Home / অনন্যা / ‘পুঁজিবাদে নারী পণ্যায়ণ’।। সুদর্শনা চাকমা

‘পুঁজিবাদে নারী পণ্যায়ণ’।। সুদর্শনা চাকমা

সুদর্শনা চাকমা:

যে পণ্যসামগ্রীগুলো ছাড়া আমরা প্রায় অচল সেগুলোর সাথে পরোক্ষভাবে নারীকে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। অত্যন্ত চাতুরতা দিয়ে এ কাজটি করে যাচ্ছে পুঁজিবাদী চক্র। আমরা নিজেদের সচেতনতার যে বুলি আওড়িয়ে যাচ্ছি সেটাকে কৌশলে হাতিয়ে নিয়েই কিন্তু এই চক্রটা নারীদের এভাবে পণ্যায়ণ করে যাচ্ছে। আমাদের এটা স্মরণ রাখা উচিত যে আমরা সচেতন বটে কিন্তু এই সচেতন জায়গাটা আমাদের মধ্যে ঠিক কোথায় আছে। নিজেকেই যদি নিজের মধ্যে রাখার চেতনাটা না খুঁজে পায় তাহলে এই সচেতনতা এভাবেই হতে থাকবে। আমাদের সামনে যখনই এই চাতুরতা চোখে পড়বে তখনই আমাদের সেটাকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। এটা বরাবরই সত্য প্রতিরোধ, প্রত্যাখ্যান আর পদক্ষেপই আমাদের মুক্তি। যে যোগ্যতা দিয়ে প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজেকে দাঁড় করাতে পারি সে যোগ্যতা দিয়ে কি এই পুঁজিবাদীদের নারী পণ্যায়ণের চাতুরতা প্রত্যাখ্যান করতে পারিনা?

নাকি আমাদের তাদের করুণার পাত্রী হয়ে যোগ্যতার জলাঞ্জলী দিয়ে চাতকের মত তাদের করুণার ফসলের প্রতীক্ষায় থাকতে হবে। এমনভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রতি শতাব্দীকালের প্রহসন থেকে মুক্তি নেই। আমাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে প্রতিটা মূহুর্তে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রাখতে হবে। যেখানেই হোকনা কেন আমাদের ন্যূনতম মৌলিক শক্তিগুলোই হতে পারে আমাদের জন্য পরিবর্তন। কোথায় শিল্প সংস্কৃতি আর কোথায় পণ্য। দুঃখজনকভাবে শিল্প সংস্কৃতির সম্ভাবনাময় এই গৌরবকে কিনা আজ পুঁজিবাদীরা ব্যবহার করে যাচ্ছে পণ্য হিসেবে। আর এখানে খেয়াল করলে দেখা যায় শুধুই নারীদের সংস্কৃতিকে লক্ষ করে এটা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় কয়েকটা দেশ মিলে এই আগ্রাসনকে অগ্রসর করে নিয়ে যাচ্ছে।

সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করার প্রবনতা কখনো পণ্যায়ণ হতে পারেনা। এই অশোভনীয় পণ্যায়ণ থেকে মুক্তির জন্য শিক্ষার যথাযথ মূল্যবোধ থাকা আবশ্যক এবং বিকৃত চেতনা থেকে উত্তরণ জরুরী। সামান্য একটা আত্মবিশ্বাস কিন্তু ইচ্ছে করলে এই পুঁজিকে নিমেষেই সমাপ্ত করে দিতে পারে। শুধুমাত্র একটা প্রত্যাখ্যান, প্রতিরোধ আর পদক্ষেপ দিয়ে আমরা এটাকে ব্যর্থ করে দিতে পারি। আমি তাদের কথা বলছি যারা নিজে যোগ্যতাসম্পন্ন হবার পরেও এই পণ্যায়ণকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। আমরা সামর্থ্য থাকলেই কিন্তু সবকিছু করতে পারিনা। আমাদের সামর্থ্য আছে রাস্তার পাশে বসে মলমূত্র ত্যাগ করার। কিন্তু আমরা তা পারিনা। কারণ এটা মানবিক পরিপন্থি কাজ। আমরা মানুষ। আমাদের সামর্থ্য আছে চিন্তা চেতনা বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে কাজ করার। সেই আমরাই কেন এভাবে নিজেদের পণ্যে বিকিয়ে দেব?

একটা সংস্কৃতি শিল্প সভ্যতার বিকাশে যথেষ্ট অবদান রাখে। আমাদের সে সংস্কৃতিকে হতে হবে মানববান্ধব, চেতনাসমৃদ্ধ, সামাজিক অবস্থানসমূহের অগ্রগতিবান্ধব ও সর্বোপরি পরিবেশবান্ধব। যেখান থেকে পরিবর্তন আসবে আমাদের জীবনধারা। যা দেখে আমরা শিখতে পারবো মেধা বিকাশের প্রসারিত ধাপগুলো। আর যেখান থেকে আমরা পাবো এগিয়ে চলার অফুরন্ত স্বপ্নের প্রয়াস। আমরা চায়না আমাদের এই অপার সম্ভাবনার মঞ্চকে পণ্যায়ণের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হোক। আমাদের বোধবুদ্ধি, চেতনা, মেধা আর যোগ্যতা দিয়ে আমরা এটাকে প্রতিরোধ করতে পারবো এটাই হোক আমাদের পথচলার অঙ্গীকার। রাস্তায়, মাঠেঘাটে, প্রতিবাদী মিছিলের পাশাপাশি আমরা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে প্রতিটা পদক্ষেপে একটা নিরব প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। এটাই আমাদের পরিবর্তনের দ্বার খোলার একটা চাবিকাঠি। সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস আর আত্মপ্রত্যয় হোক আমাদের এগিয়ে যাবার অঙ্গীকার।

লেখক: লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ।

Comments

comments

Check Also

পরিবার ও নারীর পিছিয়ে পড়া ।। ফারজানা কাজী

ফারজানা কাজী: নারীর পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে তার পরিবার। একই পরিবারে একটি ছেলে আর …