ধর্মে আমাদের দ্বৈত আচরণ, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ

মোর্শেদ আলম সাকিল :

মৃত ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করলেই চারপাশের পরিবেশ বলে দেয় যে, এই বাড়ির কেহ মৃত্যুবরণ করেছে। বাড়ির পুরুষ লোকগুলো মাথায় টুপি পরিধান করে। মহিলারা খুব সুন্দর মাথায় ঘোমটা টেনে দেয়। যেন নব এক কণ্যা বধু। এমনকি যেসব মেয়েরা সবসময় জিন্সের পেন্ট,শার্ট পরিধান করে ওড়না তো গলায় থাকেই নাহ,তারাও সেদিন শালীন পোশাক পরিধান করে। আর যে কারণে দূর হতেই বোঝা যায় সেটা হলো মহিলাদের উচ্চস্বরের কান্নার আওয়াজ শুনে। এমন উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করতে ইসলাম নিষেধ করেছে। অন্যদিকে ঐ দিন মসজিদের ইমাম,এলাকার মাদরাসার ওস্তাদ,মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কদর খুবই বেড়ে যায়। মৃত ব্যক্তির ছেলে,ভাই,বাবা,পুরুষ আত্মীয়স্বজন তাদের দেখা মাত্রই জড়িয়ে ধরে হালছাড়া হয়ে যায়।

বারবার মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দোয়া করার আবেদন জানায়,মাইকিং করে সর্বস্তরে জানিয়ে দেওয়া হয় যে অমুখ এই সময়ে তার নিজ বাসস্থানে অথবা হাসপাতালে এবং ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে,এক্সিডেন্ট করে,অমুক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। তারপরে যার যার ধর্মের মৃত্যুর দোয়া পড়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করার আহ্বান জানায়,আরো কত কি যে করে। ঠিক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়, যখন কয়েকদিন পর মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত অথবা (ইসলাম ধর্মে ফাতিয়া,বৌদ্ব ধর্মে সংঘদান,হিন্দু ধর্মে শ্রাদ্ব) অনুষ্ঠান হয়। ঐবাড়ির পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়। মহিলাদের মাথার ঘোমটা সরে যায়,হরেক রকমের সাজে সজ্জিত হয়ে সারা বাড়িতেই তাদের বিচরণ চলে অবিরাম।

হৈ-হুল্লোর, মাতামাতিতে জাগিয়ে তোলে সারা বাড়ি। শোকের আবহাওয়া বিলীন হয়ে যায় হাসি ঠাট্টার প্রভাবে।যার উদ্দেশ্যে আয়োজন সে কবরে কোন অবস্থায় আছে, তার উত্তরাধিকারী হিসেবে আমাদের কি করণীয় আমরা সেটা বেমালুম ভুলে যায়। আমি / আপনি মারা গেলে আমাদের অবস্থা কি হবে সে কথা ভাবনাতেই আসে নাহ, বাড়ির পরিবেশ আমাদের ভুলিয়ে দেয়। অন্যদিকে কুরআন খতম করার জন্য ইমাম,আলেম,মাদরাসার ছাত্রদের দাওয়াত করে আনা হয়। সাথে অনেক এতিমদেরও দাওয়াত করা হয়। কিন্তু এইদিন আলেম, মাদরাসার ছাত্রদের কদর থাকে কুরআন খতম থেকে দোয়া পর্যন্ত। তারপরে তাদের প্রয়োজন শেষ। অমুক তমুক সাহেবকে নিয়ে ব্যস্ততা।

সেদিন কদর বেড়ে যায় সোজা বাংলায়,এক কথায় যত প্রকারের সুদখোর,এই খোর-সেই খোর আছে তাদের। আমি অনেক বাড়িতে খাবারের ক্ষেত্রে, বসার জায়গার ক্ষেত্রেও শ্রেণি বিভেদ দেখেছি। কি প্রয়োজন তাহলে আলেম ওলামাদের দাওয়াত করে আনার? ঐ সব সম্মানিত…. খোরদের (!) নিয়ে মুনাহাত পরিচালনা করালেই তো হয়। আসলে আমরা অতিরিক্ত সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে নিজ নিজ ধর্মের বিধিবিধান থেকে প্রতিনিয়ত দূরে সরে যাচ্চি। ইবাদতের ও প্রার্থনার সময় গুলোকে উৎসবে পরিণত করছি। যে সামাজিকতা আমাদের ধর্মকে সমর্থন করে নাহ, যে সামাজিকতা আমাদের ধর্মকে ছোট করে, এমন সামাজিকতা আমাদের পরিহার করতে হবে!করতেই হবে। যদি আমরা তা করতে না পারি তাহলে পুরো পৃথিবীটা একটি রসিকতা ও অশালীনতায় পরিপাটি হবে। নিশ্চয় আমরা তা চাইব নাহ? ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ সব সামাজিকতাকে পরিহার করাই আমাদের প্রথম করণীয় হওয়া উচিৎ। আন্তরিক ভাবে দুঃখীত অশালীন আচরণের জন্য।

লেখক: ছাত্র, কক্সবাজার কমার্স কলেজ ।

Comments

comments

Updated: ৫ অক্টোবর, ২০১৭, ৯ টা ২০ মিনিট, অপরাহ্ণ — ৯:২০ অপরাহ্ণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার কলম © ২০১৭, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: editor@amarkolom.com