Home / ধর্ম ও দর্শন / “গণতন্ত্র ও ইসলাম ধর্ম” ।। মোর্শেদ হালিম

“গণতন্ত্র ও ইসলাম ধর্ম” ।। মোর্শেদ হালিম

মোর্শেদ হালিম:
গণতন্ত্র হল একটি ইহজাগতিক ব্যবস্থা। যা মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জগতে মানুষের জীবন যাপন কেমন হবে তা বহিঃবিশ্ব থেকে কেউ এসে ঠিক করে দিয়ে যায় না বা কাউকে দিয়ে করায় না। বরং মানুষই স্বাধীন মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করে সামাজিক আইন-কানুন, নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। মূল্যবোধের ভিন্নতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে তা অন্য জায়গায় করব। আমরা এখানে ধর্মের সাথে গণতন্ত্র যায় কি-না তা বুঝার চেষ্টা করছি। আমরা জানি গণতন্ত্র বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে না। এইটি একটা বস্তুগত ব্যবস্থা। অবস্তুগত আলোচনা গণতন্ত্রের আলোচ্য বিষয় নয়। অপর দিকে ধর্মের মূলে অবস্তুগত অালোচনা। সাধারণ সহজ সরল মানুষ গুলো ততটুকুই দেখতে পারে যতটুকু তার সমাজ দেখতে দেয়। তাই আমরা দেখে থাকি যে, আরবীয়দের ধর্মীয় আচরণ আর আমাদের সহ বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন দেশে ধর্মীয় আচরণের পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ সমাজ বিকাশের সাথে সাথে ধর্মীয় দার্শনিকদের স্বাধীন চিন্তা চেতনা ধর্মের মূল নীতিকে বিভ্রান্ত করেছে।
অাবির্ভাব হয়েছে খারিজি, শিয়া, ওহাবি, কাদিয়ানি, মুরজিয়া, জাবরিয়া, মুতাযিলা, আশারিয়া, বারোপন্থী, সাতপন্ধী, যায়েদি ও ইমাম সম্প্রদায়ের। এছাড়াও বাবিবাদ, সুফিবাদ ও দার্শনিক আল কিন্দি, আল ফারাবি, আল গাজালি, জালালউদ্দিন রুমি, ইবনে খালদুন এবং দার্শনিক আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের স্বাধীন চিন্তা চেতনার প্রভাব রয়েছে। আমরা সাধরণেরা খুব কমই চিন্তা করতে পারি। আমাদের অজ্ঞতাবসত কোন না কোন ভাবে আমরা দার্শনিকদের চিন্তার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি। আসুন বুঝতে চেষ্টা করি ধর্ম কি? ধর্মকে বুঝতে হয় ধর্মের মত করে। আমাদের মত করে ব্যাখ্যা করলে ভিন্ন অর্থ হয়ে যাবে। খুব সহজ কথায় “জগৎ এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি। কেউ না কেউ জগৎ সৃষ্টি করেছেন। এখানে ধার্মিকদের বক্তব্য হল- বিমূর্ত নিরাকার ঈশ্বর জগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষের ভালো-মন্দ, দায়িত্ব-কর্তব্য, পালনীয়-অপালনীয় সম্পর্কিত নীতিমালা প্রেরণ করেছেন।
তা বিশ্বাস করা প্রত্যেক ধার্মিকের জন্য আবশ্যক।” সেক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক আইন তৈরির কোন অধিকার নেই। ধর্ম মতে, ঈশ্বরই জগতের নিয়ন্ত্রক, তিনিই মালিক, তিনিই কর্তা। উনার হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না। তাহলে আমরা বলতেই পারি ধর্ম আর গণতন্ত্র পরস্পর বিপরীত। ধর্ম ইহজগত কে অবিশ্বাস করে পরজগত কে ধারণ করলেও গণতন্ত্র শুধু ইহজগতকেই লালন করে। গণতন্ত্র জগৎকে বিশ্বাস করে, মানুষকে বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে না যা নেই এমন নিরাকার বস্তুতে। তাই একজন ধার্মিক ও একজন গণতন্ত্রী সহাবস্থান হতে পারে না। ধর্ম মাত্রই রক্ষণশীল তা পরিবর্তন পরিবর্ধনের অধিকার নেই। ধর্মের উদারনীতি টুকু ধর্ম নয়, দর্শনিকদের প্রভাব। এইদিকে গণতন্ত্র বস্তুর বিকাশে বিশ্বাসী তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হয় ভুতের সাহিত্যকে গণতন্ত্র অনুমোদন করে না। কারণ তা অবস্তুগত। এছাড়াও আমরা অনেকের কাছে শোনে থাকি ধর্ম ব্যক্তিগত। এবং ব্যক্তিজীবনে তা চর্চার অনুমোদন গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রথমত, ধর্ম ব্যক্তি নয় বরং পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে ধর্মকে শিশুকালে আমাদের মগজে সুকৌশলে পৌঁছে দেওয়া হয়। ভালো-মন্দ যাচাই বাচাই এর পূর্বেই আমরা ধর্মকে সামাজিক সংস্কৃতির মত আত্মস্থ করে ফেলি। এর থেকে মুক্ত হয়ে ধর্ম গ্রহণ খুব কম মানুষই পারে। দ্বিতীয়ত, বিমূর্ত পরজগত চর্চাকে গণতন্ত্র অনুমোদন করে না। কারণ গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হচ্ছে মানুষের ক্ষমতায়। সেখানে ধর্ম ঈশ্বরের একক ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।

Comments

comments

Check Also

ধর্মে আমাদের দ্বৈত আচরণ, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ

মোর্শেদ আলম সাকিল : মৃত ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করলেই চারপাশের পরিবেশ বলে দেয় যে, এই …