সুত্রপাত / ইতিহাসের পাতা / মদ গাঁজা ভার্সেস প্রগতিশীলতা || তানভিরুল মিরাজ রিপন

মদ গাঁজা ভার্সেস প্রগতিশীলতা || তানভিরুল মিরাজ রিপন

মানুষকে বিচার করা যায় না, পারদের মতো ভাগ করা যাবে কিন্তু স্পর্শ করা যাবে না, শেষ বিন্দু বলতে কিছুতেই যাওয়া যাবে না।আমি ধর্ম বিশ্বাস করি না বলে আমি অসংখ্য ধর্মানুসারীকে অসম্মান করতে পারি না, অথবা আমার পরিবারের কেউ নামাজ
কালাম পড়লে আমি প্রগতিশীল হতে পারবো না, এমন নয় বিষয়টা। আমার ঘরে কুরআন, বেদ, গীতা বাইবেল এসব থাকবে, আমরা আদিকাল থেকে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা ধর্মের প্রতি বিশ্বাস করে আসছি,পালন করে আসছে, হয়তো তাদের বিশ্বাস মতে আমার বলতে “যখন কেউ ভূতে ভয় পায়, যখন কেউ ভূতে বিশ্বাস করে, তখন সে ভূত দেখে বলেই ভয় পায়।” কারো অন্যদৃষ্টিকে, কারো গভীর ভাবনাকে নাকচ করার অধিকার মানুষের থাকে না। প্রগতিশীল পাঠটা বিশাল পাঠ। এটিকে আমার দিক থেকে কিছু স্টেপে ভাগ করে নিয়েছি সেখানের সর্বোচ্চ স্টেপ হলো অ্যাথিস্ট, নিয়মের বাইরে এই দুনিয়ায় কেউ নেই।সবকিছু নিয়মের ভেতরে ঘুরপাক খায়। যারা এটিকে নিয়ম বলে মানতে চায় না সেটি মূলত তার ব্যক্তিগত মত হতে পারে, কিন্তু কিছু বিষয়কে একান্তভাবে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে পারে না। ২+২=৪ হয়, এটিকে কেউ পাঁচ বলতে পারবেনা। সুতরাং অ্যাথিস্ট পাঠ নিজের মতো করে নেওয়া যাবে না। অন্ধভাবে মানুষকে বিশ্বাস করা যায়, ধর্মকে বিশ্বাস করা যায়। গুরুদেব শরীফ বলেই গেলেন “এটি বিশাল ক্ষেত্র নাকচ করে দেওয়া একটা দুঃসাহস যেটা সকল মেধাবীরও গড়ে উঠেনা।” অন্ধভাবে সবকিছুকে নাকচ করা যেতে পারে কিন্তু কালক্রমে প্রচলিত ধ্যান ধারনাকে নাকচ করতে সামান্য ধারনা নিয়ে পারা যায় না।” না পড়ে নাস্তিক হওয়াকেও নাস্তিকান্ধ বা নাস্তিকতা মোহ।” নাস্তিকতা বিষয়টা মোটেও আবেগের বিষয় নয় অবশ্যই ধর্ম আবেগের বিষয় বলা যায় কারন ধর্মে অনুসারীদের কড়া নির্দেশ রেখেছেন আবার সুখবরও দিচ্ছেন আবার সেগুলো নগদে পাচ্ছেন না। তারা জানেনা নির্দেশ দাতা আদৌ আছেন কিনা, বা মানতে চাননা সেটি অন্য বিষয় কিন্তু কিছু ভয়,পাওনার মোহ থেকে যে ভক্তি সৃষ্টি হয় সেটিই আবেগ। নাস্তিকতায় আবেগিয়তার সুযোগ নেই। শুধু ধর্মের সমালোচনা, ধর্মের ত্রুটি নিয়ে কথা বললে নাস্তিক হওয়া যায় না-জাকির নায়েকের মতো ধূর্তবাজ হওয়া যায়। বাস্তবতাটা এখানে খুব বেশি প্রধান রসদ আমি নাস্তিক মানে এই না যে আমি একচেটিয়া নাস্তিক নাস্তিক করাটা খুবই জঘন্যরকম ভাবে সমাজের মতামত প্রকাশে নারকীয় কান্ড ঘটছে।

গাজা মদকে জায়েজ করার জন্য যদি নাস্তিকতা  বা বাম রাজনীতিকে ভাল লেগে যায়, অবশ্যই বাম রাজনীতি আপনার জন্য, আপনি বাম রাজনীতি বা নাস্তিকতার জন্য শুভ কিছু বয়ে আনবেন না। গাজা,মদ বেশি বেশি খাওয়া মানে বাম রাজনীতি নয়, মাদকাসক্ত আর যারা মাদকাসক্ত হবার জন্য একটা দর্শনকে ধারন করবে সে ধারনের কারনটা মতবাদ দর্শন অন্যান্যদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।” নাস্তিকতা মানে গাঁজা মদ বেশি বেশি খাওয়া নয়। “যে ব্যক্তি নিজেই আবেগ একটা ঘোর সামলাতে পারে না একটা নেশা কাটতে পারে না সে নাস্তিকতা মেনে নিয়ে রীতিনীতি নাকচ করে দিয়ে, কি হাসিল করতে চায়?

