সুত্রপাত / বিজ্ঞান / আইন্সটাইন, পাইলটের উড়তে জানার ক্ষমতা
albert einstein

আইন্সটাইন, পাইলটের উড়তে জানার ক্ষমতা

রিপন ধর:

একজন পাইলট হবেন, বিমান চালাবেন। তো, লিখিত পরীক্ষা দিলেন। ইন্টারভিউতে যখন জিজ্ঞেস করলেন উনি উড়তে জানেন কিনা, তখন বাপারটা কেমন লাগে? বিজ্ঞানের প্রাতিস্টানিক শিক্ষা নেওয়া পরিচিত অনেককে দেখেছি ঈশ্বর নিয়ে কথা
বলার সময় যখন বিজ্ঞানের চোখে যৌক্তিক কোন বিষয় দাড় করাই তখন আমার নিজের বিজ্ঞান চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আনা হয়। কমার্স বিভাগ থেকে এসে বিজ্ঞান বুঝবে কেমনে, এটা কি আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে উনারা বেশ সহমত। আমার কাছে সাইন্স ব্যাকগ্রাইন্ড থেকে আসা বিদ্বানদের এই যুক্তিটি বেশ হাস্যকর মনে হয়। যেমনটা বিমানের পাইলট হতে হলে আকাশে উড়া শিখতে হবে! স্বাভাবিক বোধশক্তি দিয়ে কোন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানার বা বোঝার জন্য কত হাজার হাজার বিজ্ঞানভিক্তিক ম্যাগাজিন, রিচার্চ পেপারস বা নির্দিষ্ট রেফারেন্স বই আছে। নেটিজেনদের জন্য এসব খুঁজে বের করে পড়া বা বুঝতে পারাটা
অনেক সহজ। তো সেভাবেই আমার বিজ্ঞান জানাটা হয় আর কি।

ঈশ্বরের নির্দেশিত ধর্মগ্রন্থগুলোতে যেগুলো পৃথিবী, এর সৃষ্টি বা সমস্ত সৃষ্টি জগত সম্পর্কে ফোরকাস্টিং করে প্রিডিকটিভ গাইডলাইনস হিসেবে আছে, যা বিশ্বাসীদের কাছে কোন এক মহান কারো অস্থিত্ব প্রমাণ করার ক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসেবে
ব্যবহৃত হয় । আমার বিজ্ঞানী বন্ধুরাও খুব অন্ধভাবে সাধারণ নন বিজ্ঞানী বিশ্বাসীদের মতই রেফারেন্স দেখাতে ব্যাস্ত তখন বুঝতে বাকি থাকে না। সারা জীবন জীব বিজ্ঞান পড়ে দিন শেষে আদম হাওয়া তত্ত্বে বিলীন হয়ে যাওয়া। অথবা ডারউইন সাহেবের বিবর্তনবাদ নামেও কিছু একটা আছে এটা অস্বীকার করা। আপনারা বিজ্ঞান শুধু মুখস্থ করে গেছেন, আর মগজে মননে পৃথিবী চ্যাপ্টা, তালা সদৃশ্য। দিন শেষে পাহাড়ের পাশে লুকিয়ে যায় সুর্য্য, ব্যালিস্টিক মিঝাইলের কথাও নাকি ঐসব কিতাবে লিখিত থাকবে, এমন দাবিও করতে পারে ওরা। এসব সেই ধর্মীয় কিতাবি স্ট্যান্ডার্ডগুলোর উপর ভিক্তি করে ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখা দাড় করানো সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের পাবলিকদের মাদ্রাসার বা মন্দিরের ভক্তদের বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণার সাথে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। তালগাছটা তাদের, আর বিমান চালাতে হলে উড়তে জানতে হবে। প্রাতিস্টানিক পড়াশোনার বাইরে যতটুকু পেরেছি বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার, পড়ছি জানছি, এবং বিবেচনা করছি। কমন সেন্সতো আছে।

আইনস্টাইনের প্রয়ান দিনে লিভিং লিজেন্ড বায়োলজিস্ট রিচার্ড ডকিন্সের ‘দি গড ডিল্যুশন বইটির কিছু কথা এখানে নিয়ে এসেছি। অতি উৎসাহের সাথে আইনস্টাইনের যে উদ্বৃতি ধার্মিক বিজ্ঞান মনস্করা দেন সেটা হচ্ছে- ‘বিজ্ঞান ধর্ম ছাড়া পঙ্গু,
আর ধর্ম বিজ্ঞান ছাড়া অন্ধ।’ কিন্তু একথা বলেন না যে, উনি আরো বলেছেন: “আমার ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে আপনারা যা পড়ে থাকবেন তা অবশ্যই মিথ্যা। এই মিথ্যা বারবার একই ভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। আমি কোন ব্যাক্তিগত ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না এবং আমি কখনোই এই কথাটা অস্বীকার না করে বরং সুস্পস্টভাবে উল্লেখ করেছি। যদি আমার মধ্যে এমন কিছু থেকে থাকে যেটাকে আপনার ধর্মবোধ বলেন, সেটা বিজ্ঞান যতটুকু উন্মোচন করেছে সেই মহাবিশ্বের গঠনের প্রতি আমার অসীম মুগ্ধতা।”
মনে হতে পারে আইনস্টাইনের বক্তব্য দুটি স্ববিরোধী। কিন্তু সাধারণত ‘ধর্ম’ বলতে ‘অতি প্রাকৃত’ যে বিষয়টিকে বোঝানো হয় উনার ক্ষেত্রে সেটা ‘ব্যাক্তিগত কোন ঈশ্বরে অবিশ্বাস’ করার মতই একটা অন্য রকম ধর্ম। প্রকৃতির যা কিছুতে আইনস্টাইন মোহিত হতেন সেটা অবশ্যই প্রকৃতির ঐ অসাধারণ গঠনের জন্য যা প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষকে নম্র হতে বাধ্য করে। ব্যাপারটা
বিশ্বাসীদের কাছে ধর্মীয় একটা অনুভূতি। কিন্তু, এক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত ঈশ্বরের ধারনাকে আইনস্টাইন স্রেফ ছেলেমানুষি হিসেবে দেখেছেন।
দুজন বিশপ আইনস্টাইনের ঈশ্বর অবিশ্বাসের সমালোচনার জবাবে বলেছিলেন, আইনস্টাইন যেহেতু ধর্মীয় তত্ত্বে প্রশিক্ষিত নয় সুতরাং ঈশ্বর সম্বন্ধে তার ধারণা ভ্রান্ত। কিন্তু আইনস্টাইন খুব ভালোভাবেই জানতেন ঠিক কোন বিষয়টিকে তিনি অস্বীকার করেছেন। ভাগ্যিস, আইনস্টাইন পাইলট হতে চাননি।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

শেয়ার করুন
  • 30
    Shares
error: Content is protected !!