফেইসবুকের কল্যাণে এখন অবশ্য অনেক সমমনা বন্ধু ।

গিফটেড শিশুদের নিয়ে যেসব গবেষনা হয়েছে সেগুলো পর্যবেক্ষন করলে এদের শৈশবের কিছু কমন বৈশিষ্ট বা চ্যলেঞ্জ নিয়ে ধারনা পাওয়া যায়।

* এরা অনেক কিউরিয়াস হয়, সব কিছু নিয়ে জানার আগ্রহ থাকে, সারাক্ষন অনেক প্রশ্ন করে।
* যেহেতু এই বাচ্চাদের আইকিউ এবং মেন্টাল এইজ সমবয়সীদের চাইতে বেশী থাকে তাই এরা বয়সে বড়দের সাথে বন্ধুত্ব করতে বেশি পছন্দ করে। একি কারনে এদের সমবয়সীদের সাথে মিশতে সমস্যা হয়।সবার সাথে চিন্তাচেতনায় না মেলায় বন্ধুহীনতায় ভোগে।
* এরা যেহেতু সবকিছু লজিকালি চিন্তা করে তাই আমাদের সমাজের চাপিয়ে দেয়া অনেক অদ্ভুত নিয়ম এদের না-ই ভাল লাগতে পারে। এই যেমন বোরিং স্কুল। বেশিভাগ বিখ্যাত মানুষই কিন্তু স্কুল থেকে ড্রপ আউট ছিলেন।
* এদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই লিডারশিপ কোয়ালিটি থাকে, নিজের মত করে অন্যদের বোঝাতে চেষ্টা করে।
* এরা অনেক পারফেক্টশনিস্ট হয়। তাই মনের মতো কিছু করতে না পারলে বা সুযোগ না পেলে বা নিজের ভাবনা অন্যদের বোঝাতে না পারলে হতাশা এদের গ্রাস করে।
* এরা কোন বিষয়ে দ্রুত ভাবতে পারে এবং দ্রুত কথা বলে, লিখার সময় হাতের চেয়ে ব্রেন দ্রুত চিন্তা অর্গানাইজ করে বলে এদের হাতের লেখা সাধারনত ভাল হয় না।
* এদের উপর সবচেয়ে বড় চ্যলেঞ্জ হলো তাদের এইসব আলাদা বৈশিষ্ট অন্যরা মেনে নিতে পারে না, বিশেষ করে পরিবার প্রতিনিয়ত তাদের অন্য সবার মতো হতে চাপ প্রোয়োগ করে। তাদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ দেয়া হয় না।
* একটি গিফটেড শিশুর একটি বা ততোধিক বিষয়ে অনেক দক্ষতা থাকতে পারে , তাই বলে সে যে সবদিকেই সমান পারদর্শী হবে এমনটা না। দেখা গেল কেউ গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা কিন্তু গুছিয়ে লিখতে পারে। কেউ একদিকে অনেক বেশী মনোযগী হলে অন্য দিকে বেখেয়ালীও হতে পারে। অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা কিন্তু তাদের দৈনন্দিন জীবনে উদাসীন ছিলেন।
* আবার অনেককিছু উল্টাও হতে পারে। এই যেমন চঞ্চল না হয়ে ধীরস্থির হলো, বেশি কথা বলার বদলে কম কথা বলল। কথিত আছে, আলবার্ট আইন্সটাইন অনেক দেরীতে কথা বলা শিখেছিলেন এবং পড়তে শিখেছিলেন সাত বছর বয়সে।
স্টিভেন স্পিলবার্গ অন্যতম সফল চলচিত্র নির্মাতা, কিন্তু কোন কিছু পড়তে তার সবসময়ি স্ট্রাগল করতে হতো তার ডাইস্লেক্সশিয়া রোগের কারনে।

চাইল্ড প্রডিজি’র কিছু গল্প হয়তো অভিশপ্ত শৈশবেরও। উলফগাং আমাডিউস মোৎসার্ট – তার বয়স যখন চার, তার বাবা আবিষ্কার করলেন, একটা কাগজে অনেক হিজিবিজি, আঁকিবুঁকির মধ্যে যেন একটি মিউজিকাল স্কোর। ভাল করে পড়ে দেখলেন, সত্যিই তা-ই। কিন্তু একেবারে অন্য রকম কম্পোজিশন, বাজানো বেশ কঠিন।চার বছরের ছেলে এসে বাজনার সামনে বসল এবং পুরো কনচের্তোটি দিব্যি বাজিয়ে দিল।  স্তম্ভিত পিতা পুত্রকে নিয়ে উঠেপড়ে লাগলেন। প্রত্যেক দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্র্যাকটিস আর প্র্যাকটিস আর প্র্যাকটিস। তার সঙ্গে যত রকমের সুর আর কম্পোজিশন আর বাজনা শোনানো সম্ভব, তাকে শোনানো। অতঃপর ছ’বছরের ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন বাবা। এক শহর থেকে আর এক শহর, গণ্যমান্য মানুষদের সামনে বিস্ময়বালককে পেশ করেন, সে অদ্ভুত সব কীর্তি দেখয়। একে বয়েস ছয়, তার ওপর চেহারাটাও খুব ছোটখাটো, উঁচু আসনে বসে খুদে মানুষটা ছোট ছোট আঙুলগুলো দিয়ে ম্যাজিক দেখাচ্ছে শ্রোতারা সম্পূর্ণ হতবাক। সংগীতপ্রেমী ইয়োরোপে শিশুর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। বড় বড় দরবারে, রাজসভায় ডাক পেল সে।

