সুত্রপাত / রাজ্যের যুক্তি-তর্ক / ছাত্র রাজনীতির কতোটা প্রয়োজন ?

ছাত্র রাজনীতির কতোটা প্রয়োজন ?

আরাফাত এইচ রাশেদ:

আমার মতে এদেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিত। ছাত্র রাজনীতির ফলে এদেশের মেধাগুলো নষ্ট হচ্ছে। এরা না করছে আদর্শিক রাজনীতি না করছে পড়াশোনা। মারামারি দলাদলিতেই ব্যস্ত থাকে। তারপর দলীয় প্রভাবে চাকরি করে, মেধাবী যে কয়জন উঠে আসে, তারাও এদের সাথে না পেরে হারিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে জ্ঞান বিজ্ঞানে আমরা জীবনেও আগাতে পারবোনা, অন্যদেশের উপর নির্ভর করেই চলতে হবে। বাংলাদেশী বংশদ্ভূত কেউ বিদেশে বসে কিছু করবে আমরা বাহবা দিবো। নিজের দেশের সন্তানরা হল খল, চাঁদাবাজি, মারামারি,খুনোখুনিতে জীবন কাটিয়ে দিবে। আর সাধারণ ছাত্ররা এদের খুনোখুনির শিকার হয়ে লাশ হয়ে পড়ে থাকবে। আমাদের দেশ যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো, তা না পারার একটা প্রধান কারণ আমি মনে করি ছাত্রদের অপরাজনীতি।

ক্ষমতাসীনরা এদেরকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করে আর ক্ষমতাহীনরা এদেরকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যবহার করে।এরা কেবল ব্যবহার হয়েই আসছে। নিজেদের মেধা নষ্ট করে কোনরকমে পাশ করে আবার দলকে ব্যবহার করে যোগ্য না হলেও চাকরি জুটিয়ে ফেলে। দিনিশেষে ক্ষতি হচ্ছে কার ?দেশের ই তো। অযোগ্য লোকে সব ভরে যাচ্ছে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদের ভূমিকার কথা অনেকেই বলতে পারেন, হ্যাঁ জাতির ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদের জেগে উঠার অবশ্যই দরকার। সেজন্য যে ছাত্র রাজনীতি লাগবে ব্যাপারটা এমনও না। আর ছাত্ররাজনীতির ফলেই কিন্তু ছাত্ররা এখন নিজেদের রক্ত নিজেরা খায়, এবং দলাদলিতে ব্যস্ত।এ ছাত্র রাজনীতি দিয়ে জাতির ক্রান্তিলগ্নে কিছুই হবেনা। কারণ এরা দ্বিধাবিভক্ত। কারো সাথে কারো সম্পর্ক তো দূরে থাক বরং দা কুমড়া সম্পর্ক। জাতির ক্রান্তিলগ্নেও এরা এমন দ্বিধাবিভক্তই থাকবে। কারণ এদের কোন স্বতন্ত্রতা নাই, বড়দলগুলো এদের চালায়।

ওরা যা বলবে এরা তাই শুনবে, সেটা যদি ছাত্রদের জন্য অমঙ্গলজনক হয় তাও করবে। কারণ বড় দল গুলো এদেরকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এবং এরা খুব সুন্দরভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, নিজেদের সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়েই ওরা অন্যদের দাবার গুটি হয়ে বসে আছে। ছাত্ররাজনীতি না থাকলে বরং ছাত্রদের যে কোন দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে সংগঠিত হতে পারবে। তখন আর এতো ক্ষমতার লড়াই থাকবেনা, নিজেদের মাঝে এতো দা কুমড়ো সম্পর্ক থাকবেনা। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরাই নির্ভয়ে হাতে হাত রেখে রাস্তায় নামতে পারবে। জাতির জন্য ক্ষতিকর যে কোন প্রচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত রাখবে। সে তেজ সে স্পৃহা কিন্তু এদেশের ছাত্রদের আছে, ইতিহাস কিন্তু তাই বলে। তারা অন্তত কারো ক্ষমতায় টিকে থাকার অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার গুটি হিসেবে ব্যবহার হবেনা।

লেখক: উদীচী কর্মী।

Comments

comments