Home / ধর্ম ও দর্শন / আমি কেন লেনিনবাদী নই ।। মোর্শেদ হালিম

আমি কেন লেনিনবাদী নই ।। মোর্শেদ হালিম

এই অঞ্চলের কমিউনিস্টরা মার্কসবাদ জানে লেনিনের চোখ দিয়ে এদের নিজস্ব কোনো দৃষ্টিভঙ্গি এখনো দাঁড়ায় নি বলেই আমরা মনে করি। কেননা এ-যাবত কার্ল মার্কস সকল সমতাবাদী, সমাজবাদী, কাল্পনিক সাম্য-মৈত্রীকে ধুয়ে দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষ ভাবে সকল প্রচলিত স্বদেশ ও জাতিসত্তার বিলোপের কথা বলেছেন। অথচ আমরা দেখে থাকব লেনিনবাদী-মাওবাদীরা জাতিসত্তার স্বাধীন বিকাশে মগ্ন। এইটা প্রলেতারিয়েতের পার্টি করবে না। কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে যখন স্বদেশ ও জাতিসত্তার বিলোপের নিন্দা করা হয় তখন মার্কস তাদের বলেন, “শ্রমজীবীদের দেশ নেই।

প্রিয় কমরেড লক্ষ্য করুন, বাঙ্গালী, পাঞ্জাবি, আরবিয়ান, জাপানি ইত্যাদি জাতিসত্তা গুলির ভিতর শ্রমজীবীরা থাকলেও তা শ্রমজীবীদের স্বদেশ নয় এই কথাটাই মার্কস বুঝাতে চেয়েছেন। সেইজন্যই তিনি বলেন, “শ্রমজীবীরা যা পায়নি, তা আমরা কেড়ে নিতে পারি না।” বরং “প্রলেতারিয়েতকে যেহেতু সর্বাগ্নে রাজনৈতিক আধিপত্য অর্জন করতে হবে, জাতির পরিচালক-শ্রেণির পদে উঠতে হবে, নিজেকেই জাতি হয়ে উঠতে হবে, তাই সেদিক থেকে প্রলেতারিয়েত নিজেই জাতীয়, যদিও কথাটার বুর্জোয়া অর্থে নয়।” বিষয়টা কি দাঁড়ালো মার্কস বলেন, বুর্জোয়া দেশের জাতীয়তা প্রলেতারিয়েতের জাতীয়তা নয়। বরং এই দেশহীন শ্রমজীবীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে হবে, শাসকশ্রেণিতে উঠতে হবে এবং শ্রমজীবী নিজেই যে একটা জাতি তা হয়ে উঠতে হবে। কিন্তু সেইটা কিভাবে? মার্কস উত্তর দিচ্ছেন, “ভিন্ন ভিন্ন বুর্জোয়া দেশে অবশ্যই এই ব্যবস্থাগুলি হবে বিভিন্ন। তা সত্ত্বেও সবচেয়ে অগ্রসর দেশগুলিতে ১০টা মূলনীতি ব্যবস্থাগুলির মোটের ওপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য।

এর মানে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ গুলিতে একক প্রলেতারিয়েতের আধিপত্য অর্জন করার কথা বলা নেই। এবং তা টিকবে না তাই বাস্তবসম্মত। এবার আসি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের কথায়। এখানে মার্কসবাদ কতটা যথার্থ? আমরা মনে করি এই অঞ্চলে বুর্জোয়াশ্রেণির বিকাশ এখনো যথেষ্ট নয়। এই সম্পর্কে মার্কস বলেন, “বুর্জোয়াশ্রেণির বিকাশ, বাণিজ্যের স্বাধীনতা, বিশ্ববাজার, উৎপাদন পদ্ধতির একরূপতা এবং উপযুক্ত জীবনযাত্রার পরিবেশ- এই সবের জন্যই জাতিগত পার্থক্য ও জাতিবিরোধ দিনের পর দিন অধিকতরভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে।” কমরেড, বাংলাদেশে কি তা হচ্ছে? নাকি সামন্ত পরিবারতন্ত্রে আটকে আছি। বুর্জোয়া বিকাশটা যথার্থ হলে জাতিগত পার্থক্য মিলিয়ে যাবে এবং প্রলেতারিয়েতের জন্ম হবে।

ধনী ধনী হবে গরিব আর গরিব হবে। আর সেই মুহূর্ত সম্পর্কে মার্কস বলেন, “প্রলেতারিয়েতের আধিপত্য তাদের আরও দ্রুত বিলোপের কারণ হবে।” কোন কারণে প্রলেতারিয়েত ঐক্যবদ্ধ না হলেও জাতিগত বিরোধ শেষ হবে তবে সময় লাগবে। আর আমরা যদি প্রলেতারিয়েতকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে পরিচালকশ্রেণিতে বসাতে পারি তাহলে আরো দ্রুত সম্ভব। প্রলেতারিয়েতের পার্টি : বাংলাদেশে প্রলেতারিয়েতের কোনো পার্টি নেই। আর থাকাও বাস্তবতা নেই। তাই বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিকাশ এই মূহূর্তে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি বুর্জোয়া বাণিজ্যের বিকাশ মূলত ধীরে ধীরে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। তাই আমরা কিংবা আমি ব্যক্তিগত ভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি সিপিবির অভিনন্দন বার্তাকে নেতিবাচক অর্থে দেখি না। এবং লেনিনের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বুর্জোয়া দেশের জাতিসত্তা বিকাশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। লেনিনবাদীদের সাথে আমার বিরোধ অনুন্নত দেশে প্রলেতারিয়েতের শাসন কায়েম করার মত হঠকারিতায়।

লেখক: ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ।

Comments

comments

Check Also

দ্বন্দ্ববাদ, সার্বিক সংযোগ ও বিকাশের মতবাদ ।। লুৎফর রহমান

লুৎফর রহমান : একটি বিজ্ঞান হিসেবে দ্বন্দ্ববাদ : এঙ্গেলস দ্বন্দ্ববাদ বা ডায়ালেকটিকসের সংজ্ঞা নিরূপন করেছেন এভাবে, …