Home / গবেষণা / ” ধর্ষণ”- এবং সমাজের করণীয় ।। সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত

” ধর্ষণ”- এবং সমাজের করণীয় ।। সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত

সাজ্জাদ হোসেন সাখাওয়াত:
বর্তমান সময় নিত্যদিনের বিষয়” ধর্ষণ”।
আমাদের সমাজে এটি এখন মারাত্মক রূপ নিয়েছে এই ধর্ষণ নামক বিষয়টা। প্রতিদিন পত্র পত্রিকায় টেলিভিশন রেডিও তে অন্যসব খবরের মতো প্রকাশ হচ্ছে। অপরাধী ধরা হচ্ছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, বিচারকের থেকে কারাগার পর্যন্ত নেওয়ার পরে ও কমছে না। বরং বেড়ে যাচ্ছে। মানব বন্ধন করা হচ্ছে তবুও কোন লাভ হচ্ছেনা।
যত মানব বন্ধন তত ধর্ষণ একটি প্রতিযোগিতা চলছে।
আইনি ব্যবস্থা বাহিরে যে সব কাজ করতে হবে।
#নারীর_করণীয়ঃ
বর্তমানে অশিক্ষিত নারীর সাথে শিক্ষিত নারী (ছাত্রী /কর্মচারী /শিক্ষিকা /জনপ্রতিনিধি) সবাই
এই ব্যাধির শিকার। অশিক্ষিত নারী না বুঝে চলে যায় কিন্তু শিক্ষিত মহিলা কেন এই ফাঁদে আটক হচ্ছে। নিচে মূল আলোচনা দেওয়া হলঃ

ধর্ষণের বেশি শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় দেখা যায় চলার পথে তারা বন্ধু নির্বাচন করতে ভুল করে।মনে রাখা দরকার স্বার্থের পৃথিবীর হচ্ছে give and take। তা’হলে একটা বন্ধু আমাকে কেন সাহায্য করে এত, যেখানে অন্য অনেক মেয়ে পড়ে আছে।ধীরেধীরে এমন ফ্রি হয় দুজন তখন ছেলেটি মেয়েটিকে অনুরোধ করে কোন এক স্থান/বাসা/হোটেল/বা ঘুরতে যাবে বলে। মেয়েটি না বুঝে বা বন্ধুর করুণ রিকুয়েস্ট রাখতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়।শিকার হয় ধর্ষণের।হয় যায় ধর্ষিতা। তাই অবশ্যই মেয়েদের উচিত বন্ধু নির্বাচনে একটু সর্তকতা অবলম্বন করা আর বন্ধুর অনুরোধে একা কোথাও না যাওয়া।

প্রলোভন /লোভ। অনেক সময় মেয়রা লোভে পড়ে যায়। লোভে পড়ার কারন অাছে পরিস্হিতি অনেক সময় লোভে পড়ার জন্য বাধ্য করে।
উদাহারনঃ একটা কলেজের খুব ভাল সুন্দর একটা মেয়ে। তাকে ইভটেজিং করে পড়া/মহল্লার/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তখন সে মনে করে এমন একজনের সাথে বন্ধুত্ব করবে যাকে সবাই ভয় পাবে। কিন্তু দেখা গেল সে বন্ধুর ধর্ষণের শিকার হল মেয়েটি।
এই ছাড়া অনেক রকম লোভ রয়েছে
পরীক্ষার নাম্বার বেশি দিবে বলে শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয় ছাত্রী বা প্রাইভেট একটু বেশি বুঝিয়ে দিবে বলে প্রতিষ্ঠান ছুটির পরে মেয়েটি ধরা পড়ে ওই নরপিশাচের হাতে।
চাকরীতে পদ উন্নতি করিয়ে দিবে বলে উচ্চ পদের ব্যক্তির হাতে আটক হয় নারী। বুঝতে হবে আমার যোগ্যতা আমাকে উন্নতি করবে। তাছাড়া অনেক সময় বাড়তি কাজের চাপের কারনে নারীকে আটকে রাখে কর্ম ক্ষেত্রে। বুঝতে হবে সবাই যখন চলে গেলো আপনার জন্য বিপদ আছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ঃ
ফেসবুক অনেক মেয়ের ইনবক্স আসে টেলিভিশন নাটকের জন্য নতুন মুখ দরকার। আপনি হতে পারেন আগামী দিনের এই দেশের গুনি অভিনেত্রী। আজি যোগাযোগ করুনঃ (নাম্বার)। না বুঝে বা লোভে পড়ে কল দেয় তারপর একটু একটু কথা। একপর্যায় দেখা করা এর পর আজ রাতে সুটিং আছে কিংবা সুটিং করতে হলে অনেক টাকা দিতে হবে । তোমার কাছে যদি টাকা না থাকে অন্য কিছু দিয়ে পুষিয়ে দাও।কিন্তু সবকিছু দেওয়ার পর নারী বুঝলো সে ফাঁদে পড়েছে।
ফেসবুক নারী/মেয়েরা ছেলেদের ফাঁদে পড়ে।বিশেষ করে বিবাহিত মহিলার। বিবাহিত মহিলার সাথে যদি কোন ভাবে একটা ছবি বা সামান্য ইস্যু পায় তখন তাকে ব্লাগ মেইল করে। কিন্তু নারী ধৈর্য ক্ষমতা কম না বুঝে ফাঁদে পড়ে যায়। বুঝতে হবে যা হয়ে গেছে তা শেষ সামনে মহাবিপদ।
ফেসবুকে ছেলেদের মায়াবী কথার ফাঁদে পড়ে নারী ধর্ষণ হয়।

পোশাক ;ড্রেস। নারীর পোশাক দেখা যায় ছেলেদের আগমনী বর্তা দিয়ে যায়।আসো আমাকে উত্তপ্ত কর। বর্তমানে অাধুনিকতা নামে ড্রেস যে ব্যবহার তা থেকে ফিরে আসতে হবে। না হয় ভবিষ্যৎ আরে ভয়াবহতা দেখা যাবে।

ধর্ম ভুলে যাওয়া।সব ধর্মের নারীর পর্দা বিষয় কম বেশি বলা আছে। আজ থেকে ২০ বছর আগে নারী পড়াশোনা করত /চাকরি করতো। কিন্তু তখন এমন নিউজ খুজে পাওয়া যেতনা।কারন তারা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল।কিন্তু আমাদের বর্তমান ধর্ম কে অতিরিক্ত বিষয়ের মতো দেখে নারী সমাজ। যদি ধর্ম প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায় তখন এমর ধর্ষণ কমবে।

নিজেকে নিজে সর্তকতা করার মনোভাব তৈরি করা। নিজে যদি সর্তক থাকে তখন কোন নারী ধর্ষণ শিকার হবে না। পরিস্হিতি পড়ার আগে যদি পরিস্হিতিতে না যাওয়া যায় তখন এমন ঘটনা জন্ম দিবেনা।
সমাজের_করণীয় ঃ

প্রত্যক মেয়েকে নিজের মেয়ে বা নিজের বোন মনে করে খোঁজ খবর নেওয়া।কোথায় যাচ্ছে /কি করছে/ কার সাথে চলাফিরা করে সব বিষয় নিজের মেয়ে বা বোনের মতো খোঁজ নিতে হবে।তা’হলে মেয়ে বা নারী জানাজানি হওয়ার ভয়ে কিছু করবেনা

আদি প্রথা বাতিল করা। বর্তমানে কোন মেয়ে কে ধর্ষণ /ইভটেজিং শিকার হলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয় তাড়াতাড়ি করে। বিয়ের ভয়ে মেয়েটি ইভটেজিং শিকার হওয়ার পরেও কিছু বলে না পরিবার আর সমাজ কে।পরে এই ইভটেজিং ধীরেধীরে ধর্ষণ পর্যন্ত নিয়ে যায়। তাই সমাজ পরিবার এমন প্রথা বাদ দিতে হবে।

মানসিক চাপে রাখা। এটা একটি বড় সমস্যা।কেননা চাপে পড়ে সে তার চাপকে কমানোর জন্য বন্ধু খুজে।তখন তার বিভেক থাকে অন্য রকম তাই কিছু বুঝেনা পরে ধীরেধীরে খারাপ পথের পথিক হয়।তাই চাপমুক্ত রাখা দরকার নারীদের।

বন্ধুর মতো আচারন করা। পরিবার সমাজ যদি নারীর সাথে বন্ধু সুলভ আচার করে তখন সে নিজেকে বাড়ীতে সময় দিতে চাইবে।অন্যথা সে বন্ধুর সাথে সময় পার করবে আর দিনেদিনে খারাপ পথে গিয়ে ধর্ষণ মতো ঘটনা জন্ম দিবে।

Comments

comments

Check Also

আত্মহত্যা একটি সৃষ্টি এবং কেনো করি?

শতাব্দী সানজানা: আমি মনে করি আত্মহত্যা একটি রোগ। ইন্টারনেট ঘাটতে গিয়ে দেখলাম আমার ধারণা ঠিক। …