Home / রাজ্যের যুক্তি-তর্ক / এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেশ হচ্ছে ডিজিটাল ।। প্রসেনজীৎ কুমার রায়

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেশ হচ্ছে ডিজিটাল ।। প্রসেনজীৎ কুমার রায়

প্রসেনজীৎ কুমার রায়:
আমাদের দেশ এখন মোটা চালের দাম ৪০টাকা সহ সকল পন্যের দাম বৃদ্ধি ।  কারন কি?
এটা সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত!
কি করে?
আমার দেখা একটি ঘটনা বলি, আমি দেখেছি আমার গ্রামে যখন আমার বাবা ধানের চারা দিত তখন আমাদের বাড়ি ধানের বীজ না থাকলে আমাদের বাড়ির আশেপাশের বাড়ি থেকে আর একটি ধানের বীজ দিয়ে সেই বীজটি নিয়ে আসতো যে বীজ আমার বাবার দরকার । তার মানে প্রতি কৃষকের ঘরে ঘরে ধানের বীজ থাকতো ।  শুধু ধানের বীজ না সকল ফসলের বীজ আমাদের সহ কৃষকের ঘরে থাকতো কিন্তু এখন আর সেই বীজ আমাদের /কৃষকের ঘরে নেই, পাওয়া যাচ্ছে না । কারন বাজারে এখন হাইব্রিড বীজ পাওয়া যাচ্ছে, এই বীজের ফসল ভাল হয় ভেবে কৃষক আর ঘরে বীজ রাখে না ।  দিনে দিনে  কৃষক হয়ে গিয়েছে ঘরের বীজ
হারা । বাজারে হাইব্রিড বীজের উপর নির্ভর করে কৃষক বেঁচে আছে।

এখন কথা হচ্ছে এই হাইব্রিড বীজের কারনে সফল তো বেশি হচ্ছেই তাহলে এটা নিয়ে আমি কথা বলছি কেন! কারন কি? কারন হল যদি আজ ভারত বা চীন এই হাইব্রিড বীজ বাংলাদেশে দেয়া বন্ধ করে দেয় তাহলে আমার বাবা বাংলাদেশের কৃষকেরা কি করবে??  আমার বাবা বলবে এই সকল কিছু আমার কপালের দোষ।  এখন কথা হচ্ছে, কৃষক কি কৃষকের উৎপাদিত ফসলের লাভ জনক দাম পাচ্ছে?  না পাচ্ছে না ।  কারন কৃষকের পণ্যের উপর বিক্রয়ের মূল্য লিখা থাকে না । আমার বাবার ধান উৎপাদনের বিবরন আপনাদের বলি : আমার বাবা ধানের বীজ বাজার থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসে বেশি দাম দিয়ে, তারপর সেই বীজ জলে ভিজিয়ে রাখে ৩-৫ দিন, এই করে বীজের মূকুর হয়ে যায়, তারপর  নরম কাঁদা মাটির ভিতর ছিটিয়ে রাখে, সেই ধানের বীজের উপর দিয়ে ছাই দিয়ে রাখে যাতে পোকায় না খেয়ে ফেলে, তারপর চারপাশে পাটকাটি দিয়ে শক্তকরে বেরা দিয়ে রাখে যাতে হাস মুরগি না খেতে পারে ।  তার পর ৪০-৪৫ দিন পর ধানের চারা বড় হয়ে যায়।  যে জমিতে চারা রোপন করা হবে সেই জমি চাষদিয়ে জল দিয়ে সার দিয়ে সেই জমি প্রস্তুত করে, ধানের চারা লাগানোর জন্য, এবার সকল চারা রোপন করার জন্য কিছু ক্ষেত মুজুর নিয়ে আমার বাবা চারা তুলে সেই জমিতে রোপন করে রোদে পুরে জলে ভিজে। তার পর মাঝে মাঝে সার ঔষধ ও অগাছা তুলে ধানের খেতে জল দিয়ে রাখে এরপর ধান কাটে আবার ক্ষেত মুজুর নিয়ে সেই ধান বাড়ি আনে।  ধান মারাই করে সেই ধান বিক্রয় করতে গেলে তার মূল্য পেলো মণ প্রতি  ৫০০-৭০০ টাকা।

এখন সেই টাকা আমাকে দিল বাবা,  কারন আমি শহরে থাকি বাবা বলেন তুমি চাল ক্রয় করে নিও, আমি এবার বাজারে গিয়ে চাল ক্রয় করলাম ৪০টাকা কেজি। এখন কথা হল আমার বাবা কৃষক সে কি ফসলের লাভ জনক দাম পেয়েছে? তার পরিশ্রমের
মূল্য পেয়েছে? না পায়নি।  কিন্তু আমার বাবা যে সঠিক মূল্য পাচ্ছে না সেটা সে বুঝতে পারেনি আজও। তাকে বুঝতে দেয়া হচ্ছে না কারন সে বুঝলে সঠিক দাম চাইবে।  অনেক সময় বুঝেও কিছু বলছে না কারন  এখনও বড়লোকের দেখে ভয় পায় ক্ষমতাশীলের কাছে নিজের সঠিক মূল্য চাইতে ভয় পায়। যে কারনে আমার বাবা কৃষক তার ভাগ্যের কোন পরির্বতন হয় নাই । কিন্তু এভাবে আর কত দিন? এই সকল কিছুর পিছনে কার হাত?  কাদের হাত?
এই সকল কিছু পিছনে সাম্রাজ্যবাদীদের হাত সেই সাথে আমাদের দেশের সরকারসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশীয় দালালেরা।  এই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে আমাদের ছাত্র-যুবক কৃষক ক্ষেত মজুর সকলকে লড়তে হবে একসাথে তাহলে এর সঠিক সমাধান পাওয়া যাবে।
জয় হওক মানবতার।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, রাজবাড়ী জেলা ছাত্র ইউনিয়ন।

Comments

comments

Check Also

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২০ বছরেও পূরণ হয়নি ।। প্রসেনজীৎ কুমার রায়

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী আদিবাসীদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার …