সুত্রপাত / নারী / নারীবাদ কি?

নারীবাদ কি?

শাকিল মাহমুদ :

এ আন্দোলন কারা করে? কাদের জন্য এ আন্দোলন?
আপনাকে অবশ্যই নারীবাদী হতে হলে জানতে হবে নারীবাদ মূলত কি?
নারীবাদ মূলত একটি আন্দোলন। যে আন্দোলনের সূত্রপাত, নারীর অধিকার আদায়ের কথা বলা থেকে। সমাজে আমরা দুটো জাতি দেখি এক. পুরুষ জাতি আর দুই. নারী জাতি। যার ভেত শারীরিক জোর আছে বলে পুরুষ সমাজের হর্তাকর্তা আর নারীর শারীরিক জোর নেই বলে সে পুরুষের দাস। মূলত এই প্রথা থেকে বের হয়ে এসে নারী-পুরুষ কোন জাতি নয় বরং মানুষের পরিচয়ে উভয়ে পরিচিত হবে এবং শারীরিক জোর দিয়ে নয় কর্ম দক্ষতার ভিত্তিতে উভয়ে সমাজে সমান মর্যাদা লাভ করবে। কেউ হর্তাকর্তা আর কেউ দাস এ নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে নারীর সমাজে অধিকার আদায়ের লড়াইকে মূলত নারীবাদ বলে। আর এ লড়াই যারা করে থাকে তারা নারীবাদী।
নারীবাদী নারীর অধিকারের কথা বলে না। বরং নারীবাদী নারীর সমান অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে সমাজে নারী ও পুরুষের যে লৈঙ্গিক বৈষম্য তা দূর করে একটি মানবীয় সমাজ গড়ার সংগ্রাম করে। যার যাত্রাপথে নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আসে। কিন্তু আমাদের কিছু নারীবাদী (নারী) রয়েছেন যারা নারীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মূলত নারীবাদকে ব্যবহার করে। কিন্তু নারীবাদ কি কোন কর্তৃত্ব নির্মূল করে আর একটি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই?

গতকাল পাঠচক্র হয় শিল্পকলায়। বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন ভাই উপস্থিত ছিলেন। রতন ভাই একটা কথা বলেন,
” একটা লোক একটা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো – তুমি কি করো?
ছেলেটা বললো – পড়াশুনা।
লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো – তোমার ভাই?
ছেলেটা বললো – ডাক্তার।
লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো – বাবা কি করে?
ছেলেটা আবার উত্তরে বললো – বাবা ইঞ্জিনিয়ার। শেষে লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো –
মা কি করে?
ছেলেটা উত্তরে বললো – মা কিছু করে না।
অথচ একটু খেয়াল করেন, সকালে ঘুম থেকে ছেলেটা স্কুলে যাবে, ভাই হাসপাতালে যাবে, বাবা অফিসে যাবে তাদের নাস্তা তৈরির কাজটা কে করে? মা। যে নাস্তা তৈরি না করলে, ছেলেটার স্কুলে যাওয়া হবে না, ভাইয়ের হাসপাতালে যাওয়া হবে না, বাবার যাওয়া হবে না অফিসে সেখানে সকলেই কিছু না কিছু করে কিন্তু মা কিছুই করে না!”
মূলত এই যে নারী মানেই গৃহে থাকবে এবং ঘৃহের সকল কাজ করা স্বত্ত্বেও কিছু করে না মানে যে কর্মের অর্থ মূল্য আছে তা-ই বিবেচ্য এবং বাকিগুলো কিছু না এবং নারীর গৃহে কাজের অর্থ মূল্য না থাকায় নারী কিছুই করে না এই বক্তব্যকে নির্মূল করে গৃহের কর্মের মূল্য পরিমাপ করা হোক এ দাবিই নারীবাদী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
নারীবাদ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নয় সকলের সমান অধিকার আদায়ে লড়াই করে।
অতএব, নারীবাদর আন্দোলনের মূল কন্সেপ্ট পুরুষতন্ত্র বিলুপ্ত করে নারীতন্ত্র কায়েম নয় বরং উভয় তন্ত্রের বিলুপ্তি ঘটিয়ে উভয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