কিন্তু মোৎসার্টের কাহিনিতে আছে এক গভীর বিষাদ। চার বছর বয়েসে যদি কোনও শিশুর অলোকসামান্য প্রতিভা আবিষ্কৃত হয়, যদি আবিষ্কারক পিতৃদেব সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে বদ্ধপরিকর হয়ে পড়েন, তা হলে তো শৈশব জন্মানোরই সুযোগ পেল না, তাই না? কেবল কঠোর অনুশীলনের রুটিন নয়, প্রতিভার মাসুল আরও নানা ভাবে দিতে হত ওই শিশুকে। সে ট্রাম্পেটের আওয়াজে ভয় পেত। স্বাভাবিক ভয়। কিন্তু এই স্বভাব তো তার সংগীতচর্চায় ক্ষতি করবে। তাই লিয়োপোল্ড মোৎসার্ট এক দিন হঠাৎ শিশুর কানের একেবারে কাছে প্রবল নিনাদে ট্রাম্পেট বাজিয়ে দিয়েছিলেন। ভয় কেটেছিল হয়তো, কিন্তু শিশুমনের ক্ষয়ক্ষতি ?

বিপুল ক্ষতি হয়েছিল শরীর এবং মন, দুইয়েরই। ছত্রিশ বছরের জীবনে আমাডিউস প্রায় কখনওই পুরোপুরি সুস্থ থাকেননি, তার পিছনে ছোটবেলার ওই অমানুষিক রুটিনের দায় এড়ানোর কোনও উপায় নেই। বিশেষ করে, সে কালের ইয়োরোপে ঘোড়ার গাড়িতে শহরে শহরে ঘুরে বেড়ানোর ক্লান্তি, শৈত্য, যন্ত্রণা, একটা ছয়, সাত, আট বছরের বালকের অসহনীয় নয়? আর মন ? সারা জীবন মনে মনে এক শিশুই থেকে গিয়েছিলেন আমাডিউস, কঠোর কঠিন বাস্তবের মোকাবিলায় ক্ষণে ক্ষণে পর্যুদস্ত হয়েছেন তিনি, আমৃত্যু।মোৎসার্ট যখন বিদায় নিলেন, তখন তাঁর বয়স ছত্রিশ। মোৎসার্টের প্রতিভা সব অত্যাচার জয় করেছে। মূল্য দিতে হয়েছে মোৎসার্টকে। আশৈশব।( উদাহরনটি ‘আনন্দ বাজার’ পত্রিকার ‘চাইল্ড প্রডিজি’ ফিচার থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে নেয়া)
উপরের কাহিনীর সাথে আজকালকার অনেক মাবাবাদের মিল আছে, যারা তাদের ছোট বাচ্চাটাকে সবকিছুতে অলরাউন্ডার বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। আপনাদের বলছি আপনার জিনিয়াস বাচ্চা্টাকে একটু স্পেস দিন, তাকে তার মতো থাকতে দিন কিছু সময়।আরেক ধরনের মাবাবা আছে তারা লেখাপড়া ছাড়া আর কোনদিকে তাকাতেই দেয় না বাচ্চাকে।

সে শিশু বড় হয়ে বিস্বজয় করবে তাকে শুধু ক্লাসের হোমোয়ার্কের মধ্যেই আটকে রাইখেন না প্লিজ। আর যে দিকে তার ইন্টারেস্ট সেদিকটায় তাকে সহযোগীতা করুন। গিফটেড বাচ্চারা অনেক সেনসেটিভ এক্সট্রিম কোনকিছু তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েন না।
স্কুল টিচারদের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে এখানে, ‘তারি জামিন পার’ মুভিতে আমরা দেখি কিভাবে একজন টিচার একটা বাচ্চাকে অভিশপ্ত শৈশব থেকে ফিরিয়ে এনে তার প্রতিভাকে বিকশিত হতে দিতে পারে। যদি দেখেন কোন বাচ্চা ক্লাসমেটদের কাছে টিজিং এর স্বীকার হচ্ছে সেখানে বাধা দিন। আমাদের দেশের শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সইমস্যা তারা নিজেরাই বাচ্চাদের টিজ করে। আপনার স্টুডেন্টদের ছোটখাট ভাল কাজের, গুনের প্রশংশা করুন ।অংক ইংলিশে হায়েস্ট পাওয়া বাচ্চা যেমন বাহাবা পায় ;বাংলা, সমাজ ড্রয়িং এ ভাল মার্ক পাওয়া বাচ্চাটাও ঠিক তেমনি বাহাবা পাওয়ার দাবিদার। সব স্খুলে একজন প্রফেশনাল সাইক্রিয়েটিক খুব প্রয়োজন।

লাকিলি আমার এই লেখাটি কি এখন এমন কোন টিনেজার পড়ছো যে এসব সমস্যা ফেইস করছো ?তুমি হিনমন্যতায় ভূগো না প্লিজ। আমি অনেক সময় নিয়ে, যত্ন নিয়ে এই লেখাটা শুধু তোমার জন্যই লিখেছি। এমন কিছু করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দাও যাতে আজ যারা তোমাকে বুঝতে পারে না কাল তারাই এসে তোমার বন্ধু হতে চায়। বেশি বেশি নতুন আইডিয়া ভাব, কীভাবে নিজের ক্ষুদ গুলো দূর করা যায় গুন গুলো আরো বিকোশিত করা যায় ভাব। তোমার কোন বন্ধু না থাকলে বইকেই বন্ধু বানিয়ে ফেল। বড় হওয়ার সাথে সাথে পরিসর বড় হয়, তখন সমমনা অনেক বন্ধু খুজে পাবে। অনেক ভালবাসা রইল তোমার জন্য। দেখা হবে বিজয়ে।

লেখক:তরুণ কথাসহিত্যিক, শিক্ষার্থী, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় ।

শেয়ার করুন
  • 273
    Shares