পিতৃশুদ্ধিকরণ

আম্মানসূরা:

অবশেষে সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলাম। উফফ! কি শান্তি!! সিদ্ধান্তটা নেবার পর থেকেই ভীষণরকম শান্তি অনুভব করছি। সেই ঘটনাটার পর থেকে আমি রাতে আর ঘুমাতে পারিনি, আজ হয়ত শান্তির ঘুম দিতে পারব! আহা ঘুম! তিন মাস পর অবশেষে আজ তোমায় পাব আমি! আজ রাতে চমৎকার ঘুম হবে আমার। আজ রাতের পরিবেশ একদম সেদিনের মতন অথচ কত আলাদা। আজ রাতটা আমার হবে! হা হা হা,,, শুধুই আমার,,,, হা হা হা,,,,

সব ঠিক করে ফেলেছি। কিভাবে বাবাকে শুদ্ধ করব। কতটুকু সময় নেব, কতটা আঘাত করব, কতটা যন্ত্রণা দেব,,,, সব ঠিক করা। সবকিছু হবে আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী, হতেই হবে। আজ আমি আমার বাবাকে শুদ্ধ করব। শুনছো পৃথিবী, শুনছো মানুষ, খোদা, তুমি আছো কি? যদি থাকো, তাহলে তুমিও শুনে রাখো- আজ আমি আমার পিতা কে শুদ্ধ করব, অনেক যন্ত্রণা দিয়ে। পিতৃশুদ্ধিকরণ থেকে আজ আমায় কেউ রুখতে পারবেনা, খোদাও না, শয়তানও না,,,,

ওই তো কলিংবেল বাজছে, একদম সেদিনের মতন। আমি এখন গেট খুলব, সেদিনের মতন। ওই তো বাবা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে গেটে, সেদিনের মতন। তার হাত ভর্তি খেলনা ও আমার প্রিয় খাবারের প্যাকেট, সেদিনও এমন হাত ভর্তি বাজার ছিল শুধু আমার জন্য। বাবা এখন কি কি করবেন তা আমি জানি কিন্তু আমি কি কি করব তা বাবা জানেন না, হা হা হা,,,,

বাবা এখন রান্নাঘরে যাবেন। মা দুপুরে যেই খাবার রেধে গেছেন, তা গরম করবেন নিজেই। সব খাবার টেবিলে নিজেই সাজাবেন। তারপর নিজ হাতে আমাকে খাইয়ে দিবেন। আমিও খাব সেদিনের মতন। আজ সব কিছুর শুরু হবে সেদিনের মতন আর শেষ টা হবে একেবারেই অন্যরকম শুদ্ধি দিয়ে। যেই শুদ্ধি ইতিহাসে ঘটেনি, যেই শুদ্ধিরর দৃশ্য দেখলে আজরাইলও আতকে উঠবে, শয়তান বিষম খাবে ও আমাকে কুর্ণিশ করবে,,,,, সেই শুদ্ধি ঘটাব আজ আমি।

ওই তো বাবা টেবিলে খাবার সাজিয়েছেন। আমায় এখন আদর করে ডেকে নিয়ে যাবেন। আজ মা নেই বাসায়, সেদিনের মতন। আমি আর বাবা। পিতার জীবনের শেষ রাত, শেষ ডিনার। অবশ্যই আদুরে ও স্পেশাল হওয়া উচিত। তাই আজ তিনি আমায় ভাত খাইয়ে দিবেন আর আমিও তাকে। অবশ্য এটা সেদিনের মতন হবেনা। সেদিন আমি তাকে খাইয়ে দেইনি, তিনিই দিয়েছেন। আর এখান থেকেই ব্যতিক্রম শুরু হবে।

রাতের খাবার শেষ করে পান খাওয়া পিতার পুরানো অভ্যাস। আমিই পানটা নিজ হাতে বানাব। নিজের হাতে খাইয়ে দিব। আজ আমি যা বলব, যা করতে চাইব বাবা তাই তাই করবেন। আজ তিনি আমার হাতের পুতুল। অন্যদিনের মতন আজ আমায় মারবে না, মাকে মারবে না, আজ কোন বকাও দিবেনা। বকাবাজ বাবা আজ মধুরভাষী হবে কারণ আজ যে তিনি মধুপায়ী হবে,,,, মধু ভেবে বিষ খাবে,,,, হা হা হা,,,,,

বাবা পান চিবুচ্ছে আর আমার দিকে চেয়ে আছে। আমাকে দেখছে, তার ঔরসজাত সন্তান কত বড় হয়েছে তা দেখছে। তার শুক্রাণু কত বড় হয়েছে তা দেখছে আর নিজের লিংগের ক্ষমতা দেখে আপ্লুত হচ্ছে। তাইতো লিংগে হাত বুলাচ্ছে আর আমার কথা ভাবছে। আমার জায়গা তার লিংগে, এই সত্য তিনি জানেন ও মানেন। বাবা এখন গভীর ঘুমে ঢলে পড়বেন আর এখন থেকেই শুরু হবে আমার কর্মযজ্ঞ, সে’রাতের পিতার কর্মযজ্ঞের ঋণশোধ।

বাবা ঘুমে ঢুলু ঢুলু। তবুও আমাকে কোলে বসিয়ে আদর করছেন। নাহ, বাবাকে শোবার ঘরে নিতে হবে কারণ ক্যামেরা ওই ঘরে ফিট করা। তাই বাবাকে বললাম- বাবা, চলো ওই ঘরে যাই। বাবাও খুশী মনে রাজী হলেন। খুশী তো হবেনই। যেই মেয়েকে সেই রাতে চাকু দেখিয়ে খুন করার হুমকি দিয়ে শোবার ঘরে টেনে নিয়েছেন, আজ সেই মেয়ে নিজের থেকেই যেতে চাচ্ছে। কত পরিবর্তন এই তিন মাসে। হ্যা, এই তিন মাসে আমার উপর দিয়ে অনেক অনেক পরিবর্তনের ঝাপটা গেছে।

সেই রাতের পর আমি একমাসের জন্য বোবা হয়ে গেছিলাম। কথা বলতে পারিনি। বড় ফুপি এসে তার বাসায় নিয়ে যান। চিকিৎসা করান। একমাস পর মুখে কথা ফুটলেও স্বাভাবিক ছিলাম না। কেউ আমার গায়ে হাত দিলেই চিৎকার দিতাম। রাতে ঘুমাতে পারতাম না। আড়াই মাস এভাবেই কাটলো। আড়াই মাস পর এক বিকালে টিভিতে দেখলাম মাকড়শার কয়েকটা প্রজাতির মজার মজার কিছু আচরণ। একটা প্রজাতিতে নারী মাকড়শা সংগমের পর পুরুষকে খেয়ে ফেলে আবার কিছু প্রজাতিতে সন্তান গুলো ডিম ফুটে বের হয়েই মা মাকড়শা কে খেয়ে ফেলে। এই খেয়ে ফেলার দৃশ্যগুলো দেখে আমার এত ভাল লাগলো যে সেদিন থেকেই কিছুটা স্বাভাবিক হলাম আর ভাবতে থাকলাম, আমিও আমার বাবাকে খেয়ে ফেলব। তবে খেয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটা কেমন হবে সেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি আজ,,,, আর তাতেই অদ্ভুত শান্তি পাচ্ছি!

বাবার পানে আমি ঘুমের বড়ির গুড়া মিশিয়ে দিয়েছি। তাই শোবার ঘরে এসেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেলেন। এই কিছুক্ষণে তিনি যা যা করেছেন তা ভিডিও হয়ে থাকলো আর এখন আমি যা যা করব তাও ভিডিও হবে। এই নিদর্শন পৃথিবীর জন্য, পৃথিবীর মানুষের জন্য তৈরি করছি আমি। যেন সবাই জানে ও বুঝে শিশ্ন কতটা পাপী, কতটা অন্ধ ও নির্মম। শিশ্নের তাড়নায় পিতাও হয়ে যায় রাক্ষস। সেই পাপী শিশ্নের কুকর্ম ও তার কর্মফল দুইই ভিডিও হবে। এই ভিডিও ফেসবুকে আপ্লোড দিব যেন অজাচারকে মনের বন্ধ ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রাখা পিতারা ভয়ে আতকে ওঠে, অন্তরাত্মা কেপে যায়। যেন তাদের কন্যাদের দেখলে আমার কথা স্মরণ হয়। আর তখুনক তাদের বিষাক্ত শিশ্ন যেন ভয়ে গর্তে লুকায়। সেই নিদর্শন তৈরি করব আমি।

প্রথমে তার হাত পা শক্ত করে বেধে নিলাম। মুখে স্কচটেপ দিয়েছি যেন চিৎকার করতে না পারে। অবশ্য রুমটা এমন জায়গায় যে চিৎকার দিলেও কেউ শুনবে না। সেদিন আমার চিৎকারও কেউ শোনেনি। চুলায় এক হাড়ি পানি দিলাম। পানির সাথে গুড়া মরিচ দিয়েছি। তবে এই পানি পরে ব্যবহার করব। ছুরি কাচি সব আগেই যোগাড় করে রেখেছিলাম। তা দিয়ে প্রথমে অণ্ডকোষ কেটে নিব আর তখন তার ঘুম ভেংগে যাবে। হ্যা, এইতো প্রচন্ড ঝাকাচ্ছে শরীর, বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে। আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিলাম। তার কপালে মুখে রক্তাক্ত হাত দিয়ে আদর করে দিলাম আর বললাম- ভয় পেওনা বাবা, এটা শুধুই একটা খেলা। হা হা হা,,, সেদিন তিনিও এই কথাই আমাকে বলতে বলতে খেলেছিলেন। আজ আমি খেলব।

এখনকার ধাপ হচ্ছে, শিশ্নের চামড়া ছিলব। খুব সাবধানে শিশ্নের চামড়া ছিলে নিলাম। তার শরীর খুব ঝাকাচ্ছিল তাই কোমড় শক্ত করে খাটের সাথে বেধে নিয়েছি আর কপালে চুমু খেয়ে সান্তনা দিয়েছি, সেদিন তিনি যেমন দিয়েছিলেন। চামড়া ছিলে ফেলেছি। এখন লবন দেব। লবন দেয়ার সময় শরীরটা কাপছিলো, উফফফ, কি সুন্দর নৃত্য! সেদিন আমার শরীরটাও কেপেছিল! মাগো! এখনো বেচে আছে! সমস্যা নাই, আমার হাতে এখনো অনেক অনেক প্ল্যান আছে। সবগুলা যেন এপ্লাই করতে পারি মহামান্য ইব্লিশ! প্লিজ, আপনি তাকে বাচিয়ে রাখুন।

কাচা আমের সমস্ত টক বের করে মিষ্টি মোরব্বা করা হয়। আমিও তেমনি তার চোখ দুটির সমস্ত পাপ কেচে কেচে বের করে পূণ্যতায় ডুবিয়ে দেব। কিন্তু একি! সে নড়ছেনা কেন? ধুর! হে মহামান্য ইব্লিশ আপনি তাকে শক্তি দিন, তাকে আরেকটু বাচিয়ে রাখুন। ওয়াও! ইব্লিশ আমার কথা শুনেছে। সে নড়ছে। তার মুখের টেপ খুলে দিলাম। কিছু বলুক। হায়! কিছুই বলছেনা। শুধু গোংগাচ্ছে। আমি বাথরুম থেকে হারপিক এনে তার চোখে ঢেলে দিলাম কারণ তার চোখ দুটি কমোডের চেয়েও বেশী নোংরা।

লোকটার জিহ্বা বের হয়ে গেছে। একটু পানি দেয়া উচিত। রান্নাঘরে গিয়ে একগ্লাস ফুটন্ত জল আনলাম। তার মুখে ঢেলে দিলাম। বাহ! তার মুখটা এখন একদম তার মনের মতন হয়ে গেছে। মন ও মুখের কোন পার্থক্য নাই। মুখ ও মনের ভারসাম্য এসেছে। এখন আমি তাহলে একটু ঘুমাই। আজ আমি বাবার বুকে মাথা দিয়ে ঘুমাব। শান্তির ঘুম ঘুমানোর আগে ভিডিওটা ফেসবুকে আপ্লোড দিয়ে যাব। সবাই জানুক, দেখুক ও বুঝুক। হে শিশ্নধারী দানবের দল, এই ভিডিও তোদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকুক,,,,,

ওইতো দুই পাতা স্লিপিং পিল! সব খেয়ে নিলাম। এবার আমি ঘুমাব। বাবার বুকে মাথা দিয়ে। বাবাও ঘুমিয়ে গেছে। আমিও ঘুমাব। সেই শিশুবেলার মতন। মায়ের কাছে শুনেছি, শিশুবেলায় আমি নাকি বাবার বুকে মাথা রেখেই ঘুমাতে পছন্দ করতাম। আজ পনেরো বছরের এই আমি শিশুর মতন ঘুমাব, তিনমাসের ঘুম, সারাজীবনের ঘুম। ঘুমাও পিতা, ঘুমাই আমিও। আহ! অবশেষে শান্তির ঘুম!!

শেয়ার করুন
  • 3
    Shares

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!