Home / রাজ্যের যুক্তি-তর্ক / ছাত্রদের বর্তমান আচরণ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

ছাত্রদের বর্তমান আচরণ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

মোর্শেদ আলম সাকিল :

আমরা সবাই মানুষ। আমরা সমাজে বাস করি তা চিরন্তন সত্য। কিন্তু সেই সমাজে কিছু ভাল এবং খারাপ মানুষও বসবাস করে। আমরা তা হয়তো স্বাভাবিকভাবে দেখিনা। তবে তার কর্মকান্ডে,আচরণে,চলাফেরায় আমরা বুঝে উঠতে পারি, যে ওই ব্যক্তিটি মানুষ হিসেব ভদ্র,নম্র,নাকি অমানুষ? বিশেষ করে সবাই নোটিস করে অধ্যায়ন রত ছাত্রছাত্রীকে। কারণ একটাই, আর সেটা হল তারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আর আমাদের বর্তমান সমাজের সেই প্রজন্মরাই দিনের পর দিন প্রতিনিয়ত অহেতুক ভুল করে যাচ্চে।
তার সামান্য উদাহরণ দিয়ে দিই।

বিকেল বেলায় আমি এক দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হল। টান আধঘন্টা পর বৃষ্ট থেমে গেল। সময় ছিল বিকাল ৫:৩০-৪০ মিনিট।
একটু পর দেখতে পেলাম একটা কোচিং সেন্টার ছুটি হয়েছে। সেই কোচিং সেন্টার থেকে প্রথমে ২০-২৫ টা মেয়ে একসাথে বের হয়েছে। তার ঠিক ২-৩ মিনিট পর ৫-৬ জন ছেলেও বের হয়েছে।
সবাই একাসাথে রাস্তার পাশ ধরে হেটে হেটে আসছে,হাটার পথে অনেকেই হরেক রকমের দুস্টুমি, আরো কত কিছু বলাবলি করছে (কথা গুলু ঠিক শুনতে পাই নি)।
ছেলেমেয়ে সবাই একসাথে হেসে হেসে কথা বলে বলে আসতেছে। তার একটু পর ছেলেগুলা একটা দোকানের সামনে দাড়ায় গেল। হয়তো বা তারা কিছু খাওয়ার জন্যই।
মেয়ে গুলার সাথে ছেলেদের দুরত্ব হয়ে গেল।যায় হোক এবার আসি আসল কথায়।

দোকান থেকে বের হয়ে ছেলে গুলা ঠাট্টা হাসি তামাশা করতে করতে হঠাৎ এক বৃদ্ধ লোক তার অটোরিক্সা নিয়ে যাত্রী ভাড়া নিয়ে তার গন্তব্যে যাচ্চেন।
তার মাঝ পথেই ঘটে গেল এক আচমকা ঘটনা। একটা ছেলে তার ব্যাগ ঝুলিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে গুতাচ্চে। এমতাবস্তায় বৃদ্ধলোকটা তার গাড়ির হরণ দিয়ে সে ছেলেটাকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেতেছে। কিন্তু ছেলেটা অন্যমনস্ক ছিল বলে হরণের শব্দটা শুনতে পায়নি। আমার মনে হয়ে সে শুনতে পেয়েছিল! তারপরেও সে সরে যায়নি। অন্য পাশ দিয়ে আরেকটা গাড়ি দ্রুত গতিতে আসার কারণে বৃদ্ধ লোকটা একটু অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে গেল। তার রিক্সাটা সে ঠিক মতো কন্ট্রোল করতে পারেনি।
গাড়ির গতিটাও ঠিক তেমন স্পিড ছিল নাহ।
তারপরেও হাল্কা করে ওই ছেলেটার গায়ে টাচ্ করল। ছেলেটা রেগেমেগে বৃদ্ধলোকটাকে মারের হুমকি দিয়ে দিল হঠাৎ!

চারপাশের মানুষ তখন আমরা আশ্চর্য হয়ে গেলাম যে কি এমব কারণে বৃদ্ধলোকটাকে ছেলেটা এভাবে গালিগালাজ করতেছে!(গালিগালাজ গুলা একটি অশ্লীল)।
তখন বৃদ্ধলোকটা ছেলেটাকে বলছে, বাবা আমিতো দূর থেকেই অবিরত হরণ দিয়ে আসছি। কিন্তু বাবা তুমি সরে যাও নাই। আরো রাস্তার মাঝে চলে এসেছো। এই কথাটা শুনে ছেলেটা আরো রেগে গেল এবং মারার জন্য হাতও তুলে ফেলল। এমতাবস্থায় বৃদ্ধলোকটি ভীতু হয়ে গেল। ছোট গলায় বলতেছে বাবা তোমার বয়সের চেয়েও বড় আমার ২টি সন্তান আছে। এবং আমি তোমার বাবার বয়সী হই। আমার সাথে কেন এমন আচরণ করছ?ছেলেটা আরো রেগে গিয়ে আরো বিশ্রী ধরণের গালিগালাজ করতে লাগল,সাথে তার বন্ধুগুলাও একই সুরে মেতে উঠল। তারাও হুমকি দিতে শুরু করল। শেষপর্যায়ে এক ভদ্রলোক এসে ছেলেগুলাকে থামিয়ে দিয়ে ওখানেই সমাপ্তি করে দিল।

বৃদ্ধ লোকটি নিশ্চুপ হয়ে হা করে নির্বাক জনগনের মত দাড়িয়ে ছিল। সে হয়তো ভাবছে আজ কালের ছেলে কি শিক্ষা পাচ্ছে?? বড়দের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয়,ভদ্রতা কি ওরা কি একেবারেই ভুলে গেছে??
এই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

হ্যা এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এটাই আমাদের শিক্ষিত ছাত্রসমাজ। এই শিক্ষিত সমাজ গঠনের পিছনের মানুষ গুলায় আজ সমাজে খ্যাতি। বিভিন্ন নাম ডাক সমাজে।
জানি সবাই ওই ছেলের মত নাহ? তবে ১০০ জনের মধ্যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৮০ জনেরও উপরে এই আদব কায়দায় গঠিত এই ছাত্র সমাজ। স্যালুট জানাই আমাদের বর্তমান শিক্ষকগুরু ও অভিবাকদের।
আপনাদের অবহেলার কারণেই আজ ছাত্রসমাজ এই অবস্থায়।
জয় হোক বর্তমান ছাত্রসমাজের।

লেখক: ছাত্র, কক্সবাজার কমার্স কলেজ ।

Comments

comments

Check Also

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২০ বছরেও পূরণ হয়নি ।। প্রসেনজীৎ কুমার রায়

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী আদিবাসীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার …