Home / গবেষণা / স্থান ও কাল

স্থান ও কাল

মোঃ লুৎফর রহমান:

বস্তুর একটি নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, পরিমাণ ও গঠনকাঠামো আছে । বস্তুসমূহ পরস্পরের সাথে একটা সম্পর্কে আবদ্ধ এবং একটা ধারাবাহিকতা তৈরি করে । একটি অপরটির পূর্বগামী হয় বা একটি অপরটিকে প্রতিস্থাপিত করে । বস্তুসমূহের এসব গুণ-ধর্ম বোঝায়, এগুলোর অস্তিত্ব আছে স্থানে ও কালে । স্থান ও কাল বস্তুর অস্তিত্বের বিশ্বজনীন রূপ । স্থান : স্থানের ধারণাটি বস্তুসমূহের অবস্থানের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করে । স্থান পদার্থসমূহের বিস্তার, সহাবস্থান প্রকাশ করে । স্থানিক সম্পর্কের মধ্যে বস্তুর যেসব গুণ-ধর্ম যুক্ত থাকে সেগুলো হচ্ছে উচ্চতা, দৈর্ঘ, প্রস্থ, রূপ, গঠনকাঠামো এবং অন্যসব পদার্থের সাথে দূরত্ব । কাল : বস্তুর অবস্থাগুলোর ধারাবাহিকতাকে কাল বোঝায় । ক্রমঘটমান ব্যাপারগুলোর প্রক্রিয়ার মেয়াদকে কাল বলে । কাল বিভিন্ন পদার্থের ইতিহাস অনুসরণ করে ।

স্থানের মাত্রা : স্থান ত্রি-মাত্রিক, তিনটি গতিমুখ । যথা – (ক) ডানে-বাঁয়ে (খ) সামনে-পেছনে (গ) উপরে-নিচে । এভাবে যে কোনো পদার্থকে স্থানিকভাবে নির্ণয় করা যায় । কাল এক-মাত্রিক : স্থানের সাথে তুলনা করলে কাল এক-মাত্রিক । কাল সব সময় একটি দিকে, সামনের দিকে প্রবাহিত হয় । অতীত থেকে বর্তমানে এবং তারপর ভবিষ্যতে । কাল অপরিবর্তনীয় । একে বিপরীতদিকে প্রবাহিত করা যায় না । স্থান ও কালের পরস্পর সম্পর্ক : সমস্ত পদার্থ নির্দিষ্ট এক-এক দ্রুতিতে চলে । দ্রুতি হলো একটি নির্দিষ্ট কালপর্বে একটি পদার্থ যে দূরত্ব অতিক্রম করে । এখানে স্থান ও কালের পরস্পরসম্পর্ক প্রকাশ পায় । ফুটে ওঠে একটি বস্তুর সাথে কাল ও স্থানের সংযোগ । কাল ও স্থানের অসীমতা : সসীম বস্তুসমূহের মধ্যে অস্তিত্বশীল হয়েও স্থান ও কাল অসীম ।

প্রতিটি বস্তু অন্যান্য বস্তুর সাথে যুক্ত । সেগুলো আবার আরো অন্যান্য বস্তুসমূহের সাথে সংযুক্ত । এই সংযুক্তি অন্তহীন । এভাবে স্থান অসীমে প্রকাশ পায় । অন্যদিকে প্রতিটি সতন্ত্র বস্তুর অস্তিত্বের আদি ও অন্ত আছে, কিন্তু সেটির পূর্বগামী ছিলো এক অসীমসংখ্যক অন্যান্য বস্তু । এবং শেষ পর্যন্ত বস্তুটি প্রতিস্থাপিত হবে অন্যান্য বস্তুর দ্বারা । এই রকম চলবে অন্তহীনভাবে । এভাবে বস্তু স্থানে অসীম এবং কালে অনন্ত । মহাবিশ্বের আদিও নেই অন্তও নেই । এই বিষয়টি ধর্ম ও ভাববাদ মানে না । স্থান ও কালের উপলব্ধির গুরুত্ব : স্থান ও কাল নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের উপলব্ধির তত্ত্বগত ও ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম । সব সামাজিক ক্রিয়াকলাপের মানে হলো পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে মানুষের মিথষ্ক্রিয়া (interaction) । সব ব্যাপার ও প্রক্রিয়াসমূহের স্থানিক ও কালগত বৈশিষ্ট্য আছে । সব ব্যাপার ও প্রক্রিয়াসমূহের স্থানিক ও কালগত বৈশিষ্ট্য আছে । এই বৈশিষ্ট্যগুলোই সামাজিক কর্মপ্রয়োগের ধরণ, রূপ, ছন্দ ও গতিকে ঠিক করে । সুতরাং সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে স্থানিক ও কালগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে গণ্য করা উচিত ।

 

Comments

comments

Check Also

স্লো পয়জনিং ।। অনুপম আইচ

রসায়ন শাস্ত্রে ‘স্লো পয়জনিং’ নামে একটা ঘটনার উল্লেখ আছে। কিছু ভারী ধাতু আছে (যেমনঃ শীসা) …