সুত্রপাত / ভ্রমণ কাহিনী / দেখো দেখো হরিণ !!

দেখো দেখো হরিণ !!

একবারে কাছ থেকে হরিণ দেখতে চান?
তাহলে ঘুরে আসুন নিঝুম দ্বীপ।
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ছোট্ট একটি দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ। নানান বৈচিত্র্যে ভরপুর এই দ্বীপ এখন বাংলাদেশের অন্যতম ভ্রমণ কেন্দ্র।
নিঝুম দ্বীপে আছে বিশাল আকারের শ্বাসমূলীয় বন। ৭০’য়ের দশকে এখানে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু। ২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পায়। ১৯৭৮ সালে এই বনে সর্বপ্রথম সুন্দরবন থেকে চার জোড়া চিত্রা হরিণ অবমুক্ত করা হয়। তাদের থেকে বংশ বিস্তার করে এ বনে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা বিশ হাজারেরও বেশি। সুন্দরবনের মতো বন হলেও কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় বনে খুব কাছ থেকেই সহজে চিত্রা হরিণ দেখা যায়।
এখানকার জাতীয় উদ্যানে আছে অসংখ্য চিত্রা হরিণ। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোন বনে কাছাকাছি থেকে এত বেশি চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। শীতে নানান রকম পাখি এই দ্বীপে বেড়াতে আসে। দ্বীপে পর্যটকদের থাকার ভালো ব্যবস্থাও আছে।
নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের প্রধান প্রাণী চিত্রা হরিণ। এ বনে আরও আছে উদ্বিড়াল, মেছো বাঘ, খেকশিয়াল ইত্যাদি। দ্বীপে পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— নিশি বক, কানিবক, গোবক, পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, লালপা, নানান জাতের মাছরাঙ্গা ইত্যাদি। পৃথিবী বিপন্ন ইন্ডিয়ান ইস্কিমার বা দেশী গাঙচষার অন্যতম বিচরণস্থল এই দ্বীপ।
নিঝুম দ্বীপে বেড়ানোর মূল আকর্ষণ এখানকার বন। ভালোভাবে জঙ্গল দেখতে হলে ‘নামা’ বাজারের পাশের খাল ধরে নৌকায় চড়ে যেতে হবে চৌধুরীর খালে। এই খাল একেবারে জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। বেশি হরিণ দেখতে হলে নৌকায় কিংবা বনের পাশে কোথাও নিজেদের আড়াল করে নীরবে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া নিঝুম দ্বীপে আছে সমুদ্র সৈকত। জনমানবহীন এই সৈকতেও বেড়াতে পারেন। আর এখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখতে ভুলবেন না।
কোথায় থাকবেন ?
নিঝুম দ্বীপের মূল জনবসতির নাম হলো ‘নামার বাজার’। এখানকার পর্যটন রিসোর্টে থাকতে পারবেন। ভাড়া পড়বে রুমপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ পর্যন্ত। পাঁচ বেডের ডরমিটরি রুম আছে, ভাড়া বেশ কম। এ ছাড়া বাজারে হোটেল শাহীনে থাকতে পারবেন, যদিও খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়বে।
বাজারেই আছে মসজিদ বোর্ডিং, এখানে খুবই কম খরচে থাকা যায়, তবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। গোটা দ্বীপেই সোলার প্যানেল অথবা জেনারেটর ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় সীমিত সময়ের জন্য। কাজেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বুঝেশুনে ব্যবহার করাই ভালো।
এ ছাড়া দ্বীপে থাকতে পারেন সরকারি উপজেলা কমপ্লেক্স অথবা বন বিভাগের ডাকবাংলোয়, তবে এগুলোর জন্য আগে থেকে অনুমতি নিয়ে রাখতে হয়। আর ক্যাম্পিং করতে চাইলে মূল দ্বীপেই করা ভালো। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আশপাশের চরগুলোতে মাঝেমধ্যে ডাকাত হানা দিয়ে থাকে।
খাওয়া-দাওয়া বাজার থেকেই করতে পারবেন। দাম অনেক কম পড়বে, তবে মাছ ছাড়া অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রে সংগত কারণেই বৈচিত্র্য পাবেন না।
কীভাবে যাবেন?
ঢাকার সদরঘাট থেকে ‘এমভি ফারহান’ নামে একটাই লঞ্চ যায় হাতিয়া। বিকেল সাড়ে ৫টায় যাত্রা শুরু করে হাতিয়ার তমরুদ্দীন ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা। ডেকের টিকেট ৩৫০ টাকা, কেবিন সিঙ্গেল ২ হাজার টাকা, ডাবল চার হাজার টাকা।
হাতিয়া নেমে মাছ ধরার ট্রলারে জনপ্রতি ২০০ টাকা দিয়ে পৌঁছাতে পারেন নামার বাজারে। ট্রলার না পেলে মোটরসাইকেলে (জনপ্রতি ৩০০ টাকা) করে যেতে পারেন মোক্তারঘাট। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৫-১০ মিনিটে মেঘনা পার হয়ে পৌঁছাবেন নিঝুম দ্বীপে। এরপর আপনাকে আবার মোটরসাইকেল (জনপ্রতি ৫০টাকা) অথবা রিকশা (১০০ টাকা) করে নামার বাজারে যেতে হবে।
এ ছাড়া আপনি ট্রেনে করে যেতে পারেন নোয়াখালীর মাইজদী পর্যন্ত। সেখান থেকে ট্রলারে করে যাওয়া যায় নিঝুম দ্বীপ।
ফেরার সময়ও একটাই লঞ্চ ছাড়ে, হাতিয়া থেকে ঠিক দুপুর সাড়ে ১২টায়। অথবা আপনি ট্রলারে করে মাইজদী গিয়ে ঢাকার ট্রেন ধরতে পারেন।

Comments

comments

error: Content is protected !!