Home / গল্প অথবা উপন্যাস / আবারো হিমু

আবারো হিমু

আরাফাত এইচ রাশেদ :
কেমন আছেন?ভালো আছেন?
হ্যাঁ ভালো।
আমাকে চিনছেন?
না।
কি বলেন সত্যি চিনেন নাই?
না সত্যি চিনি নাই।
আমি রোমানা, এবার নিশ্চই চিনছেন।
না।
কি বলেন আপনার সাথে আমি একসাথে পড়ালেখা করেছি কলেজে।
হ্যাঁ এবার চিনছি।
আপনার পায়ে দেখি জুতা নাই,খালি পায়ে হাঁটছেন কেনো।
আমি হিমু তাই।
হিমু হলে কি খালি পায়ে হাঁটতে হয়?
অবশ্যই।
এখন চলেন আমাদের গাড়িতে উঠেন,কোথায় যাবেন আমি নামিয়ে দিবো।
আমি কোথায় যাবো নিজেই তো জানিনা।
মানে?
তুমি কোথায় যাবে,তুমি যেখানে যাবে আমাকে সেখানে নামিয়ে দিও।
আমিতো যাবো কমলাপুর।
তাই নাকি তাহলে তো ভালোই।কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে আসবো,ওখানে আমার একটা বন্ধু আছে।চলো গাড়িতে উঠি।
আপনার বন্ধু কি করে?
ভিক্ষা করে।
মানে?
মানে আবার কি ভিক্ষা বুঝোনা,খয়রাত,খয়রাত করে।
কি বলছেন আপনি এসব।
কেনো বাংলাতেই তো বলছি,ইংরেজীতে বলবো?
আপনি কি করেন?
হাঁটি।
হাঁটি মানে কোথায় হাঁটেন?
রাস্তায়।
রাস্তায়? কেনো?
কারণ আমি হিমু।
হিমুদের কি খালি পায়ে হাঁটতে হয়?
হ্যাঁ।
আচ্ছা এই হিমুটা কি?
মহাপুরুষ টাইপের একটা ছেলে।
এখন কি আপনিও মহাপুরুষ হওয়ার সাধনায় নেমেছেন?
হ্যাঁ।ড্রাইভার সাহেব আমাকে এখানে নামিয়ে দেন।
কমলাপুর তো এখনো আসে নাই।
কমলাপুর যাবোনা।নামাই দেন।
কমলাপুর আসার আগেই নেমে গেছি,যতক্ষণ গাড়িতে থাকবো, ততক্ষণ প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে হবে,হিমুরা এত প্রশ্নের উত্তর দেয় না।
হাঁটছি আর ভাবছি কোথায় যাওয়া যায়,হঠাৎ মনে হলো আজকে তো বাদলের ছেলের আকিকা।যাই নামটা দিয়ে আসি।
মাজেদা খালার বাড়িতে আজকে সাজ সাজ রব,বাদলের ছেলে হয়েছে,আজকে আকিকা দিয়ে নাম রাখবে,হিমুকে বলা হয়েছে অনুষ্ঠানে অবশ্যই থাকতে হবে,সে ই চিফগেস্ট।
কিন্তু এখনো হিমুর কোন খোঁজ নেই।
আরে হিমু ভাই তুমি চলে এসেছো,এতো দেরী করলে যে তোমার জন্য সবাই বসে আছে।
কেনো?
আমি বসিয়ে রেখেছি তোমাকে ছাড়া তো অনুষ্ঠান শুরু করা যায় না।
ও তাহলে এখন তো শুরু করা যায়।এখন তোমার ছেলের নাম কি ঠিক করেছো?
হিমু।
খালু আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছে,খালুকে আরেকটু রাগিয়ে দেওয়া দরকার।
বাদল কি বললে,তোমার ছেলের নাম কি রেখেছো?
হিমু।
তো বাদল নাম তো রাখা হয়ে গেছে,এখন আমি যাই।
কি যে বলেন ভাই,আপনি না খেয়ে চলে যাবেন,এটা অসম্ভব। আপনি না খেলে কাউকেই খেতে দিবো না।
আমি না খেলে সত্যিই বাদল কাউকে খেতে দিবে না,তাই আর কি করার উদরভর্তি করে খেয়ে নিলাম।
