শিকারি রংতুলি

//শিকারি রংতুলি

শিকারি রংতুলি

শাহিনা কাজল:

মৃত্যুর রঙ মেখেছো?
আততায়ী মনের দরজায় তাজা স্বরপুঁটির রক্ত
চকচকে সাদা কিংবা হরিণের বাঁকা শিং
ভাবিনিতো কখনো, তবে আঁকতে পারি
অহংকারের চিত্র
বাঁধতেও নেই  দোষ জল্লাদ শিকারি চিত্ত।

একপেশে স্রোতের তন্দ্রা সহজে কাটে না
কাটলেও জলজ সত্যের ঘোমটা পরে
ধূর্ত শিকারী একের পর এক তুঘলকি ছবি আঁকে
জিঘাংসার জলস্রাবে।

চতুর কাঠবিড়ালি বুঝতে পারেনি
জীবনানন্দ কেনো প্রেমের কবিতা লিখেছে।
মাইকেল আজো কপোতাক্ষের তীরে
চির জাগ্রত পেটুক পাঠকের চিত্তে।
জানি,  জানে কবিতা শিকারী হৃদয়।

মৃত্যুর বামপাশে ঠিক স্কন্ধ বরাবর
মিথ্যা শুয়ে থাকে সত্যের পাঁজর ছুঁয়ে
ডোরাকাটা বিড়াল চোখা ক্যামেরায় বন্দি হয়
কালের কাকতাড়ুয়া
সবুজ ভুঁইয়ের বিপরীত পৃষ্ঠে
চোখবুজে নগ্ন হয় সময়ের বৈরী বাতাস
আমি দেখেছি
অনেক নীচ থেকে শিকার করতে
তবুও ভাব শিকারী এঁকে দেয় আস্ত রহস্য।

নিখাদ আদরের ঢঙে ফুসকা লোভও সংবরণ
করতে পারে না শিকারী শকুন।

বিধ্বস্ত সাদা শাড়ীর আঁচল ছিঁড়ে
উত্তাল ঢেউ আঁকে মৃত নদীর বুকে
প্রত্যূষের অবাঞ্ছিত জিন্দা লাশের কফিনে

ওপারে কেউ বাজায় খঞ্জনি
আর্তনাদের মহা সুর ভেঙে
ঢেউয়ের উপরে ঢেউ গড়েন তিনি
শিকারীর শিকারী, মহাশিকারী।

ব্যস্ততার তুফানে ঘননিঃশ্বাস ফেলে
তরী ছেড়ে পাড়ে ওঠে
মিশে যায় পাঠক শিকারী দলে।

কুয়াশার মৃদু হাসি হোক না যতোই তীব্র
ঝাঁঝাল আর দূর্বার বিজলি চমকানো,
সলতে পোড়া গন্ধ একই,
ও-শিকারী বোঝে না,  বুঝতেও চায় না
শিকার করবেই।
মহাকাব্যিক রসায়নে গড়ে ভাঙা মাঠের চিত্র।

ধিক্, সহস্রবার সব শিকারী চিত্তে-
সবখানে  সমভূমির সব বৃত্তে-
নোংরা মন, কলুষিত তরবারি
পাপী পদবী, শিয়াল শকুনের সংসারে।
সংগোপনে শিকার করলেও বৃক্ষরাও বুঝে
পাতা ঝরে গেছে
হিংস্র শিকারী শিৎকারের বুকে পা রেখে
রংতুলিতে আঁকে আত্মচিৎকার।

শেয়ার করুন
By | ২০১৮-০৩-১১T১৭:৩৭:৫১+০০:০০ মার্চ ১১, ২০১৮|কবিতা|Comments Off on শিকারি রংতুলি