এবার আসি নারীবাদ নিয়ে কিছু পুরুষপর গাত্রদাহন নিয়ে।
আমার এক কমরেড আছে আমাকে নারীবাদী বই পড়তে দেখলেই তার গাত্রদাহন শুরু হয়। এ বছরে বই মপলায় তসলিমা নাসরীন ও সাদিয়া নাসরীনের বই কিনে স্টলে বসে পড়ছিলাম তখন সে কমরেড আমার স্টলেই ছিলো। তার সাথে নারীবাদ নিয়ে অনেক কথা হলো কিন্তু কোন লাভ হলো না। অবশ্য তিনি কোন পাল্টা যুক্তি দাঁড় না করাতে পারলেও নারীবাদীদের বেশ করে তীরস্কার করেছেন যার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। তার ভাষায় নারীবাদীরা নারীবাদী হয় মূলত অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হতে। যার তার সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম নারীবাদী। তিনি কেন এ রকম মনে করেন তা সম্পর্কে তিনি কখনও অবগত করেন নি। আমি অবশ্য কিছুটা ধরতে পেরেছি। আর তা হলো – নারীবাদীরা স্বাধীন থাকতে চায়, সমান অধিকার চায়। তার প্রশ্ন হলো স্বাধূন থাকা মানেই কি যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া, যার সাথে ইচ্ছে শুয়ে পরা?
তাকে আমি উত্তরও দিয়েছি – হ্যাঁ, এটাই স্বাধীনতা তবে এটা যতক্ষণ না আপনার ক্ষতির কারণ হয়! একজন নারীবাদী ইচ্ছে করলে অথাৎ উভয়ের ইচ্ছানুসারে যৌন কর্মে লিপ্ত হওয়ার স্বাধীনতা লাভ করে শুধু নারীবাদী ই নয় সকল প্রাণিকুলেই এ স্বাধীনতা লাভের অধিকার আছে। যেমন রাস্তায় আমরা হয়তো দেখে থাকবো একটা কুকুর আরেকটা কুকুরের পিছন দিক হতে লেগে থাকে। এই লেগে থাকাটা মূলত যৌন কর্মের সময় হয়। আমরা হয়তো এও দেখে থাকবো রাস্তায় এ ঘটনা অনেকে মজা করে দেখে আবার অনেকে যৌন কর্মে লিপ্ত কুকুরদ্বয়কে তারা করে তাদের কাজে ব্যাক্ষাত ঘটায়! কিন্তু কেন?
কুকুরদ্বয়ের যৌন কর্ম কি কাউকে ক্ষতির সম্মুখিন করেছে?
ঠিক তেমনই মানুষ অবাধ, স্বাধীনভাবে যা সাথে খুশি যৌন কর্ম করতেই পারে আমি, আপনি, আমরা বলতে পারি না, যার তার সাথে কেন এসব করবে!
আমাদের কোন অধিকার নেই বলার। যতক্ষণ না আমার কাজ দ্বারা কারো ক্ষতি হচ্ছে ততক্ষণ সে কাজ করা আমার স্বাধীনতা। অতএব, কে কার সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত হবে এটা যার যার স্বাধীনতা। অবশ্য এখানে অনেকের একটা বক্তব্য থাকে, আপনাকে আমি খুন করবো। এটা তো আমার স্বাধীনতা। মূর্খ হলে এবং অপরাধ সম্পর্কল জ্ঞান না থাকার দরুন এসবের কাছে খুন করার স্বাধীনতা আর ইচ্ছানুসারে পছন্দ করে চলাচল করা এক হয়ে যায়।
যা হোক, আপনাকে অপরাধ বুঝতে হবে। যৌন কর্ম স্বাধীনতা এতে কারো ক্ষতি হয় না কিন্তু খুন করা অপরাধ এতে যাকে খুন করা হয় তার ক্ষতি হয়। অতএব অকাট্য যুক্তি মূর্খের হাতিয়ার।

