সুত্রপাত / ইতিহাসের পাতা / ভারতবর্ষে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের রেঁনেসা (পর্ব-৪, শেষ পর্ব)
jitu

ভারতবর্ষে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের রেঁনেসা (পর্ব-৪, শেষ পর্ব)

জিতু চৌধুরী:

ভারতবর্ষে বৌদ্ধদের ও বাঙ্গালী বৌদ্ধদের নবজাগরনের সূচনা হয় ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে । বিভিন্ন লেখক, পন্ডিত, ঐতিহাসিকগন বৌদ্ধদের রেঁনেসা হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন । এতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবির(১৮৬৫-১৯২৬), অনাগরিক ধর্মপাল মহাস্থবির(১৮৬৪-১৯৩৩), অগগমহাপন্ডিত প্রজ্ঞালোক মহস্থবির(১৮৭৯-১৯৭১), অধ্যাপক সমন পূন্নানন্দ স্বামী(১৮৭৮-১৯২৮), বিনয়াচার্য বংশদীপ মহাস্থবির(১৮৮০-১৯৭১), জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবির(১৮৮৭-১৯৭৪), পন্ডিত কালীকুমার মহাস্থবির(১৮৭৫-১৯১৪), ধর্মধার মহাস্থবির(১৯০১-২০০০), লব্ধ প্রতিষ্ঠ ডাঃ শান্ত কুমার চৌধূরী(১৮৮৩-১৯৩৬), ড. বেনী মাধব বড়ুয়া(১৮৮৮-১৯৭৪), ড. অরবিন্দ বড়ুয়া(১৯০৭-১৯৮২), দানবীর লক্ষী চরণ তালুকদার(১৮৫৯-১৯২১), শ্রী মহারাজ বড়ুয়া মহাজন(১৮৫৮-১৯৬০), মেজিস্টেট রেবতী রমন বড়ুয়া(১৮৮৫-১৯৭৪), মাষ্টার বিপিন চন্দ্র বড়ুয়া(১৮৭১-১৯৩৪) এডভোকেট ভুপেন্দ্র লাল মুৎসুদ্দি, ডিষ্ট্রিকট রেজিষ্টার অধর লাল বড়ুয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।

বিশেষ করে এদের হাত ধরে ভারতবর্ষে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের রেঁনেসার শুভ সূচনা ঘটে । সেই সময় ভারতবর্ষে ৩,৩০,০০০ বঙ্গীয় বৌদ্ধ থাকলে ও তাহাদের আচার, আচর, সংস্কৃতি, ধর্ম ছিল কুসংস্কারে আচ্ছন্ন । তাছাড়া তৎকালীন কেন্দ্রিয় ভাবে কোন বৌদ্ধ সংঘঠন ছিল না । কিছু ব্যক্তি কেন্দ্রিক নেতা কর্মী দ্বারা সমাজ ধর্ম পরিচালিত হতো, তা ও আবার নিদিষ্ট এলাকার মধ্যে । সেখান থেকে একটি সম্প্রদায়কে নেতৃত্ব দেওয়া কষ্ট সাধ্য বৈই কি । যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তেমন ভালো ছিল না । তিন লক্ষ তিরিশ হাজার সম্প্রদায়ের মধ্যে হাতেগোনা উচ্চ শিক্ষিত । এই সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোয় এনেছিল সে সব ব্যক্তিরা ।
রেঙ্গুনস্থ, “রেঙ্গুন ধর্মদূত বৌদ্ধ বিহার । এই বিহারকে এবং বৌদ্ধদেরকে কেন্দ্রিয় ভাবে নেতৃত্ব দানের জন্য গঠন করা হয় “চট্টল বৌদ্ধ সমিতি বা চিটাগাং বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশন” সংগঠনের হাত ধরে গড়ে ওঠেছিল বৌদ্ধ মিশন, বৌদ্ধ প্রেস সহ নানা ধরনের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড । বৌদ্ধ প্রেস থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় সংঘশক্তি পত্রিকা । বিভিন্ন পালি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা গন্ত্র । এছাড়া কন্ডকালীন কিছু ত্রিপিটক বাংলা ভাষায় রচিত হয়েছিল । যার অবদান এখন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন । তিনি হলেন অগগমহাপন্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির ।

বিখ্যাত কলকাতাস্থ কলকাতা ধর্মাঙ্কুর বিহার সভা, বঙ্গীয় সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবিরের হাত ধরে । তাঁহার ঐকান্তি প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা ধর্মাঙ্কুর বিহার । এই বিহার সভার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় জগজ্যাতি পত্রিকা । এছাড়া ও বিনয়াচার্য বংশদীপ মহাস্থবির ও ড. বেনী মাধব বড়ুয়া প্রতিষ্ঠা করেন নালন্দ পালি বিদ্যা ভবন । বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী সহযোগিতায় এবং ড. অরবিন্দ বড়ুয়া পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠেছিল এই নালন্দা পালি বিদ্যা ভবন ।
এই সময় সভাপতি ছিলেন ড. অরবিন্দ বড়ুয়া ও সম্পাদক ছিলেন ডা. শান্ত কুমার চৌধূরী ।

বৌদ্ধদের মধ্যে প্রথম যে তিনটি পত্রিকা দেখিতে পাই ।
১| জগজ্যাতি পত্রিকা ।
২| সংঘশক্তি পত্রিকা ।
৩| বৌদ্ধবন্ধু পত্রিকা ।

এই পত্রিকাগুলো কতটুকু গুরুত্ববহন করেছিল । তা শুধু ঐতিহাসিকগনরা খুব ভালো বলতে পারবে । বৌদ্ধদের সাহিত্য জগতের অপরিসীম অবদান রেখেছিল এই সব পত্রিকাগুলা । বিভিন্ন সময় কলকাতা ধর্মাঙ্কুর বিহার সভা থেকে বিভিন্ন ধরনের গ্রন্ত্র প্রকাশ করা হতো ।

চট্টল বৌদ্ধ সমিতি ও বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমিতির মাধ্যমে ধর্ম ও সমাজের জন্য কাজ করে গেছে । তাদের সুন্দর কর্মকান্ডের ফলে আজ বৌদ্ধ সমাজ উপলদ্ধি করে ধর্ম ও সমাজকে আলোকিত করছে ।

Comments

comments

error: Content is protected !!