সুত্রপাত / নারী / ভারতীয় সিরিয়াল পুরুষতান্ত্রিক এবং কুসংষ্কারের প্রতিনিধিত্ব করে

ভারতীয় সিরিয়াল পুরুষতান্ত্রিক এবং কুসংষ্কারের প্রতিনিধিত্ব করে

মেহরান সানজানাঃ

সময়টা মনে নেই। বেশ আগের কথা। খুব টিভি দেখতাম। স্টার প্লাস, সনি, জি-টিভি, জি-বাংলা। স্টার প্লাসের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘কাসুটি জিন্দেগি, কুমকুম, কাভি সাস কাভি বহু থি’ তারপর আসলো ‘সাথ নিভানা সাথিয়া’। সেই সময় সনি টিভির জনপ্রিয় সিরিয়াল ছিলো ‘জেসি জেসি কোয়ি নেহি’, জি-বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রাশি, সুর্বণলতা ইত্যাদি। হিন্দি চ্যানেলের সিরিয়ালগুলোর বেশির ভাগ ছিলো একতা কাপুরে’র। সে খুব সুন্দর করে কাহিনী ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে চুইংগামের মতো টানতে টানতে লম্বা করে। সবগুলো চ্যানেলের সিরিয়ালগুলো একই রকম। এক বউ’র তিন চারটা বিয়ে হয়, স্বামীর তিন চারটা বিয়ে হয়। পারিবারিক সম্পর্কগুলো এলোমেলো করে দেয়। পারিবারিক সম্পর্কের কোন আগা মাথা নেই। অবিশ্বাস তৈরি করে পরিবারের মাঝে।

মনে পরে সেই আদিকালের কথা। যখন ডিশ ছিলো না। তখন একমাত্র বিটিভি ছিলো ভরসা। বিটিভি’র জনপ্রিয় কিছু নাটক এখনো ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখি। কিছু পাই কিছু পাই না। যেমন, ‘আজ রবিবার’ নাটকটি। অসম্ভব ভালো, হাসির এবং পারিবারিক বন্ধনের একটি নাটক ছিলো। আরেকটা নাটকের কথা না বললে খুব অন্যায় হবে সেটা হচ্ছে ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকটা। অসাধারণ, গল্প, অসাধারণ অভিনয়। সব মিলে চমৎকার ছিলো।

এখন তো অনেক চ্যানেল হইছে। অনেক নাটক হচ্ছে। এখন বাংলাদেশে যে ডেইলি সোপগুলো তৈরি হচ্ছে তা বেশিরভাগ স্টারপ্লাস, জি-বাংলা থেকে নকল করা। এক কাহিনী চুইংগামের মতো টেনে লম্বা করে। বিশেষ দৃশ্যের সময় এক একজনের চেহেরায় যে এফেক্ট ফেলে সেটা অন্তত তিন মিনিট ধরে রাখে যেটা খুব হাস্যকার। সবকিছুই নকল করা।

একটা শ্রেণি এসব সিরিয়ালের অন্ধ ভক্ত। সারাদিন সংসারের কাজ সেরে সন্ধ্যা হলেই বসে যাবে বোকা বাস্কের ( টিভি ) সামনে। এই সিরিয়ালগুলোই যথেষ্ঠ মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করাতে। এরা ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছে দর্শককে। এরা কুটনামি, পরকিয়া, প্রতারণা শিখাচ্ছে। সবচাইতে বাজে ব্যাপার হলো এরা পুরুষতান্ত্রিকতা এবং কুসংষ্কারের ম্যাসেজ দিচ্ছে।

সিরিয়ালের নায়িকা যে সেই সব বিপদে পরে আবার সে খুব অবলা, সেই সব বিপদ থেকে সকল ক্যারেকটারকে বিপদ থেকে রক্ষা করে। এখনকার মেয়েরা কি আর অবলা আছে? নাকি এসব দেখিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় যে তোমরা নারী তোমরা অবলা ! অবলা শব্দটাকে নারীদের ডিকশনারি থেকে বাদ দিতে হবে। তাহলেই হয়তো নারীরা নিজেকে মানুষ ভাবতে শিখবে। এই সিরিয়ালগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিৎ। যদিও এটা বড় একটা সিন্ডিকেট। চ্যানেলগুলোর ব্যবসা হয় এসব পুরুষতান্ত্রিকতা, কুসংষ্কার ম্যসেজ দিয়ে। তবুও উচিৎ প্রতিবাদ করা। এই বৃত্তের থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা সুন্দর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান চাই।

শেয়ার করুন
  • 195
    Shares

২ মন্তব্য

  1. বেশ সুন্দর আলোচনা ছিল। আমি একথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে আমাদের দেশের মেয়েদের পিছিয়ে রাখতে সিরিয়ালের ভূমিকা ব্যাপক। স্বাভাবিক সৃজনশীল চিন্তাও তারা করতে পারেনা। এই লেখাগুলো তাদের পড়া উচিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!