সর্বশেষ সংযুক্তি

আহ্বান

লুৎফর রহমান:

ট্রলারের ফাস্টটিপ ধরেছি । শীতকাল । হাওরের পানি নদীতে নেমে পড়েছে । চর জেগে ওঠেছে । পাখপাখালির কলতানে চারদিক মুখরিত । মাঠে এখন সবুজ ঘাস নতুন স্বপ্নের মতো গজাচ্ছে । কৃষকদের মধ্যে এখন চলছে ফসল লাগানোর জন্য প্রস্তুতি । কুয়াশার প্রলেপ সরিয়ে সকালের সূর্য নীলাকাশকে জ্বলজ্বলে করে তুলেছে । মনের কোণে দুএকটা চেনা গানের কলি আপনা থেকে নড়ে ওঠছিলো । গুনগুন করছিলাম । পাশের যুবকটি বলে ওঠলো, ছাদেইতো, গলা ছেড়ে গান, তা ভাই যাচ্ছেন কই ? বললাম, বিতলংয়ের আখড়া দেখতে, শোনেছি অপূর্ব ! হ্যাঁ, আখড়াটি আসলেই খুব সুন্দর, যুবকটি বললো, এটি এক অন্য জগৎ !

জীবনে আমি ঘর থেকে খুব একটা বের হইনি । শুরু থেকেই বাবা আমার মাঝে পরীক্ষার ফল উত্তম করার নেশা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন । কেবল পড়া আর পড়া, তাই চারপাশ ভালো করে দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি । আমার তেমন বন্ধু-বান্ধবও নেই । আমি সহপাঠিদের পর্যন্ত ভালো করে বোঝার চেষ্টা করিনি কখনো । তবে সুন্দরিদের বন্ধুত্ব কব্জা করার কামনা যে আমার মধ্যে জাগতো না সে কথা হলফ করে বলার সাহস আমার নেই । এই ইচ্ছেটাকে সব সময় দমন করে রেখেছি, ফলে সূক্ষ্ম একটা শূন্যতাবোধ আমার মাঝে সক্রিয় থেকেছে বরাবর । বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে । ফল বেরুলেই ওখানকার জীবনের ইতি হবে । এখন অবসর । সময়টা উপভোগ করতে মামার বাড়ি এলাম । জানি কর্মজীবনে প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে, তাই হাল্কা পালকে ভর করে একটু উড়ার চেষ্টা আরকি !

হেসে খেলে প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্য দুচোখ ভরে দেখতে দেখতে অবশেষে আখড়ায় এসে পৌঁছলাম । বিশাল এলাকা জুড়ে আখড়াটির অবস্থান । অপূর্ব ! প্রথম দর্শনেই প্রেম হয়ে গেলো । বর্ষাকালে এটি দূর থেকে বহুবার দেখেছি । এবার ভেতরে প্রবেশ করে ছুঁয়ে দেখার পালা । মনটা আনন্দে ভরে গেলো । লালছে মাটি আর হরেক জাতের দেশি-বিদেশি গাছ যেনো দৃষ্টি মেলেছে আকাশের দিকে । চারপাশ দেখে দেখে এগুচ্ছি । একটু ভেতরে গিয়ে পেলাম বাগান, নানা ফুলের সমাহার । সন্ন্যাসীরা মনের মতো করে সাজিয়েছে বাগানটি । পূজায় ফুলের প্রয়োজন পড়ে । পূজারীরা ফুলের মধ্যে তাদের ভক্তি মিশিয়ে নিবেদন করে দেবতার পদতলে । এসব কারণেই হয়তো বাগানটার এতো যত্ন, ঝকঝকে পরিষ্কার । এখন বাগানের সৌন্দর্য তন্নতন্ন করে দেখছি । আমার মস্তিষ্ক ফুলের গন্ধে মাতাল আর চোখ রূপে বিভোর !

বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজেকে নীল ভ্রমর মনে হলো । ফুলগাছের ডাল, পাতা, ফুল ছুঁয়ে-ছুঁয়ে দেখছি । মনে হলো এই নির্জনে আমি যেনো হারিয়ে যাচ্ছি এক অজানায় । হঠাৎ একটা বুলবুলি পাখি গেয়ে ওঠলো । গোলাপের বাগানে বুলবুলির গান আমার হৃদয়ে শিহরণ তুললো । গানটা যেখান থেকে ভেসে আসছে আমি সেদিকটায় এগুলাম এবং এক বৈষ্ণবীকে দেখতে পেলাম সাজিতে ফুল তুলছে । তরুণী । বয়স আনুমানিক বাইশ-তেইশ হবে । কপালে মঙ্গলচিহ্ন আঁকা । পরনে শুভ্র শাড়ি । নিরাভরণা । তবু দেহের সোনার বর্ণটি সূর্যের কিরণে ধুয়ে আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠেছে । ওর চোখে আমার চোখ পড়লে মনে হয় লাজে সামান্য কুঞ্চিত হলো তরুণীটি । তা-ও সুন্দর লাগলো, সব মিলিয়ে খুব শক্তিশালী, নাড়িয়ে দেয়ার মতো । বিষয়টি আমাকে আন্দোলিত করলো বোধ করি, আমার মাঝে একটা তৃষ্ণা জন্ম নিলো । এই মানবীর দিকে আমার দৃষ্টি ধাবিত হতে থাকলো । আর তরুণীটিও ক্রমশ হরিণীর মতো চঞ্চল হয়ে ওঠলো । সে একটুক্ষণের মধ্যেই স্নিগ্ধ চঞ্চলতা বিলিয়ে পশ্চিমের ফটক দিয়ে অদৃশ্য হলো । হয়তো তার ফুলতোলা শেষ । প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই মানুষের কর্মের শুরু ও শেষ হয় । তবে এসব তত্ত্বকথায় আমার প্রাণ এখন সায় দিচ্ছে না । মন চাইছিলো মেয়েটি আরো থাকুক কিছুক্ষণ । ওর চলে যাওয়ায় আমার ভেতরটা মুহূর্তে এলোমেলো হয়ে গেলো যেনো । হতে পারে বিষয়টি আমার বয়সের সাথে সম্পৃক্ত । মনে হলো এই মধ্য-দুপুর পর্যাপ্ত আলোর যোগান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে অথবা বঞ্চিত-হাওয়া ফুলগুলোর বুকে ছড়াচ্ছে মিহি বেদনা । বাগানে টিকতে মন চাইলো না, বেরিয়ে এলাম । আমি একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম । মনে করতে চেষ্টা করলাম, এমন একটা বাগান, অগুনতি ফুল এবং এমন এক সুন্দর নারীকে একত্রে কি কখনো দেখেছিলাম ? মনে করতে পারছি না । দেখে থাকলে মনে হবে না কেনো ? এটি কোনো এক রাতের স্বপ্ন হতে পারে ! সে রকমও মনে করতে পারছি না । অন্যমনস্কভাবে সামনে এগিয়ে একটা স্টল পেয়ে চা-বিস্কিটের অর্ডার দিলাম ।

চা পান করে মনটা চাঙ্গা হলো যেনো দক্ষিণের বাতাস ঝাপটায় কপাট খোলে দিলো । তরুণী বৈষ্ণবীকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম । ও কি স্থানীয়, নাকি অনেক দূরের ? দূরের হলে দেশ কোথায় ? কেনো এসেছে এখানে ? এ মেয়েটির তো এখন স্বামী-সন্তানের ভীড়ে সংসারে থাকার কথা । এখানে ও-কে কি মানাচ্ছে ? একবার একটু দেখেছি, ভালো লেগেছে, বেশ ! এবার শেষ হয়ে গেলেই পারে, কিন্তু হচ্ছে না । হতে পারে এটা আমার কৌতূহলী মনের কাণ্ড ! আবার ওকে খুঁজে পেতে দমদেয়া পুতুলের মতো সামনের দিকে যাই ।

