সুত্রপাত / গবেষণা / নারী সন্তান না নেওয়াও একটা বিপ্লব

নারী সন্তান না নেওয়াও একটা বিপ্লব

তানভিরুল মিরাজ রিপন:

এক সময় নারীরা দুনিয়া শাসন করতো,নারীরা দুটো জিনিসে এগিয়ে ছিলো  সন্তান জন্ম দেওয়া এবং কৃষিকাজে। পুরুষেরা পারতো শুধু পশু শিকার । এই যে আজ লজ্জা লজ্জা করি,এসব আদিম লোকেরা করতো না। আদিম লোকেদের ইতিহাস যারা লিখেছে তারা সভ্য জাহির করতে গিয়ে, আদিমদের চেয়ে এগিয়ে আছে এমন চিন্তা থেকে তাদের ইতিহাসে লজ্জা শব্দটি, গাছের ডালপালা দিয়ে  শরীর ঢেকে রাখতো এসব কিছু শুধুই জোর করে ইতিহাসবেত্তারা প্রবেশ করালেন। যাদের মন ও মস্তিষ্কে ভেতর পরিবারের চিন্তা প্রবেশ করেনি। যারা নিজেদের মায়ের সাথে যৌন সংগমেও আগ্রহ পোষন বা যৌন সংগম করতো। তাদের ভেতরের চিন্তা ভাবনা লজ্জার মতো শব্দ দিয়ে উৎপত্তি হয়নি। তখনের মানুষেরা অসভ্য হলেও তারাই মানুষ জাতির ইতিহাস এবং সভ্যতার প্রথম মানব। এদের দিয়েই বিবর্তিত হয়েছিলো দিনকাল, মানুষ সব কালেই আলাদা এবং স্বত্তাকে বুঝতে পারে।স্বত্তার উপস্থাপন যতটা নিপুন ও সুন্দরভাবে হয়েছে ততোই প্রভাবিত হয়েছে, হয়তো কোন মানুষ, কোন পরিবার, কোন সমাজ, বা কোন রাজ্য বা কোন সাম্রাজ্য।

ধর্মের উৎপত্তিটা একেবারে হাস্যকরভাবে হয়েছে বললে পাঠকের কাছে বালখিল্যতা এবং যুক্তিমূর্খতামির মতো লাগলেও এটির সহজ ব্যখ্যা আছে। ধর্মের প্রথম রূপ পশুপূজা। কারন আদিম মানবরা আশ্চর্য হতো মানুষ দুর্গম পথ ধরে অনায়াসে মানুষ
হাটতে পারেনা, মানুষের ঘ্রান শক্তি পশুর মতো না, তাদের ধারালো নখ বা দাঁত আছে। “ধর্ম মাত্রই একটা ভাবনা, যেটা কাল্পনিক ভীতি থেকেই উৎপন্ন হয়, বা হয়েছিলো। “ম্যাজিক, দেবতা, ধর্মের কার্যকলাপ সকল কিছুই আদিম মানুষের প্রয়োজন ছিল
কারন প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষ খুবই দুর্বল। তবে এই ভাবনা সৃষ্টি করতো একমাত্র টোটেমের নেতারা যারা ডাইন নামে পরিচিত। ডাইন একটি মিথও প্রচলিত আছে গ্রাম্য সমাজে। ডাইন বলতে বোঝানো হয় যারা অতিরিক্ত পেটুক,বা লোভাতুর। টোটেমের ডাইনগুলো পেটুক ও লোভাতুর প্রকৃতির ছিলো। কিন্তু সময় পর উপলব্ধি এবং অর্থানুসারে ধর্ম হয়ে যায় অন্য কিছু, ধর্ম মানে কাজ বা বৈশিষ্ট্য। সাপের ধর্ম ছোবলমারা,মানুষ বাঘের মতো হিংস্র নয়।

মানুষ একটি সামাজিক প্রাণী, সমাজ বলতে আমরা সকলে জানি। মানুষ যে দলগতভাবে শিকার করতো সে খাবার গুলো যৌথ সমাজে নিজেরা ভাগ করে খেতো। ঐ যৌথ সমাজে মানুষ বাস করতো ত্রিশ বা চল্লিশজন। নিয়েনডারথেল মানুষরাই প্রথম যৌথভাবে সমাজবদ্ধ হয়েছিলো। তারা উলঙ্গই থাকতো বেশি। এখন কেনো নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা ছোট পরিবারে গঠনে মানুষ আগ্রহ বোধ করছে এবং বৃদ্ধাদের মানুষ বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাচ্ছে তার কারন হলো, মানুষ সে আদি ধর্ম বিশ্বাসের কবল থেকে সরে আসছে,অবচেতনভাবে। যে টোটেমের মুরব্বী কদর আগে ছিলো তার বিশেষ কারন হলো আগেকার টোটেমের মুরব্বীরা শিকার কৌশল শেখাতো মোটকথা বৃদ্ধদের কাছ থেকে আদিম তরুণ শিকারীরা কিছু শিখতে পারতো বলেই তাদের কদর করতো। কিন্তু আধুনিকতার কারনে বৃদ্ধদের ধ্যান ধারনা থেকে মানুষ সরে আসলো বলেই বৃদ্ধদের ধারনাগুলো অকার্যকার কোন ফলপ্রসু ধারনা পাচ্ছেনা বলেই তাদের প্রতি কদর কমে যাচ্ছে।এই কমে যাওয়াটা অবচেতন বা অনুভূত না হয়ে হচ্ছে। এই সরে আসাটা ধর্মের বিপরীতে দাড়ানো। আমরা সকলে আদিমতা থেকে সরে দাড়াচ্ছি অবচেতনভাবে, কিন্তু ধর্মের গোড়ায় পানি ঢালছি একেবারে সচেতন ভাবে। অথচ সকলে মূল বিন্দু থেকে সরে দাড়িয়েছি। এই ধর্মের বিন্দু থেকে কার্যত সরে দাড়ানোর ফলেও আমরা বিচ্যুত নয়, স্বীকার করছিনা বা বুঝতে পারছিনা যে আমরা আদিমতা থেকে সরে দাড়াচ্ছি।

সাম্রাজ্যবাদীদের কৌশলে আমরা প্রতিনিয়ত নিজের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে ধর্মবিন্দুর দিকে দিচ্ছি। এতে সাম্রাজ্যবাদীদের কৌশলগুলো সফল হচ্ছে। এদের কৌশলে যতোই সাড়া দেওয়া হবে ততোই পৃথবীতে দলীয় সংঘর্ষ, হিংসা, বিদ্বেষ, দলাদলি
থাকবে। ধর্ম থাকা যতোটা জরুরী না নাস্তিকতা জাহিরও অতোটা জরুরী না। রাষ্ট্রের ধর্ম থাকাটা হলো ভোটের ধূর্তামি। “সত্যই ঈশ্বর, ঈশ্বরই সত্য। “ধর্ম সত্য হলে বাংলাদেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে দুর্নীতির কমতি আছে বলে মনে হয় না। যেখানে কোনটাতে
সত্যের উপস্থিত নেই, সেখানে ঈশ্বর বা ধর্মটাও মিথ্যা। এই ধর্মকেন্দ্রীক রাজনীতি পুরোটা সংবিধানের অনুচ্ছেদ নম্বর ১২(ক)(খ)(গ) এর পরিপন্থী। “ধর্মাশ্রিত সকল ব্যক্তিই ভয়ংকর, ধর্মকে আশ্রয় দেওয়া সকল ব্যক্তিই সৎ। “ধর্মের চেয়ে মানুষ জরুরী। মানুষ না থাকলে, মানুষের মাঝে ঐক্য বা সম্প্রীতি না থাকলে ধর্ম কিসের সম্প্রীতির কথা বলে ? ধর্ম থাকুক। সমাজের ওয়ালপেপার হয়েও থাকুক আপত্তি নাই। মানুষ কতো সংস্কার, কুসংস্কাস পালন করে। কিন্তু রাষ্ট্রের হতে হয় সেক্যুলার। যে মানুষগুলো রাষ্ট্রের ধর্ম থাকা আবশ্যক মনে করে,তারা সকলে ধর্মাশ্রিত।

একেক সময় দুনিয়াকে একেক রকমভাবে শাসন, শোষন করেছে অনেকে, যে যার মতো করে পৃথিবীতে নিজস্ব থিওরী দাড় করানোর চেষ্টা করেছে। কেউ সফল কেউ আবার পুরোপুরি সফলও নয়। পৃথিবীর প্রতিটা থিওরী যেমন একেকটা বিন্দু থেকে আন্দোলিত হয়ে, বিস্তার বা প্রসারিত হয়। সংকোচনও হঠাৎ হয় না। বিস্তার যেমন একটি সীমিত বিন্দুগামী, সংকোচনও একটা নিম্নমুখী বিন্দুগামী। এই সকল থিওরীর কোনটা সরলরেখা বরাবর নয় তবে জ্যামিতিক। পৃথিবীতে একেক সময় একেক দ্বন্দের মধ্য বিপ্লব ঘটেছে হয়তো রেনেসা, নয়তো শিল্প, নয়তো ফরাসি এভাবে পৃথিবীর নূতনত্ব এসেছে। ধর্ম সংঘাত কমে গেলে মানুষ যৌন সংঘাত এবং নারীকে প্রধান পুজি করবে এই প্রধান পুজিটাই দুনিয়াকে শেষাংশে নিয়ে যাবে যেটার দ্বন্দে জড়াবে মানুষ। নারী সন্তান উৎপাদনে যদি না এগিয়ে আসে, তাহলে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে না, এবং একটা সময় গিয়ে মানুষকে অন্যকোন প্রানী শাষন করবে। নারী সন্তান না নিতে চাওয়াও একটা বিপ্লব। আমরা অবচেতনভাবে আরো একটি স্তরে প্রবেশ করেছি যেটিকে তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব আখ্যা দিচ্ছি যদিওবা এটি পুজিবাদ ও নৈরাজ্যবাদীদেরসহ মুক্তবাজারের দালালদের স্বপক্ষীয় বিপ্লব কিন্তু এটি মানুষকে শাসন করতে পারবে অল্প কয়েকবছর। এটি মানুষকে মেধাশূন্য ও কর্মক্ষম করে তুলবে যার ফলশ্রুতিতে মানুষ এই তথ্যবিপ্লবের বিরোধী হবে। মানুষের মুখোমুখি হবে আরো একটি বিপ্লব, যেখানে ধর্মীয় সংঘাত নয় বরং নারী নিয়েই সংঘাত হবে।এবং যেটা নারীরাই নেতৃত্ব দিবে, সেটা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন মুক্ত। মনেরাখা জরুরী “দিন বদলায় ইতিহাস ফিরে আসে।

লেখক:কলাম লেখক।

Comments

comments