রাত বারোটা।আমি ফুটপাথ ধরে হাঁটছি,আজকে রূপার সাথে দেখা করার কথা ছিল,এখন কি রূপাকে ওদের বারান্দায় দাঁড়াতে বলবো,না থাক।আর এতো রাতে মোবাইল দোকানও খোলা পাওয়া যাবে না,যে ফোন করবো।তারচেয়ে ভালো আমি হাঁটতে থাকি।সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি হয়েছিল,এখনও আকাশ মেঘলা, যেকোন সময় বৃষ্টি নামতে পারে।বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোই লাগে।
আরে হিমু ভাই কেমন আছেন,আপনি বৃষ্টিতে ভিজতেছেন!!কয়টা ছাতা লাগবো আপনার বলেন,ছাতা ধরতে কষ্ট হলে রেইনকোট নিয়ে আসি।
মতিন সাহেব আমার ছাতা বা রেইনকোট লাগবে না।বৃষ্টিতে ভিজে হাঁটতে আমার ভালোই লাগে।
কি আর করা হিমু ভাই আপনার সাথে তো কথায় পারা যাবে না,তো কোথায় যাচ্ছেন?
আমার যাত্রা তো উদ্দেশ্যহীন।
তাও ঠিক।
আচ্ছা মতিন তুমি যাও বৃষ্টিতে ভিজে আবার অসুখ বাঁধাবে।
মতিন একটা গ্যারেজে চাকরি করে।অল্প বেতন।একটা ছেলে,ছেলেটাও তার সাথে গ্যারেজে কাজ করে।কয়মাস আগে তার গুরুতর অসুখ হয়।রূপাকে বলে ওর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম।আমি মতিনের সাথে এতক্ষণ এত কথা বললাম,কিন্তু তার ছেলের কথা একবারও জিজ্ঞেস করেনি,যদি মায়া প্রকাশ পায়,হিমুদের সব ধরণের মায়া থেকে দূরে থাকতে হয়।তবে আমার অনুমান বলছে মতিন তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে অনেক সুখেই আছে।
ভাবছি আজকে আবার কমলাপুর যাবো,ওইদিন দুলালের সাথে দেখা না করেই চলে এসেছি।ওর মেয়েটারও খবর নেওয়ার দরকার,শুনেছি আগামী মাসের দুই তারিখে নাকি বিয়ে।
ষ্টেশনের সামনেই দুলালের সাথে দেখা মনমরা হয়ে বসে আছে।
কি খবর দুলাল?
ভালো না।
কেনো?
মেয়ের বিয়ের খরচের টাকা এখনো যোগাড় করতে পারিনি।
তো এভাবে বসে থাকলে চলবে?চলো দুইজনে একসাথে ভিক্ষা করি।
কি বলেন হিমু ভাই আপনি ভিক্ষা করবেন।
তো সমস্যা কি,আমরা সবাই ই তো কোন না কোন ভাবে ভিক্ষুক।চলো সময় নষ্ট করে লাভ নাই।
দুলাল আর আমি ভিক্ষা করতে করতে ষ্টেশনের দক্ষিণ দিকের রাস্তা ধরে হাঁটছি।
আরে হিমু তুমি?
হঠাৎ করে রোমানার সাথে দেখা।
হ্যাঁ আমি।
তুমি ভিক্ষা করছো কেনো?
ও পরিচয় করাই দি,ও হচ্ছে ভিক্ষুক দুলাল।আগামী মাসের দুই তারিখে ওর মেয়ের বিয়ে।এখনো টাকা যোগাড় করতে পারে নাই,তাই দুজনে একসাথে ভিক্ষা করতে নামলাম।
টাকা কত লাগবে?
কি দুলাল টাকা কত লাগবে?
ভাই ২০ হাজার টাকা হলেই চলবে।
ঠিক আছে টাকা আমি দিয়ে দিচ্ছি।
রোমানা বাসায় গিয়ে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে এসেছে।
দুলাল টাকা নাও।
না হিমু ভাই আমি টাকা আপনার হাত থেকে নিবো।
রোমানা মুখ বাঁকিয়ে টাকা গুলা আমার হাতে দিয়ে সোজা চলে গেলো।আমি আর দুলালও উলটা দিকে সোজা হাঁটা ধরলাম।হিমুরা কখনো পিছ ফিরে চায় না।

Comments

comments

Check Also

একটি মেয়ের আত্মহত্যা ।। ইমরান হোসেন মুন্না

 ইমরান হোসেন মুন্না সদ্য সুইসাইড করা মেয়েটি চিৎ হয়ে পড়ে আছে হিম ঘরের এক কোনায়। …