Home / সম্পাদকের কলম / অন্তুর সুচিন্তিতা-(কথোপকথন) ।। শিপ্ত বড়ুয়া

অন্তুর সুচিন্তিতা-(কথোপকথন) ।। শিপ্ত বড়ুয়া

যেদিন তুমি আর আমি অপ্রতিরোধ্য এক সন্ধ্যায় রাস্তার পাশ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলাম, সেদিনের বাকরুদ্ধ স্মৃতি নিশ্চয় তোমার মনে আছে সুচিন্তিতা?

হ্যা! তা তো থাকবেই। আমিই যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলাম তা ভুলি কিভাবে অন্তু?

আচ্ছা সুচিন্তিতা সেদিন যদি আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতো তুমি কি করতে? তুমি কি তাদের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করতে?

দূর!! তুমি কি যে বলো না! তোমার কি মনে নেই তোমাকে যখন পুলিশ ধরে একগাদা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো তখন আমি কি সহজেই সব প্রশ্নের উত্তর একসাথে দিলাম।

হ্যা সুচিন্তিতা, তা ঠিক। তুমি সেদিন বলেছিলে আমি কারিগর, শব্দের কারিগর। আমি শব্দ দিয়ে কথার তাজমহল বানাই। আমি কবি, রাজপথে শব্দের আগুন জ্বালাই আর বিপ্লব এবং তোমাকে ভালোবাসি।

হা হা হা! আমাকে ভালোবাসো বলেছি, তাও আমি। এক পুলিশ তো আমার চোখে তোমাকে দেখেছে বলে ফেলেছিলো। আমিই নাকি তোমার বিপ্লব আর সুচিন্তিতা।

হ্যা। কি দারুণরকম বেঁচেছিলাম সেদিন। তুমি না থাকলে হয়তো আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দোহাই দিয়ে সেদিন কারাফটকে ভ্রুক্ষেপ করতো। জানো সুচিন্তিতা! সেদিন আমার পকেটে ছিলো একটি কাগজ আর কলম। সে কাগজে লেখা ছিলো একটি সরকার বিরোধী কবিতা। সে কবিতায় লেখা ছিলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জেগে উঠার অমৃত বানী এবং তোমার প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসার কিছু গুচ্ছ।

আচ্ছা অন্তু তুমি যা কিছু বলো তা কি ঠিক? আমার কাছে বিপ্লব আর প্রেম তেল আর পানির মতো। মিশতে গেলে মিশে না। কিন্তু তুমি..!

সুচিন্তিতা প্রেমের শেষ থেকেই না হয় বিপ্লব শুরু হোক, তোমার কাছে তোমার কথাগুলো সত্যিই থাকুক। তুমি আকাশছোঁয়া বাড়ি, এসি গাড়ি আর সুন্দরতম চেহারা নিয়ে সুখেই থাকতে পারো। এই ছোট কবির কবিতা তোমাকে স্পর্শ করতেও পারবে না।

না অন্তু, আমি বাড়ি গাড়ি আর আর সুন্দরতম চেহারা চাই না, চাই শুধু তোমার লেখা নতুন কোন গল্প, কবিতা অথবা উপন্যাস।

লেখক: সম্পাদক, আমার কলম ।

Comments

comments

Check Also

‘পুরুষতন্ত্র’কে জায়েজ করার কিছু নেই ।। লাবণী মন্ডল

লাবণী মন্ডলঃ  হত দরিদ্র, পশ্চাৎপদ, কুসংস্কারাবদ্ধ বাংলাদেশের নারী সমাজ দারিদ্র্যের কশাঘাতেতো বটেই উপরন্তু সামাজিক-পারিবারিক শোষণ-নির্যাতনের …