সুত্রপাত / দর্শকের চোখে / বাকের ভাইয়ের ফাঁসি

বাকের ভাইয়ের ফাঁসি

আরাফাত এইচ রাশেদ:

১৯৯৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, আদালতের রায়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয় বাকের নামে একজন মাস্তানের। যে ফাঁসির প্রতিবাদে ঢাকা শহরের জনতা রাস্তায় নেমে আসে, মিছিল স্লোগান নিয়ে তারা নাটকটির পরিচালক এবং রচয়িতার বাড়ির সামনে জড়ো হয়, তারা স্লোগান দিচ্ছিলো বাকের ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে ইত্যাদি। দেয়াল লিখন পোস্টারে ঢাকার দেয়াল ভরে গেছিলো, এসব ঘটনা সত্যি হলেও বাকের ভাইয়ের ফাঁসি কিন্তু সত্যি না। হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও বরকত উল্লাহর পরিচালনায় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশিনে প্রচার শুরু হয় ধারাবাহিক নাটক “কোথাও কেউ নাই”। ক্রমেই দর্শক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে যায় নাটকটি। নাটকটি যখন শুরু হতো তখন শহরের রাস্তা ঘাট ফাঁকা হয়ে যেতো, সবাই টিভির সামনে বসে মন্ত্রমুগ্ধের মত ধারাবাহিকটি দেখতো। বাকের ভাই এবং মুনা ছিলো নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে।

বাকের ভাই চরিত্রে অভিনয় করেছিলো জনপ্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এবং মুনা চরিত্রে অভিনয় করেছে সুবর্ণা মোস্তফা। বাকের ভাইয়ের দুই সঙ্গি ছিলো বদি এবং মজনু। বদি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আব্দুল কাদের, যিনি বাকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে কারণে তার বিপক্ষেও মিছিল হয়েছিল, বাকের ভাইয়ের মৃত্যুর পর অনেকে তার কুলখানিও করেছিল, কুলখানির নিমন্ত্রণ কার্ড বদির বাসাতেও পাঠানো হয়েছিল। নাটকটা মানুষের হৃদয় এতোটা ছুঁয়েছিল। বিশ্বের আর কোথাও কোন নাটক নিয়ে এতো উন্মাদনা সৃষ্টির কোন নজির নাই। নাটকটা আপনি যত দেখবেন তত মুগ্ধ হবেন, শেষ পর্যন্ত এই মুগ্ধতা থেকে একটুও বিচ্যুত হবেন না। জীবন যে কত অদ্ভুত, জীবনের চলার পথে জীবন যে কতদিকে বাঁক নেয় সেটা এতো সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে যে আমার মনে হয় এতো সুন্দরভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন নাটকে দেখানো হয় নি। চারদিকে যখন ফজরের আজান হচ্ছিল বাকের ভাইয়ের লাশ তখন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হচ্ছে,আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাকের  ভাইয়ের প্রিয় গানটা বাজছিলো হাওয়া মে উড়তা যায়ে মেরা লাল দোপাট্টা তখন এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিলো।

লেখক: উদীচী কর্মী।

Comments

comments