Home / অনন্যা / নারী তুমি জেগে ওঠো- পর্ব–১ ।। জিহাদ আরিফ

নারী তুমি জেগে ওঠো- পর্ব–১ ।। জিহাদ আরিফ

জিহাদ আরিফ ঃ
দেহ ছাড়া নারীদের যে আরও কিছু আছে এই জ্ঞান বাঙ্গালী পুরুষদের আগেও ছিলনা, এখনও হচ্ছে না। যুগে যুগে বহু মুনি-ঋষি নারীদের নিয়ে পক্ষে অথবা বিপক্ষে বাণী দিয়েছেন। তার ভেতর কিছু বাণী তিক্ত ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এর মধ্য জার্মানির লেখক দ্য জোই লিখেছিলেন “নারী না থাকলে আমার জীবনের প্রারম্ভে অসহায়, মধ্যভাগে নিরানন্দ এবং শেষ ভাগে সান্তনাহীন”। লেখাটাতে যে অন্যরকম এক যৌনতার সুরসুরি আছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখানে নারীকে যথেষ্ট!!  গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক কথায় বললে যেটা দাঁড়ায় সেটা হচ্ছে নারীকে প্রতিটা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পুরুষের খুউউউউউউউব-ই দরকার। আসলেই নারী পৃথিবীতে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবশ্য সেটা পুরুষের প্রয়োজনে! পৃথিবীর রন্ধে রন্ধে এমন হাজারও বাণী পাওয়া যায়। যেখানে নারীকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে পুরুষের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। পুরুষ নারীকে খুশি করতে মুখে যা খুশি বললেও তারা তাদের ভেতরের হিসাব নিকাশ মিলিয়ে নিয়েই কথা বলে। যাই হোক সমাজটাকে আমরা বার বার দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলছি। একটা পুরুষ সমাজ, আর একটা নারী সমাজ। এই বিভক্তটা যতটা না পুরুষ করছে তার থেকে বেশি করছে নারী। নারী মুক্তির নামে অনেকেই বাণিজ্যিক সংগঠন খুলে বেশ ব্যবসা সফল হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তারা শতাব্দীর শেষ সীমানায় দাড়িয়ে নারীর কতটুকু আত্মিক উন্নতি করতে পেরেছে সেটা তারা তাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করেই দেখুক। হ্যা আমি এটা মানি যে যারা নারী নিয়ে লোক দেখানো আন্দোলন করে গলা ফাটায়, তারা খুব ব্যবসা বোঝে এবং ব্যবসা সফলও বটে। সাধুবাদ জানাই ব্যবসায়ী নারীবাদীদের। সারা পৃথিবীটা যদি নারী এবং পুরুষেরই হয়, তবে অধিকারের জন্য নারী কেন বার বার পুরুষের কাছে ধর্না দিবে? নারী কি কোন এক কালে পুরুষের কাছে তাদের অধিকার জমা রেখেছিল? লৌকিক নারীবাদীদের শ্রবন শক্তি এতটাই ক্ষীণ যে বাংলার ঘরে ঘরে নারীদের চার দেয়ালে চাপা পরা কান্না তাদের কানে যায় না। নারী যে এখনও পুরুষের কাছে নীরবে নিভৃতে শুধুমাত্র যৌনদাসী অথবা ঘরের কাজের মানুষ অথবা সন্তান জন্ম দেওয়ার মেশিন, এটা তাদের চোখে পরেনা। তাদের দৃষ্টিকোন থেকে নারীদের খুব উন্নতি হচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে নারী। তার মানে তারা ধরেই নিয়েছে যে নারী একটা পেছানো প্রজাতি। তাই তো আমাদের রাষ্ট্রে নারীকে এগিয়ে নিতে আলাদা করে মন্ত্রণালয়ও করা হয়েছে। পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় নারীদের জন্য রাখা হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন। এটাতে নারীকে বড় করা হয়েছে নাকি করুনা করে ছোট করা হয়েছে? সেটা নারীবাদীরা! একটু ভেবে দেখবেন। নারীকে অবশ্যই পুরুষের সমান তালে দৌড়াতে হবে। এটার কোন বিকল্প হতে পারে না। অনেকেই নারীর প্রকৃতি প্রদত্ত গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, পুরুষের গঠন অনুযায়ী নারী তার সাথে সমান তালে দৌড়াতে পারবে কি? সেটার এক কথায় জবাব হচ্ছে, অবশ্যই পারবে। আর এর জন্য দরকার নারী সহ সকলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। আর কঠোর ভাবে নারীবাদীদের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। কথিত নারীবাদীরা আমার সাথে একমত হবেন এই ভেবে যে, সুশ্রী নারী যতটা না এগিয়ে কুশ্রী! নারী তার থেকে হাজার গুন পিছিয়ে। কুশ্রী! নারীদের কদর সমাজে একাবারেই তলানিতে। তার মানে আমরা আসলে সুশ্রী নারীকেই নানা পদে ব্যবহার করতে পছন্দ করি। আমরা আসলে সুন্দরের পূজারী। সেটা আম-জনতা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত সমাজ পর্যন্ত। তাই তো এখনও অফিস গুলোতে নারী পি,এস হিসাবে কুশ্রী! নারীদের জায়গা হয় না। আমাদের কবি সাহিত্যিকরাও খুবই সুন্দরের পূজারী। তাই তো তাদের কবিতা ও লেখাতে বার বার ফুটে উঠেছে বর্নবাদের চিত্র। তারা নারীর সৌন্দর্যে পাগল হয়ে কবিতা লিখতে বাধ্য হয়েছে।চলবে………

Comments

comments

Check Also

তিন তালাক ও কিছু কথা ।। ফারজানা কাজী

ফারজানা কাজী: ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মুসলমানদের তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে এই বছরের …