এবার আসি নারীবাদ নিয়ে নারীবাদীদের ধর্মীয় চিন্তা নিয়ে ।

নারীবাদ আর ধর্ম একে অপরের বিপরীত নাকি এক গোত্রী তা আপনাকে আগে জানতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন করেন – নারীবাদী হলে আপনাকে কেন ধর্মে অবিশ্বাসী বা নাস্তিক হতে হবে? ধর্মে বিশ্বাস করে কি নারীবাদী হওয়া যায় না?
এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো – না যায় না। নারীবাদী হলে আপনাকে অবশ্যই এবং অবশ্যই ধর্মের বিরুদ্ধে যেতে হবে ধর্মগ্রন্থগুলোর পুরুষতান্ত্রিক ধারাকে আঘাত করতে হলে। যদি আপনি নারীর পূর্ণ অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেকে সামিল করতেই চান তবে অবশ্যই আপনাকে ধর্মে অবিশ্বাসী হতে হবেই। আর আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে না চান নারীবাদ নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে আপনি ধর্মে অবিশ্বাসী হবেন না তাহলে সেক্ষেত্রে বলতে হবে – আপনি নারীবাদ নিয়ে লড়াই করতে গিয়ে ধর্মে অবিশ্বাসী না হয়ে যেমন নারীবাদের সাথে ভণ্ডামি করছেন তেমন ভণ্ডামি করছেন আপনার ধর্মীয় আদর্শের সাথে। মানে আপনি পরিপূর্ণ অর্থে না হতে পারছেন নারীবাদী না হতে পারছেন আপনি ধার্মিক।

নারীবাদী হতে হলে বা নারীর অধিকার আদায়ে লড়াই করলে কেন আপনাকে ধর্মে অবিশ্বাসী হতে হবে?
নারীবাদ নিয়ে লড়াই করতে বা নারীর অধিকার আদায়ে যখনই আপনি লড়াই করবেন তখনই মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে ধর্ম। আমরা হয়তো জানি, পুরুষতন্ত্রের জন্মদাতা, গর্ভদাত্রী, আষ্টেপৃষ্ঠে লালন-পালনকারী মা-বাবা উভয়েই ধর্ম। ধর্মগুলো নারীকে যেমন করেছে তুচ্ছ-তাচ্ছিল তেমই মানুষ হওয়া স্বত্তেও করে রেখেছে দ্বিতীয় প্রজাতির নিকৃষ্টতম প্রাণিতে। এছাড়া সমাজের নানা অধিকার থেকে পুরুষের নিচে রাখা হয়েছে নারীকে এবং তা চলেছে সেই কোন এক অনাদিকাল হতে।
এখন অনেকের প্রশ্ন জাগতে পারে অবশ্য জাগতে পারে বললে ভুল হবে, বরং অনেক আগে থেকেই জেগেছে এবং নারীবাদীদের সে প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। তা হলো – ধর্মও তো নারীকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছে। মুহাম্মদের আগেকার সময়ে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। কিন্তু মুহাম্মদের সময়ে এসে তা বাতিল করে নারীকে কি প্রাপ্য অধিকার দেয়া হলো না?
অবশ্যই মুহাম্মদের এ কাজটি সম্পূর্ণরূপে পজেটিভ কাজ। তবে এ কাজটি নারীকে প্রাপ্য অধিকার দেয়ার কোন বিষয়ে পরে না উপরন্তু এ জায়গায় যদি চিন্তা করি –
আরবে তখন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার ফলে পরবর্তী প্রজন্ম নারী শূন্য হয়ে যাচ্ছিলো। এর ফলে পুরুষ না পাচ্ছিলো ভোগ-বিলাসী না পাচ্ছি সন্তান জন্ম দানের উৎস। সুতরাং মুহাম্মদের জীবন্ত কন্যা সন্তানকে কবর দেয়া বাতিল পজেটিভ কোন কিছু না ভেবে ভাবতে হয়, নারীকে ভোগ-বিলাসী বস্তু ও বাচ্চা উৎপাদনের যন্ত্র করার উদ্দেশ্যে মানে পুরুষতন্ত্রকে সমাজে চিরস্থায়ী করার একটা বন্দোবস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিবহনে এক নারীকে সম্মান দেখাতে গিয়ে এক পুরুষ এক নারীকে স্থান ছেড়ে দিলো মানে নারীকে ওই পি্ুরুষ প্রাপ্য অধিকার দিলো না বরং ওই পুরুষ নারীকে বুঝালো, তুমি দূর্বল আমি সবল। তুমি দাঁড়াতে পারবে না, পারবে না অন্যান্য যাত্রীর ধাক্কার প্রতি ধাক্কা দিতে। তাই তুমি বসো, আমি পুরুষ দাঁড়াতে পারবো, পারবে অন্যের ধাক্কার প্রতি উত্তর দিতে। অতএব আমি দাঁড়িয়ে যাই। তাই মোটা দাগে বলতে গেলে, পুরুষতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যই হলো আরবের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া থেকে বিরত করা।

