সুত্রপাত / সম্পাদকের কলম / পলেটিক্স বুঝেনই না, পয়েটিক্স একদম বুঝেন না !

পলেটিক্স বুঝেনই না, পয়েটিক্স একদম বুঝেন না !

শিপ্ত বড়ুয়া:

( পয়েটিক্স )

কোন এক কালে কোন মেয়ের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়েছিলাম, সে জবাব এখন কেনো দিবো!
পলেটিক্স তো বুঝেনই না, পয়েটিক্স একদম বুঝেন না।

আমি, তুমি শব্দটা কবিতায় লিখলেই সেটাকে পলেটিক্স ভেবে, পয়েটিক্সকে উপহাস করছে মানুষ।
আচ্ছা, আমি তার কোন স্তনে আমার স্বপ্ন বুনেছি তা বললে মানুষ কেনো পলেটিক্স ভাবছে ? এটাতো স্বয়ংক্রিয় পয়েটিক্স।

কবিতা অথবা গল্প যদি কারো প্রেম অথবা ভালোবাসাকে লাইফ সাপোর্টে পাঠায় তাহলে কি সেটা কবিদের পলেটিক্স ?
কবিতা কবিদের জ্বালাতন করে বলে, কবিরা কবিতার উন্মেষ ঘটায়, তাতে কবিদের কি দোষ!

স্মৃতিগুলো ধুঁকে মরে বলেই তো গল্পের সৃষ্টি ।
এখন মেয়েদের মা – বাবারা পলেটিক্স বুঝেনই না, পয়েটিক্স একদম বুঝেন না!

( পলেটিক্স )

আজকাল আর পুঁজিবাদ বিরোধী মিছিলে যাই না বলে, সমাজতন্ত্র কি ভুলে গেছি, কর্পোরেট চিন্তা করছি ?
সে ইতিহাস তো মানুষ জানে না, আমার প্রিয়তম বাবা, যে পুঁজিবাদের আস্তানা গেঁড়ে বসেছে, তার বুকে আমি কতোটা আঘাত করে যাচ্ছি।

না, কিছুই করছি না। বরং আমার পুঁজিবাদী বাবার টাকায় এমেরিকার বেনসন পোড়াচ্ছি, এটা নিশ্চয় পলেটিক্সের মার খেয়ে যাওয়া এবং পয়েটিক্সের সফলতা।
মনে আছে, এই কয়েকদিন আগে আমি মার্ক্সের কথা ভেবে পুঁজিবাদী বাবার শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে লেলিয়ে দিয়েছিলাম এক পুঁজিবাদীর বিপক্ষে। এটা কিন্তু সয়ংক্রিয় পলিটিক্স।

পুঁজিপতি আর সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণী আমি বুঝি,
নীল পতাকা কিভাবে লাল হলো তা আমি বুঝি।

আপনাদের পলেটিক্স আর পয়েটিক্স বুঝতে যে কষ্ট হচ্ছে তাও স্বয়ংক্রিয় পয়েটিক্সের মাধ্যমে আমি বুঝি,
কেবল আপনারাই সর্বহারার পলেটিক্সটা বুঝলেন না।

এখন পলেটিক্সের বাংলা শব্দটা ব্যানারে আটকে আছে, সাহিত্য সমালোচনা পয়েটিক্সে হারিয়ে গেছে।
আজকাল রাজনীতিবিদগণ পলেটিক্স বুঝেনই না, পয়েটিক্স একদম বুঝেন না।

লেখক: সম্পাদক, আমার কলম।

Comments

comments