হাঁটতে হাঁটতে একটা বড় আমগাছ পাই । এর নিচে বসেছে জমকালো আড্ডা । কাঠের আগুন দাউদাউ জ্বলছে । কিছু মানুষের সামনে মাটিতে ত্রিশূল গাড়া । চলছে বেদম গাঁজার কলকি । নেশায় চূর হয়ে মানুষগুলো গাইছে দেহতত্ত্ব আর নিগূঢ়তত্ত্বের গান । আমিও এই আসরে মজে গেলাম । ডুব দিলাম এক অন্যরকম আনন্দের জগতে আর খুঁজতে থাকলাম সেই মানসীকে । নেই । কিছুক্ষণ পর এ স্থান ত্যাগ করলাম । কিছুদূর এগিয়ে একটা বকুলগাছ পেলাম । গাছের নিচে মধ্যবয়সী দুজন বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীকে দেখলাম জিরোচ্ছে । ওরা হয়তো গান গেয়ে মাগন শেষে গ্রাম থেকে ফিরেছে । পাশেই রেখেছে লাউ আর চটি, সামনে একটা বোঁচকাও আছে । আমি ওদের কাছে গেলাম । ওরা আমাকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো । জিন্সের প্যান্ট, লাল জামা আর কেডস্ পায়ে এখানে মনে হয় কেউ খুব একটা আসে না । আমি ওদের নমস্কার করলাম । দেখলাম খুব খুশি হয়েছে । আমাকে বিনম্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো, কিছু কি চাইছেন ? আমি বললাম, হ্যা । আমার কাঙ্ক্ষিত মানবীর বর্ণনা দিয়ে তার সন্ধান জানতে চাইলাম । উত্তরে ওরা দুজন একসাথে হাসলো এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি পশ্চিম থেকে এসেছেন ? আমি প্রশ্নটার কিছুই বোঝতে পারলাম না । আমার দেশ এখান থেকে পশ্চিমেই, তাই বললাম হ্যাঁ । ওরা আবার হাসলো এবং পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি ওকে চিনেন ? আমি বললাম, না, এখানে এসেই দেখেছি । মনে হলো ওদের কাছে বিষয়টি রহস্যপূর্ণ ঠেকেছে । আমাকে ডেকে কাছে বসালো, কৌশল করে গল্প পেতে নানা বিষয়ে জানতে চেষ্টা করলো । বোঝা গেলো ঐ নারীর ব্যাপারে ওদেরও যথেষ্ট কৌতূহল আছে । অল্পক্ষণেই আমার সাথে তাদের যেনো কেমন একটা আন্তরিকতা গড়ে ওঠলো । আমাকে বললো, আপনার কি খিদে পেয়েছে ? আমি বললাম সামান্য । ওরা বোঁচকার ভেতর থেকে কমলা বের করে দিয়ে বললো, খান । আমি ইতস্তত করলে বললো, খান আমরাতো আদর করে দিয়েছি !

ওদের নিকট থেকে জানলাম মেয়েটি অনেক দূর থেকে এসেছে । যখন এসেছিলো অন্তঃসত্ত্বা ছিলো । কিছুদিন পর সে একটি মৃত বাচ্চা প্রসব করে । মেয়েটি লেখাপড়া জানে । আচার্য ওকে খুব স্নেহ করেন ।ও আসলে খুব ভালো মেয়ে । সবাই ওকে প্রচুর আদর করে । মুহূর্তে আমি মেয়েটির সম্পর্কে অনেক কিছু ভাবলাম, ওর জীবনে হয়তো ভালোবাসা এসেছিলো, মনের মানুষ পেয়েছিলো, তারপর সে প্রতারণার শিকার হয়, ইত্যাদি । এ জন্যেই হয়তো এ আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছে । তাহলে ওর মাতৃত্বের বড় অপমান হয়েছে । আমি মেয়েটির অবস্থান জানতে চাইলে বৈষ্ণবী বললো, বিকেলের পূজোর আয়োজনে ও হয়তো এখন আচার্যের কাছে আছে । আমি ধীরে-ধীরে আচার্যের ঘরের দিকে এগুতে থাকলাম ।

এই আশ্রমটি অনেক প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম, গেঢ়ুয়া মানুষের আশ্রয় আম-জাম-নারকেল-বট-মেহগনি-রেইনট্রি-হিজল-তমাল আরো কতো-কি নাম না-জানা বৃক্ষের ছায়ায় । এখানে অনেক ভাবনা একত্রে মিশেছে । স্বজন-হারা মানুষ নিয়ম ভেঙ্গে রচনা করেছে নতুন নিয়মের সমাজ । দেখেতো তাই মনে হয় । এখান থেকে আমি কি একজনকে জানতে চাচ্ছি ? আমার এই খেয়াল ক্রমশ আমাকে অস্থির করে তুলছে । আমি সামনের দিকে এগিয়ে একটি প্রাচীন দালান পেলাম । চিকন লাল ইটের দালান । কারুকাজ করা প্রশস্ত বারান্দায় শাস্ত্রালোচনা হচ্ছে । অর্ধশত নারী-পুরুষ বসে মনোযোগের সাথে শোনছে । পঞ্চাশের মতো বয়সের গৌঢ় বর্ণের পুরুষ বক্তব্য রাখছেন । উদোম গা, গলায় পুঁথির মালা, কপালে তিলক আঁকা, পরনে সাদা ধুতি এবং এক জোড়া চটি জুতো । জানা গেলো ইনিই আচার্য । তাঁর গম্ভীর কণ্ঠস্বর এবং অসাধারণ বাচন-ভঙ্গি সবাইকে বিমোহিত করে ফেলেছে । আমিও সেই আসরে বসে পড়লাম । অনেকক্ষণ শোনলাম । মানুষের মহত্বের কথা, কল্যাণের কথা বলা হচ্ছে । বড় ভালো লাগলো ! হঠাৎ আমার কাঙ্ক্ষিত মহিয়সীকে পেয়ে গেলাম । ফুলের সে-ই সাজিটি হাতে ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আচার্যের পাশে এসে দাঁড়ালো । একটু পরেই এলো মাগনের সে-ই বৈষ্ণবী । আমাকে দেখে সে কিঞ্চিত হাসলো । আচার্য তরুণীকে কী-যেনো নির্দেশ দিলেন ! সে উত্তর দিকে রওয়ানা হলে পুনরায় ডাক দিলেন, বিনোদিনী ! এই প্রথম জানলাম ওর নাম বিনোদিনী । বিনোদিনী ফিরে এসে আচার্যের বক্তব্য শোনে আবার গন্তব্যের দিকে এগুতে থাকলো । আমি তাকে অনুসরণ করলাম ।