ইসলামের কথা বাদ দিয়ে যদি হিন্দু ধর্মের দিকে তাকাই তাহলে কি দেখবো –
হিন্দু ধর্মে সতীদাহ প্রথা বিরাজ ছিলো, যেখানে পতি মারা গেলে চিতায় পোড়ানোর সময় স্ত্রীকেও সে চিতায় আত্মাহুতি দিয়ে সতীত্বের প্রমাণ দিতে হবে। এমন বিভৎসতা যেখানে ধর্ম হতে আসে সেখানে আপনি এর বিরুদ্ধে ধার্মিক হয়ে কিভাবে দাঁড়াবেন যেখানে আপনি ধার্মিক হয়েই এর পক্ষ নিয়েছেন?
এছাড়াও হিন্দু ধর্মে মেয়েদের পিতার সম্পত্তিতে অধিকার থাকে না। আপনারা হয়তো দেখে থাকবেন, হিন্দু মেয়েদের বিবাহের সময় মেয়েদের বাবার বাড়ী প্রচুর জিনিসপত্র দিয়ে দেয়া হয়। যার কারণ মেয়েরা বিয়ের পর পিতার সম্পত্তির অধিকারী নন। আপনি একজন নারীবাদী হলে অবশ্যই নারীকে পিতার সম্পত্তির সমান অংশীদার দাবি করে লড়াই করবেন যাতে নারীকে পিতার সম্পত্তির সমান ভাগ দেয়া হয়? কিন্তু যদি আপনি ধার্মিক হন তবে আপনি কিভাবে এর বিরোধীতা করবেন যেখানে ধার্মিক হয়েই আপনি এর পক্ষ নিয়েছেন?

এছাড়াও যদি আবার ইসলামের দিকে আসি তাহলে দেখবো এক পুরুষের সমান দুই নারী। অর্থাৎ একজন ধরুন আমার মায়ের বাবা সম্পত্তি ভাগ করছেন সে সম্পত্তির এক ভাগ আমার এক মামা পেলো। আরও সহজ করে যদি বলি, ধরুন আমার মায়ের বাবা চারটি নারকেল পারলেন নারকেল গাছ থেকে। সে নারকেল ভাগ করলেন দুই ভাগে। তার আগে বলি, আমার মায়ের বাবার তিন সন্তান একজন ছেলে দুজন মেয়ে। এবার মায়ের বাবা নারকেলের যে দু ভাগ করেছেন তার এক ভাগ মায়ের ওই এক ভাইকে নিতে বললো আর অপর ভাগ নিতে বললো আমার মা ও মায়ের বোনকে। অর্থাৎ চারএি নারকেলের এক ভাগ মানে দুটো আমার মায়ের ভাইয়ে এবং অপর ভাগ মানে দুটো মায়ের ও খালার।
অতএব সোজা কথায় আমার মায়ের বাবার সম্পত্তির একভাগ মায়ের ভাইয়ের এবং মায়ের ভাইয়ের একভাগ সমান সম্পত্তি মা ও মায়ের বোনের। কিন্তু আপনি একজন নারীবাদী, নারীর সমান অধিকার আদায়ে লড়েন। আপনি নারীর সমান অধিকারের জন্য দাবি অবশ্যই করবেন নারী পুরুষে সমান পিতার সম্পত্তি পাক। কিন্তু ইসলাম ধর্ম মতে তা হবে না। আপনি এর বিরোধীতা করলেন, না নারীকে সমান পিতার সম্পত্তি দিতে হবে! তাহলে কি দাঁড়ালো? আপনি আল্লাহ্ বিধান লঙ্ঘন করলেন! তাহলে নারীবাদী হতে হলে আপনাকে ধর্ম বিরোধী হতে হচ্ছে?

অনেক কথাই বলে ফেললাম। আরও অনেক কথা আছে তবে তা নিয়ে পরে কোন সময় কথা হবে। যে সকল নারীবাদীরা নারীবাদী ও ধর্মকে এক করে দেখেন তাদের সাথে একটু আলাপ-আলোচনার জন্য মূলত এই লেখাটা লিখলাম। আসা করি তারা আলাপ আলোচনায় আসবেন। আর সবচে বড় কথা, নারীবাদ আর ধর্ম কখনও এক নয় তা তারা উপলব্ধি করুক আশা করি। না হলে নারীবাদ ধর্ম, পুরুষতন্ত্রের কাছে মারা পরবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!