Home / গল্প অথবা উপন্যাস / চর্মপ্রেম ।। জিহাদ আরিফ

চর্মপ্রেম ।। জিহাদ আরিফ

জিহাদ আরিফ:

ওদের প্রেম খুব বেশি দিনের না। তবে সম্পর্কের গভীরতা সেই স্বল্পতাকে পূর্ণ করে দিয়েছে। চলছে তাদের মিষ্টি/ পানসে প্রেম। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তারা এখন আর কেউ কাউকে চিঠি লেখার প্রয়োজন মনে করে না। তার বদলে ওরা এখন রাত জেগে ফোনে কথা বলে। ফেসবুকে চ্যাট করে এবং ধারাবাহিকভাবে ইমুর সঠিক/বেঠিক ব্যাবহার করতেও ওরা কার্পণ্য করেনা। চলছে ওদের প্রেম। এর মধ্য কেটে গেছে অনেকগুলো সুকান্তের পুর্নিমা আর সুনীলের অমাবশ্য দিনে দিনে ওরা অজান্তে কাছে এসে নিজেরা নিজেদের চিনে নিচ্ছে। ওদের জন্য তৈরি হচ্ছে এক বিশাল কল্পনার পৃথিবী। হঠাৎ একদিন ছেলেটা তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে, কিন্তু মেয়েটা সামাজিক বাধায় পিছু হটে। তিলে তিলে অনুশীলনের সেই ভালোবাসার কাছে হার মেনে যায় সকল পিছুটান। মানব সভ্যতার সব থেকে সম্মনিত শিক্ষক মা- নারী অথবা সেই মেয়েটি ধরা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করে ছেলেটার কাছে। ছেলেটা অবশ্য তখন আর ছেলে ছিল না, হয়ে উঠেছিল একজন পুরুষ!!! ব্যাস… সময় সুযোগ মতো তারা নির্জন জায়গার সন্ধান করতে থাকে।

এবং একদিন চলেও আসে সেই সুযোগ। নির্জন পল্লীর ঘন আধারের জঙ্গলে তারা নিজেদের পরতের ভাজে ভাজে লুকিয়ে থাকা ভালবাসার সন্ধান করছিল। তাদের এই ভালবাসায় ক্ষণিকের জন্য মুগ্ধ হয়ে উঠেছিল বাদাবনের ক্ষুদ্র প্রাণীকুল। সব কিছু হয়তো ঠিক ঠাক মতোই শেষ হতে পারতো, কিন্তু বাধ সাধলো জঙ্গলের পক্ষীকুলের আর্তচিৎকার। পুরো মুহূর্তটাকে ওরা প্রকৃতির নিয়ম বলে চালিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই মেয়েটা আবিস্কার করলো তিন জন লোক হেটে আসছে আর চলন্ত অবস্থাতেই তাদের হাতে থাকা মুঠো ফোনে ওদের পুরো বিষয়টা ক্যামেরাতে ধারন করছে। ব্যাস! মেয়েটার আচমকা ধাক্কায় ছেলেটা ছিটকে পড়লো। ততখনে লোকগুলো চিৎকার-চেচামেচি শুরু করে দিয়েছে। ছেলেটা লাফ দিয়ে উঠে নিজেকে গুছিয়ে নিতে শুরু করল। এবং সে সক্ষম হলো। কারন সাগর পাড়ি দিতে তাকে খুব বেশি জলে নামতে হয়নি অথবা পুরুষেরা প্রকৃতির দানে কাপড় বাঁচিয়ে সাগর পাড়ি দিতে সক্ষম। ইতিমধ্য ছেলেটা নিজেকে সামলে নিতে পারলেও তার শার্টের কলার এখন লোকগুলোর দখলে। সদ্য হারানো শার্টের কলার দখলের প্রক্রিয়ার মধ্যই ছেলেটা নিজেকে পুরো আবৃত করতে সক্ষম হলো। লোক গুলো ছেলেটার ওপর উত্তম-মাধ্যম অব্যাহত রাখলেও তার এই বস্ত্র পরিধানের কর্মযজ্ঞে কোন বাধ সাধল না।

কিন্তু উল্টোটা হলো মেয়েটার ক্ষেত্রে কোন রকম উত্তম-মাধ্যম না দিলেও পরিধান করতে দেওয়া হলো না তার বস্ত্র। তারপর! তারপর!!………… মেয়েটাকে বলা হলো তার এই সকল কর্মকাণ্ডের প্রামান্যচিত্র তাদের হাতে আছে। সে যদি নিজেকে পুরুষ গুলোর দখলে না দেয় তবে প্রযুক্তির সুফল সে এবং তার পরিবার পেতে শুরু করবে। আর যদি সে নিজেকে ঐ পুরুষদের কাছে বেদখল করে, তবে তারা প্রামাণ্যচিত্রটি এখানেই যবনিকাপাত করবে। ছেলেটা তখন সেখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচে। অতএব সে স্বাভাবিক ভুমিকায় থাকাকেই সঠিক কৌশল মনে করছিল। চির চেনা সেই ছেলেটাকে মেয়েটার কাছে খুব অচেনা মনে হচ্ছিল। মেয়েটা দেখলো তিনটা নয়, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে জলজ্যান্ত ৪টা পুরুষ। মেয়েটি তার কথা রেখেছিল।

কিন্তু কথা রাখেনি ঐ পুরুষ গুলো! প্রযুক্তির দাপটে তাদের সেদিনের সেই প্রামান্যচিত্রটি এখন সারা পৃথিবীর পুরুষদের সুখের! রস গড়ানোর এক মোক্ষম দাওয়াই হয়ে উঠেছে।ইন্টারনেট দুনিয়াতে এখন সার্চ করলেই পাওয়া যায় সেই ভিডিওটি। পুরো পৃথিবীর জালে আটকা পড়েছে মেয়েটির লজ্জাজনক সম্মান! ছেলেটি এখন মেয়েটিকে না চিনলেও সেও এখন নিয়মিত ভাবে সকাল-বিকাল সেই প্রামান্যচিত্রের সুফল নিতে ভুল করে না। আর মেয়েটি খানকি!! উপাধি নিয়ে– কোন এক চান্নি পসর রাইতে বুড়ো তেতুল গাছের সাথে ঝুলে ওপারে পাড়ি দিয়ে আমাদের সবাইকে মুক্তি দিয়েছে
অতঃপর ছেলে নামের সেই পুরুষ ও অন্যরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল। অনুগল্পটি শেষ হলো।

Comments

comments

Check Also

আবারো হিমু

আরাফাত এইচ রাশেদ : কেমন আছেন?ভালো আছেন? হ্যাঁ ভালো। আমাকে চিনছেন? না। কি বলেন সত্যি …