সুত্রপাত / ইতিহাসের পাতা / ভারতবর্ষে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের রেঁনেসা (পর্ব-১)
jitu

ভারতবর্ষে বাঙ্গালী বৌদ্ধদের রেঁনেসা (পর্ব-১)

জিতু চৌধুরী:

জীবন জীবিকার জন্য রেঙ্গুনে বহু বাঙ্গালী বৌদ্ধ অবস্থান করতো। প্রবাসী বাঙ্গালী বৌদ্ধরা ধর্মীয় উৎসবাদি প্রতিপালনের সুবিধার্থে ১৯০২ সালে বাঙ্গালী ভিক্ষু প্রজ্ঞাতিষ্য মহাস্থবির (১৮৭১-১৯৩২) এর নেতৃত্বে “রেঙ্গুন ধর্মদূত বৌদ্ধ বিহার” প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উৎসবাদি, বিহারের ভিক্ষু শ্রামনদের ভরন-পোষন, বিহার রক্ষনা-বেক্ষন ও নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য ভাব বৃদ্ধির জন্য “চট্টল বৌদ্ধ সমিতি” বা “চিটাগাং বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশন গঠন করা হয়। ১৯১৮ সালে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে রেঙ্গুন ধর্মদূত বৌদ্ধ বিহার বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তথ্যঃ বাঙ্গালী বৌদ্ধদের ইতিহাস ধর্ম ও সংস্কৃতি ড. দীপংকর শ্রীজ্ঞান বড়ুয়া ১৪৭ পৃষ্ঠা ১৯২১ সালে বাল্যকাল হতে অগগমহাপন্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির(১৮৭৯-১৯৭১) ধ্যান ধারনার প্রতি ছিল প্রবল শ্রদ্ধা। আরাকান অন্তগত চেরিপৌক্ত নামক নির্জন প্রদেশ পাহাড়ে ক্রমাগত ১ বছর ধ্যানসমাধির অনুশীলনে রত ছিলেন। এহেন সুর্বন সুযোগে ৮ম সংঘরাজ শীলালংকার মহাস্থবির (১৯০০-২০০০) ১৯২১ সালে ফ্রেব্রুয়ারী মাসে বৃহস্পতিবার পূন্যতীর্থে তার অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয়। পবিত্র প্রব্রাজা ধর্মে তার দীক্ষা লাভে সৌভাগ্য ঘটে।

১৯২১ সালের ডিসেম্ভর মাসে তিনি তার প্রধান শিষ্য বিমল কান্তি স্থবিরকে আকিয়াব বিহারে রেখে রেঙ্গুন ধর্মদূত বৌদ্ধ বিহারের অভিমুখে যাত্রা করেন। রেঙ্গুন প্রবাসী বাঙ্গালী বৌদ্ধগন ও চট্টল বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কত্তালা নিবাসী ড. শান্ত কুমার চৌধূরী আন্তরিক প্রার্থনায়, অভ্যর্থনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেঙ্গুন ধর্মদূত বৌদ্ধ বিহারের বিহারধ্যক্ষ ও সমিতির সভাপতির পদ গ্রহন করেন। অতপর তিনি বিহারধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করে প্রবাসী বৌদ্ধদের অসার আনন্দ ও উৎসাহের নতুন বিহার ভবন নির্মান, বৌদ্ধ মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা ও বহু গ্রন্ত্র বাংলা অনুবাদ করেছেন। ব্রক্ষদেশে বাঙ্গালী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিরাট অবদান রেখে গেছেন। তথ্যঃ ত্রি-ঋত্বিক পি লোকানন্দ মহাথের ১১ পৃষ্ঠা তথ্যঃ ডা: শান্ত কুমার চৌধূরীর জীবনালেখ্য ডা: রবীন্দ্র নাথ বড়ুয়া পৃষ্ঠা ১৯২৩ সালে চট্টল বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী উচ্চতর আদর্শের চিন্তাধারা নিয়ে কলিকাতায় আগমন করেন। মধ্য কলিকাতায় ৩৩/ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী রোডে “চৌধূরী ফার্ম্মেসী” নামে এক ডিসপেনসারী প্রতিষ্ঠা করেন। ডাক্তারী ও কয়েকটি নিজস্ব তৈয়ারী পেটেন্ট ঔষধের ব্যবসায় প্রচুর অর্থ উপার্জনের সক্ষম হন। ১৯২৬ সালে কর্মযোগী কৃপাশরণ মহাস্থবিরের মহাপ্রয়ান ও ১৯২৮ সালে সমন পূর্ণানন্দ স্বামী অকাল মৃত্যুতে ঐতির্য্যবাহী কলকাতা ধর্মাস্কুর বিহার সভা, বঙ্গীয় সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসেসিয়েশন সোচনীয় অবস্থায় পড়ে যায়।

১৯২৮ সালে তৎকালীন ভারত বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রতিনিধিত্ব মূলক বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী। উল্লেখ্য, সমন পূর্ণন্দ স্বামী বিহার পরিচালনা ও কঠিন রোগ গ্রস্থ হয়ে ভীষন ভাবে আর্থিক সংকটে পতিত হন। কৃপাশরণ মহাস্থবিরের মহান কীর্ত্তি আন্তজাতিক ভিক্ষু সমাগম ও মহামেলা অনুষ্টানের মাধ্যমে ধর্মাস্কুরের পবিত্র ভিক্ষু সীমা প্রতিষ্ঠা করা হয় ঐস্থান সহ সম্পূর্ণ খোলা মাঠ সুষমা সেনগুপ্তা নামের এক ধনী মহিলার কাছে বন্ধক দিয়ে দশ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করেন। অন্যদিকে বিহারাধ্যক্ষ্যের পদের অধিকার নিয়ে কতিপয় ভিক্ষুর মধ্যে খুব কেলেষ্কারী শুরু হয়। সুষমা সেন গুপ্তা ঋন আদায়ের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দিয়েছিলেন। এত বড় অংকের ঋন পরিশোধ করে বিহার ঋনমুক্ত করা তৎকালীন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে সম্ভব ছিল না বললেই চলে। এতে বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমিতি বা বেঙ্গল বুড্ডিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড: শান্ত কুমার চৌধূরী অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। তথ্যঃ ডা: রবীন্দ্র নাথ বড়ুয়ার লিখিত ভাষন। বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ: সভাপতি।

১৯৮৫ সাল পৃষ্ঠা ১৯৩০ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ। অগগমহাপন্ডিত প্রজ্ঞালোক মহাস্থবির তিনি তার প্রতিষ্ঠিত রেঙ্গুন বৌদ্ধ মিশন প্রেস, বৌদ্ধ মিশন এবং জাতীয় মুখপত্র সংঘশক্তি পত্রিকার কার্যক্রমকে গতিশীল করার মানসে তার দ্বিতীয় প্রিয় শিষ্য আর্য্য বংশর ভিক্ষুর উপর দায়িত্ব ভার অর্পন করে চাঁদা সংগ্রহের জন্য কর্মযোগী কৃপাশরণ কতৃক ১৮৮২ বৌদ্ধ ধর্মাস্কুর সভা এবং ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ ধর্মাস্কুর বিহারে গিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় প্রজ্ঞালোকের সাথে উক্ত সভায় সাধারণ সম্পাদক ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী এবং কলকাতা প্রবাসী বড়ুয়া বৌদ্ধদের আন্তরিক প্রার্থনায় তিনি বৌদ্ধ ধর্মাস্কুর বিহারের অধ্যক্ষ ও সমিতির সভাপতি গুরুদায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। তথ্যঃ ত্রি-ঋত্বিক পি লোকানন্দ মহথের ১৮১৯ পৃষ্ঠা ১৯৩০৩১ সালে কার্য বিবরনীতে অন্যতম মুদ্রক ছিলেন ড. বেনী মাধব বড়ুয়া। ডা: শান্ত কুমার চৌধূরী ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। তথ্যঃ জগজ্জ্যোতি, নবপর্য্যায় ২য়-৩য় সংখ্যা ৮ম বর্ষ ১৯৫৮ সাল। বি:দ্রঃ পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষা করার অনুরোধ করছি

লেখক: অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

 

Comments

comments

error: Content is protected !!