আত্মহত্যা একটি সৃষ্টি এবং কেনো করি?

শতাব্দী সানজানা:

আমি মনে করি আত্মহত্যা একটি রোগ। ইন্টারনেট ঘাটতে গিয়ে দেখলাম আমার ধারণা ঠিক। মানসিক রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি থাকে, যেমন—বিষণ্ণতা, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার, মাদকাসক্ত, উদ্বেগে আক্রান্ত ইত্যাদি রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উচ্চ। এই রোগীরা নানান বয়সের হয়। ইদানিং টিএনএজরা বেশি আত্মহত্যা করছে। পরিক্ষার খারাপ ফলাফলের কারণে। এখানে আমি মা,বাবার এবং শিক্ষকদের দোষ দেবো। অনেক মা,বাবাদের দেখেছি তারা নিজের সন্তানকে অন্যের সাথে তুলনা করে, যেখানে সেখানে রাগারাগি করে, শিক্ষকরা অপমান করে। এসব ব্যাপারগুলো সেই ছেলে বা মেয়েটি নিতে পারে না।

আমার আগের একটা লেখাতে উল্লেখ্যে করেছিলাম যে আত্মসম্মানবোধ প্রতিটা মানুষের থাকে। এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে ১০০ বছরের বৃদ্ধা। টিএনএজ বয়সটা খুব ভয়ানক, প্রতিটা মা,বাবার উচিৎ খুব সর্তকের সাথে সন্তানদের সামলানো। পুরুষরা আত্মহত্যা করে কেনো? আমি এমনও পুরুষ দেখেছি প্রেমে র্ব্যথ হয়ে আত্মহত্যা করতে। একটা ছেলে যখন প্রেমে র্ব্যথ হয় তখন তার হিতাহীত জ্ঞাণ থাকে না। তখন তার আরও ভালোবাসার প্রয়োজন । সেটা হতে হবে মা, বাবা, বোন এবং বন্ধুদের তাকে সর্বক্ষণ আগলে রাখতে হবে এবং প্রচুর আনন্দ দিতে হবে যেনো সে ভেঙ্গে না পরে আত্মহত্যা করে। সে চাইবেই একা থাকতে কিন্তু তাকে একা কখনোই ছারা যাবে না। মেয়েদের ক্ষেত্রেও সমান কিন্তু বিবাহিত এবং যৌতুকের জন্য অত্যাচারিত হয়ে যে মেয়েরা আত্মহত্যা করে তাদের ফেরানো অনেক কঠিন কারন আমাদের সমাজব্যবস্থা।

বিয়ের পর মেয়েরা এমন পরিস্তিতিতে পরলে তখন সে তার বাপের বাড়ীতেও জায়গা পায় না। আর যদি হয় গ্রাম তবে তো কথায় নেই। গ্রামের সমাজ তাকে বাধ্য করে আত্মহত্যা করতে। খুব কম মেয়েরা আছে যে নিজের পায়ের মাটি শক্ত করে, সমাজের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। অত্যাচারিত না হয়ে ,সমাজের কথা কানে না তুলে সে নিজেই নিজেকে সাবলম্বি করে গড়ে তুলতে পারে। হতে হবে আত্মর্নিভরশীল। অভাব একটা কারণ আত্মহত্যা করার জন্য। মধ্যবিত্ত পরিবারে অভাব থাকবেই। অভাব ছাড়া মানুষ হয় না, তাই বলে আত্মহত্যা? আমি এটা মেনে নিতে পারি না।

কষ্টতো হবেই কষ্ট না করলে জীবনের মজা বুঝবেন কি করে? অভাবের কারণে আপনি না হয় আত্মহত্যা করলেন কিন্তু একবার ভেবেছেন কি আপনি মারা যাবার পর আপনার পরিবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এরকম বহু পরিবার রাস্তায় নেমে আসছে। বেঁচে থাকলে অন্তত এক বেলা খাবার তো পেতো, এখন তো তাও পায় না। আর নিজের মনের মানুষ না থাকলে কোন আত্মিয়স্বজনও দেখে না। এটা প্রমানীত। মডেলরা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে আত্মহত্যা করে। ব্যাপারটা আমার কাছে হাস্যকার।

অনেকেই বলে আত্মহত্যা করা নাকি সাহসের ব্যাপার সবাই পারে না। আমি বলি আত্মহত্যা করা কোন সাহসের ব্যাপার না বেঁচে থাকাটায় সাহসের ব্যাপার। বেঁচে থাকা, সমাজের সাথে যুদ্ধ করা, এটায় সাহসিকতা। পালানোর মাঝে কোন সাহসিকতা নেই। জীবনকে ভোগ এবং উপভোগ করতে সাহস লাগে। আমি পৃথিবী, নিজেকে, নিজের জীবনকে খুব ভালোবাসি। আত্মহত্যা করা মানে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া। কেনো আমরা পালাবো? মাথা উঁচু করে ,সাহসের সাথে বেঁচে থাকবো, বেঁচে থাকতে দেবো। আত্মহত্যা কে না বলুন।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিষ্ট ।

Comments

comments

Updated: ৯ অক্টোবর, ২০১৭, ৪ টা ২১ মিনিট, অপরাহ্ণ — ৪:২১ অপরাহ্ণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার কলম © ২০১৭, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: editor@amarkolom.com