মহাত্মা হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন “একসময়ের রাজাকার, সকল সময়ের রাজাকার, কিন্তু একসময়ের মুক্তিযোদ্ধা সকল সময়ের মুক্তিযোদ্ধা নয়। “৭১ পরবর্তী বিশৃঙ্খলা, ৭৩ নির্বাচন পরবর্তী খুন, এবং ৭৫ এর কালো অধ্যায় সৃষ্টি করেছে একসময়ের
মুক্তিযোদ্ধা এবং পাকিস্তান ফেরত সেনা শাসকরা এলিট সমাজ দ্বায়ী। সর্বহারা দল এর সবাই দেশের প্রতি প্রান, দেশকে ভালোবেসে স্বাধীন করে এনেছে, বাম রাজনীতিবিদরা মুক্তিযুদ্ধ করেছে কিন্তু বাম এর দুটো পন্থী আছে মস্কো পন্থী আর চীন পন্থী, চীন পন্থী অনেকটা নিরব এবং জামাতের সাথে একাত্মতা পোষন করেছিলেন।

ইতিহাস নিয়ে যাদের আবেগ বেশি, বাম রাজনীতি করেন বলেই একচেটিয়া ভাবে বামমুখী করে ফেলা যাবে না যায় না, ইতিহাস হলো মেঝেতে পুতে রাখা খুনী লাশের মতো গন্ধ বেরুবেই। এটাকে আমি নেগেটিভ ভাবে বলিনি, ইতিহাস চাপা পড়েনা খুব ঠেঁাটকাটা ধরনের বৈশিষ্ট্য ইতিহাসের। যারা নব্য বামবাদী, রাজনীতিগত প্রবাহবাদীদের জন্য আক্ষেপ আছে, যারা বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করতে গিয়ে কথা ঘুলিয়ে ফেলেন, অথবা অস্পষ্ট সমর্থন জানান তাদের জন্য আক্ষেপ। প্রগতিবাদী রাজনীতি বেশির সময় বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানাতো। কমরেড মণি সিং, কাজী জাফর, দেবেন সিকদার, অমল সেন, ডা:দাহরদের অস্বীকার করার মতো ইতিহাস লেখা যাবে না, তাদের অবদান অনেকটা বেশি। যদিওবা তারা বিপাকে পড়েছিলো যে তাত্ত্বিক ও আদর্শে, কারন বুর্জোয়াদের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে নিয়ে। কিন্তু মণি সিং তো একাত্মতা স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু সর্বহারারা ৭৩ পরবর্তী দ্বিতীয় বিপ্লব করতে গিয়ে যে হিংস্রতা দেখিয়েছে সেটি বেবি মওদুদের লেখাতে স্পষ্টতর ভাবে আছে দৈনিক বাংলায় লেখা ৭২-৭৫ নিহত ৬৫০ নিবন্ধ প্রমান বহন করে, অথবা “১৫ আগস্ট পঁচাত্তরঃ আগের ও পরের কয়েকটি তুচ্ছ সামান্য ঘটনা- আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রবন্ধটি সংকলিত আছে অধ্যাপক নীল কমল বিশ্বাস সংকলিত বাংলাদেশের রাজনীতি একাত্তর থেকে আটানব্বই বইতে, পৃষ্ঠা নং- ৩২৬” বিষয়গুলো উল্লেখ করা আছে।

স্পষ্টতভাবে বলা যায় আওয়ামীলীগের ইতিহাস মানে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করতে গেলেই আওয়ামীলীগের কথা আসবেই। তাই ইতিহাসের পক্ষে কথা বলা মানে আওয়ামীলীগের কথা বলা নয়, ইতিহাসের কথা বলা।বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বার্থপর নেতা বলতে চায় স্পষ্ট ও অস্পষ্টভাবে এটি বলা যায় তার ভ্রুনে গোলমাল আছে। বাম রাজনীতি সবসময় দেশের পক্ষে, মানুষের পক্ষে।

সকল মানুষের জয় হোক।

লেখক: কলাম লেখক।

Comments

comments