Home / অনন্যা / নারী মুক্তির সাথে সকল মানব মুক্তি জড়িত ।। নাদিয়া জান্নাত

নারী মুক্তির সাথে সকল মানব মুক্তি জড়িত ।। নাদিয়া জান্নাত

নাদিয়া জান্নাত:

মার্ক্স নারীর মর্যাদার ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে বলেছেন, যেভাবে মানুষ দেবতাকে নারীর রুপে দেখেছে তাতে সন্দেহ নাই। নারীর অতীত উজ্জ্বল ছিলো ইতিহাসের সূচনা লগ্নে। কিন্তু নারীর অবস্থা স্থানচ্যুত হয়েছে লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রম বিভাজনের জন্য। ফ্রেড্রিক এঙ্গেলস তার “পরিবার ব্যক্তিগত সম্পত্তিই” বইয়ে বলেছেন, ঘর সংসার সামলানোর কাজে যেদিনই নারীকে পাঠানো হয়েছে সেদিনই শ্রেনীগত ভাবে তার বড় পরাজয় ঘটে যায়।” নারীর মুক্তি ও স্বাধীনতায় আর্থিক নিরাপত্তা জরুরী। এবং এই অার্থিক নিরাপত্তা নারীর মুক্তিতে একটি অংশমাত্র। নারীর ইচ্ছা অনিচ্ছার মর্যাদা নারী স্বাধীনতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

জন্মলগ্ন থেকে অভ্যাসবশত নারী বাঁধা পড়ে দাসত্বশৃঙ্খলে। চিন্তার চৈনতা, দৃষ্টিভঙ্গির অস্বচ্ছতা বশত নারীর সামনে তৈরী হয় একটি অন্ধকার পথ। এই পথে হাঁটা মোটেও সহজ কথা হয়। তবু ও পথ হেঁটে নারী যখনি কাঁধে তুলে নিতে চেয়েছে গুরুদায়িত্ব তখনি তার সামনে ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে প্রশ্ন। -পারবেন তো? – ঘর সংসার তো আছে! সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। – মাঝ পথে ছেড়ে যাবেন নাতো! – এটা অবশ্য পুরুষের কাজ! এই ছাড়া ছাড়া বাক্য গুলো প্রতিনিয়ত নারীর পায়ে শেকল হয়ে বাজছে। নারী হয়তো মেনেও নিচ্ছে অভ্যাসবশত।

এই দৈন্যতা, এই অসুস্থতা কম বেশি প্রতিটি নারীকেই সহ্য করতে হয়, যা পীড়াদায়ক। নারী ভালো মা হবে, ভালো স্ত্রী হবে, নতজানু হবে নারী, নারী শ্রমদান করবে সংসারে এই ধারণা থেকে মুক্তি না পেলে সমাজ কখনোই মুক্ত হতে পারবে না। তবে আশার কথা এই যে, পুরুষ বুঝতে পেরেছে নারী মুক্তি ছাড়া মুক্তি অসম্ভব, তবে এমন পুরুষ সংখ্যায় কম। ইতিহাস বিকাশের সাথে সাথে নারীকে পুরুষ তার পুঁজি স্বার্থে, শ্রেণী স্বার্থে ব্যবহার করছে। এই ব্যবহার এখন বেশ দাপুটে এবং উজ্জ্বল। পুঁজি ঠিক করে দিচ্ছে নারী কিভাবে হাসবে, কথা বলবে, দাঁড়াবে। নারীর শরীরের গঠনো এখন পুঁজির আওতায়। নারীর চেতনা শক্তি না জাগলে কখনোই পুঁজির ছোবল থেকে নারী মুক্তি পাবে না। নারী ভুলে যাবে নারীর মেধাশক্তি।

অবশ্য “নারী মুক্তি” আন্দোলন বর্তমানের সবচেয়ে বড় এজেন্ডা। কিন্তু দেবে কে এই মুক্তি? কিসে মিলবে মুক্তি? নারী মুক্তির সার্বজনীন ব্যাখ্যা অবশ্যই রয়েছে কিন্তু বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেই। নারী মুক্তি এখন ইস্যু ভিত্তিতে চলে এসেছে। সভা, সেমিনার, বক্তৃতাতে সীমাবদ্ধ না থেকে বোধ জাগ্রত করতে হবে। প্রচলিত সামাজিক পেক্ষাপট ভেঙ্গে নারীর মত প্রকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহনের স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, নারী মুক্তির সাথে সকল মানব মুক্তি জড়িত।

লেখক: অক্টিভিস্ট ও কবি ।

Comments

comments

Check Also

পরিবার ও নারীর পিছিয়ে পড়া ।। ফারজানা কাজী

ফারজানা কাজী: নারীর পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে তার পরিবার। একই পরিবারে একটি ছেলে আর …