মন্দিরের প্রবেশ পথের দুদিকে বাঁশের খুঁটি পুতা আছে । এগুলোতে রশি লাগিয়ে ছোট-ছোট লাল-নীল পতাকায় সাজানো হয়েছে । পরিষ্কার ঝকঝকে প্রবেশ-পথটি খুবই সুন্দর ! বিনোদিনী সেই পথে মন্দিরে প্রবেশ করলো । সেখানে একজন ঠাকুরকে পূজারত অবস্থায় দেখতে পেলাম । আমি বিনোদিনীর পিছু-পিছু গেলাম । সে আমাকে বাধা দিতে এসে থেমে গেলো । এমন কেনো করলো বোঝলাম না । আমি এগুতেই থাকলাম । বিনোদিনী ফুল ছিটিয়ে দিলো বিষ্ণু-মূর্তির সামনে আর পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেই চলেছেন । অনাবিল এক পবিত্র পরিবেশ । ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পৃথিবী এখানে এখন শান্ত, সব অপবিত্রতা যেনো ঘুচে গেছে, আর তা সম্ভব হয়েছে বিনোদিনীর উপস্থিতির জন্য, তার পবিত্রতার জন্য । আমার অন্তর এখন প্রশান্তিতে পরিপূর্ণ । মনের গভীর প্রদেশে শ্রদ্ধাভাব জেগে ওঠেছে । আমি চারদিকে দৃষ্টিপাত করলাম, কেনো যেনো মনে হলো এখানে কোনো মূর্তি নেই, ঠাকুর নেই, পূজোর সামগ্রী নেই; আমি শুধু বিনোদিনীকে দেখতে পেলাম এবং সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলাম । সোজা হয়ে দাঁড়াতেই বিনোদিনী আমার হাতে কতোগুলো ফুল তুলে দিলো দেবতারন উদ্দেশে নিবেদনের জন্য । আমি ফুলগুলো নিলাম । এর থেকে একটি গোলাপ বিনোদিনীকে দিলাম । সে ফুলটি গ্রহণ করলো । বাকিগুলো মূর্তির সামনে রাখলাম । বিনোদিনী মৃদু হাসলো । মনে হলো এই হাসি যেনো সে এতোদিন মনের অনেক পরতের তলায় লুকিয়ে রেখেছিলো, আর এখন সেখান থেকে বের করে এনেছে । পড়ন্ত বিকেলের সোনারোদে সে উলুধ্বনি ভাসিয়ে দিলো । শাখ বাজালো । আমার কাছে মনে হলো বিনোদিনী যেনো ছলকে ওঠেছে ।

আমি ফিরতে উদ্ধত হলে বিনোদিনী পেছন থেকে ডাকলো, যাচ্ছেন যে, প্রসাদ নেবেন না ? এই প্রথম আমি ওর কণ্ঠ শোনতে পেলাম, অপূর্ব ! ভরা নদীর স্রোতের মতো ভারি একটা কণ্ঠ । আমি ব্যাকুল হলাম । বিনোদিনী সামান্য এগিয়ে এসে হাসিতে চারপাশ প্রোজ্জ্বল করে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনার দেশ কোথায় ? আমি উত্তরে বললাম, ময়মনসিংহ্ । সে একটি ঠোঙ্গায় ফালি-করা কিছু ফল আমার হাতে তুলে দিয়ে বললো, ধন্যবাদ, আবার আসবেন ।

‘আবার আসবেন’ ধ্বনি মুহূর্তে আমার সত্তায় বিদ্যুতের মতো ছড়িয়ে, পড়ন্ত বেলার আলো ভেদ করে দিগন্তে মিশে গেলো । আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না । নির্বাক এ স্থান ত্যাগ করলাম । ট্রলার-ঘাটে এসে দেখলাম লাস্টটিপ ছাড়ে আর-কি । লাফিয়ে ওঠলাম । সূর্য ততোক্ষণে লাল আভা ছড়িয়ে জলের নিচে ডুবে গেছে ।

মানুষের জীবন স্বল্পদৈর্ঘ । নদীর স্রোতের মতো আমিও আর ফিরে যেতে পারিনি বিনোদিনীর কাছে । আমি এখন স্ত্রী-পুত্র-কন্যার ভিড়ে । কিন্তু বিনোদিনীর কথা আজো আমার মনে পড়ে । ভাবি, বিনোদিনী কি তার প্রথম জীবনের কথা ভুলতে পেরেছিলো, না নতুন সমাজের নিয়মকে গ্রহণ করতে পেরেছিলো ? সকল নিয়মই আমার কাছে কষ্টদায়ক ।

লেখক: কথাসাহিত্যিক।

শেয়ার করুন
  • 6
    Shares