Home / রাজ্যের যুক্তি-তর্ক / আমরা স্বাধীন নই ।। আল মুস্তাকিম

আমরা স্বাধীন নই ।। আল মুস্তাকিম

এই পৃথিবীতে মানুষ স্বাধীনতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে এবং তার জন্মগত অধিকার হচ্ছে কেউ তাকে তার এই স্বাধীনতা ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না এবং জোর-জবরদস্তি তাকে দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করবে না। যখন স্বাধীনতাকে তার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করে তখন সময়টি ছিল এমন যে, অধিকাংশ মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনীতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিকভাবে আক্ষরিক অর্থেই ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছিল। মানুষের এই বহুরূপ দাসত্ব-শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করল। বিশ্বাসের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা এবং সমালোচনার স্বাধীনতা সব ক্ষেত্রেই এই স্বাধীনতা দিয়েছে। আর চিরকাল ধরে এসব বিষয়েই মানুষ তাদের স্বাধীনতা প্রত্যাশা করে আসছে। এটা হলো ব্যাক্তি জীবনের স্বাধীনতা। আবার কোন রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রকে জবর দখলের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে দাসত্বের শৃঙখলে আবদ্ধ করে। কোন একসময় জাতি রুখে দাঁড়ায়, তীব্র প্রতিরোধ বা যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শৃঙখল মুক্তকরে দেশকে স্বাধীন করে। এটাও একরকম স্বাধীনতা। আমরা রাষ্ট্রিয় স্বাধীনতা পেয়েছি সত্য কিন্তু ব্যাক্তি স্বাধীনতা রয়েছে অধরা।

স্বাধীনতার মানে হলো বাক ও মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা, নিজস্ব বিশ্বাস আর ঈশ্বরের উপাসনা বা ধর্ম পালন করা অথবা না করার স্বাধীনতা, সব নাগরিকের যে কোনো সুযোগের সমতা , আইনি অধিকারের সমান বন্টন আর নিরপেক্ষ আদালত এর সুবিধা পাওয়া, মতের বিরুদ্ধে গেলে বিশেষ কোনো দলের স্বাধীনতা বিরোধী উপাধি দেবার অধিকার না থাকা একই সাথে যাকে তাকে নাস্তিক বলার অধিকার না থাকা, নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিরাপত্তা থাকা, নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নিশ্চয়তা আর ভোট দেবার অধিকার থাকা, আর স্বাধীনতা কে বিশেষ কোনো দলের সম্পত্তি না ভাবার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা!

স্বাধীনতা অর্থ স্বেচ্চাচারিতা নয়। তবে নিজের স্বার্থকে এমনভাবে সর্বোচ্চ পরিমানে চরিতার্থ করা যেটা করতে গিয়ে অন্যের যেন সামান্যতম সমস্যা না হয়, ক্ষতি না হয়, অসুবিধা না হয়। ছোট একটা উদাহরণ দেই- গান শোনা আপনার অধিকারে পড়ে, আপনার স্বাধীনতায় পড়ে। কিন্তু সেই গানের আওয়াজ যখন উচ্চ হবে, গানের কথা বা অর্থ অশ্লীল হবে, আপনার চারপাশের মানুষ যখন বিরক্ত বা বিব্রত হবে তখন সেই গান শোনাটা আপনার স্বাধীনতাকে এবং অন্যের স্বাধীনতাকে হরণ করবে। তখন সেই গান শোনা স্বেচ্চাচারিতাকে চরিতার্ত করবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আর আমরা স্বাধীন আছি কিনা সেটা রাজনৈতিক বিবেচনায় আপেক্ষিক হয়ে দাড়িয়েছে। তবে আমি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বলব, বিবেক-বিচার-বিবেচনায় বলব দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বাধীন এবং সার্বভৌম কিন্তু সেই দেশের নাগরিক হিসেবে এককথায় আমরা স্বাধীন নই।

Comments

comments

Check Also

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২০ বছরেও পূরণ হয়নি ।। প্রসেনজীৎ কুমার রায়

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী আদিবাসীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার …