সুত্রপাত / রাজ্যের যুক্তি-তর্ক / বৃদ্ধাশ্রম সমস্যা না সম্ভাবনা?।। শতাব্দী সানজানা

বৃদ্ধাশ্রম সমস্যা না সম্ভাবনা?।। শতাব্দী সানজানা

শতাব্দী সানজানা:
বৃদ্ধাশ্রম কি আসলেই প্রয়োজন? আমার তো মনে হয়, না!! আমার কাছে বৃদ্ধাশ্রম মানে কারাগার। যদিও বৃদ্ধাশ্রম গুলো কারাগারের মতো না। সেখানে অনেক বৃদ্ধারা আনন্দের সহিত জীবনযাপন করছে ইচ্ছাকৃত ভাবে। মন থেকে আনন্দ কেউ করে না। সন্তানরা বাধ্য করছে তাদের এই মেকি আনন্দে ঢুবে থাকতে।

একজন নারী সে গর্ভবতি হওয়ার পর থেকে সারাটা জীবন পার করে দেয় সন্তানের ভালো মন্দে। তার এই আনন্দ কখনোই মেকি না। মা বাবার ভালোবাসা কখনো মেকি হয় না মেকি হয় সন্তানের ভালোবাসা। যখন সেই সন্তান অন্যের হাতের পুতুল হয়ে যায়। একজন বাবা তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছুটছে ভালো উর্পাজনের জন্য এই সন্তানের মুখে হাসি দেখবে বলে। সেই সন্তান কতোটুকু হাসি উপহার দিয়েছে এই বাবার??

একজন মা যে বাবাহীন সন্তানকে মানুষ করার জন্য রক্ত পানি করেছে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায় কোন যুক্তিতে? এই সমাজে বাবাহীন সন্তানকে মানুষ করতে গেলে সেই মায়ের কতো কিছু পোহাতে হয় তা কি সেই সন্তান জানে?? আমার তো মনে হয় জানে না, জানলে এই জগন্যতম কাজ করতো না। মাও সন্তানের সাথে শেয়ার করে না কারণ এগুলো শুনলে সন্তান কষ্ট পাবে। কিন্তু আমার মতে সন্তানকে বুঝতে দেয়া উচিৎ। যে বাবাহীন মা কতো কষ্ট করে সন্তানের জন্য। এই বুঝতে না দেয়াটা বোকামি। সন্তানও বুঝুক সে এক যোদ্ধা মায়ের সন্তান।।

সন্তানকে আপনি যে পরিবেশেই বড় করেন না কেনো!! তারা একটু হলেও বখে যাবে। কারণ তখন সে বিভিন্ন মানসিকতার মানুষের সাথে ওঠা বসা করবে। স্কুল জীবনে একরকম স্বভাব হবে, কলেজ জীবনে, আরেকরকম স্বভাব হবে, আবার চাকুবি জীবনে আরেকরকম স্বভাব হবে। এই স্বভাব নিয়ন্ত্রন করতে পারে একমাত্র বাবা মা।
আমরা মানুষ প্রতিটা সেকেন্ডে আমরা বদলাই এটা নিয়ন্ত্রন করতে পারে একমাত্র আমাদের কাছের মানুষেরা। তবে হ্যাঁ নিজেদের ইচ্ছাটাও থাকতে হবে। তবুও চেষ্টা করতে হবে সন্তান যেনো ভুল পথে না হাঁটে।।

আমার বৃদ্ধাশ্রম সর্ম্পকে তেমন ধারণা ছিলো না। ২০০০ সালে আমার এক বন্ধু বললো তার দাদীকে নাকি বৃদ্ধাশ্রমে দেবে। তখন ব্যাপারটা বুঝিনি। বাসায় মা কে জিজ্ঞেস করলাম, বৃদ্ধাশ্রম কি তখন মা পুরো ব্যাপারটা খুলে বললো। শুনে একটু চমকিত হলাম আর ভাবলাম ‘ কি করে সম্ভব ?‘ আমার সেই বন্ধুটির সাথে গেলাম বৃদ্ধাশ্রমে ,যাওয়ার পথে তাকে বললাম, ; এটা কি ঠিক হচ্ছে?, দাদী তোদের সাথে থাকলে সমস্যা কি?’ সে বললো, ‘ আম্মুর সমস্যা’।। আমি হতবাক হয়ে চেয়ে রইলাম ।।

“বিশিয়া বৃদ্ধাশ্রম” গাজিপুরে অবস্থিত এবং ঢাকার ভেতর সবচেয়ে বড় এবং ভালো বৃদ্ধাশ্রম বলা হয়। গিভেন্সি গ্রুপের মালিক বিখ্যাত শিল্পপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় খতিব আবদুল জাহিদ মুকুল। এই প্রতিষ্ঠানটি তাঁর অন্যতম চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান।। বলা হয় তিনি এখানে কোন বিদেশি সহযোগিতা নেন না। আসলেই কি তাই? বিদেশি সহযোগিতা ছাড়া চ্যারিটে প্রতিষ্ঠান কি চালানো সম্ভব? আমাদের দেশে বিভিন্ন এনজিও গুলো বিদেশি সহযোগিতা নিচ্ছে। কিন্তু সেই পরিমানের সুবিধা কেউ পাচ্ছে না। হতে পারে তিনি শীল্পপতি অঢেল অর্থের মালিক তাই হয়না বিদেশি সহযোগিতা লাগে না।।
২০১৪ সালে মনে হয় বৃদ্ধাশ্রমে চিঠি প্রতিযোগিতা হয় সেখানে এক মা চিঠি লেখে তার ছেলেকে। এবং তিনি প্রথম স্থান গ্রহণ করেন। এ শুধু প্রতিযোগিতা না, কোন খেলা না । একজন মায়ের মনের কথা, একজন মায়ের মনের ব্যাথা। এই ব্যাথা বুঝতে হলে হয়তো আরেকবার জন্ম নিতে হবে সেই মায়ের গর্ভে।

কোন বাবা মা সন্তানের কাছ থেকে কিছু আশা করে না। তাদের শুধু একটাই চাওয়া সন্তান যেনো ভালো থাকে। সন্তান ভালো থাকলেই বাবা মা খুশি। কিন্তু সন্তান কেনো মনে করে বাবা মায়ের আশা বেশি?
বাবা মা কে নিজের কাছে রাখুন তাদের ভালোবাসুন তাদেরকেও ভালোবাসতে দিন। বৃদ্ধাশ্রমের কোন প্রয়োজন নেই। আমি আপনি পারি বাবা মায়ের দায়িত্ব নিতে তবে বৃদ্ধাশ্রম কেনো? আর কাউকে বৃদ্ধাশ্রম গড়ার সুযোগ দিয়েন না। আমরাই পারি বৃদ্ধাশ্রম বন্ধ করতে। বৃদ্ধাশ্রমকে না বলুন বাবা মাকে ভালোবাসুন।

লেখক:- অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

Comments

comments