একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই

//একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই

অজন্তা দেব রায়:

বাংলাদেশ জেনোসাইড ১৯৭১। ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ংকর এই গণহত্যা যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটা অবহেলিত, অস্বীকৃত তা আরো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি SOAS এ  MSC in Politics of Conflicts, Rights & Justice এ ভর্তি হয়ে। গণহত্যার ভয়াবহতা ও পেছনের রাজনীতি নিয়ে পড়তে গিয়ে একাডেমিকালি রিকোমেন্ডেড বইগুলোর প্রায় সব কটি’তেই হলোকাস্ট, আর্মেনিয়ান জেনোসাইড, নানকিং ম্যাসাকার, ইরাক, সুদান, সাম্প্রতিক মায়ানমার, কাশ্মীর, নর্থ কোরিয়া নিয়ে পড়ছি, অথচ বাংলাদেশ গণহত্যার কোন উল্লেখ কোথাও এখনো পাইনি।

ক্লাসমেটরা প্রায় সবাই ই মানবাধিকার, যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে বড় বড় সংস্থা গুলোতে কাজ করে বা কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তাদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম বাংলাদেশে যে একটা গণহত্যা হয়েছিল বা জানলেও সেই গণহত্যার ভয়াবহতা কতটুকু ছিল তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অধিকাংশ মানুষ তা জানেই না।

তাদেরই দোষ দিয়ে কি লাভ।  স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলোর সদিচ্ছার অভাব কিংবা কূটনৈতিক ব্যার্থতার কারনে আজ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের গণহত্যা এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। গণহত্যাকারী রাষ্ট্র পাকিস্তান এখনো তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি। স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা মেশিন এতোই  শক্তিশালী যে এখনো নানান আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ কে ‘সিভিল ওয়ার‘ বলে উল্লেখ করার স্পর্ধা দেখায়, এখনো মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা কে বিতর্কিত বলার সাহস করে।

ভাবতেও কষ্ট লাগে আসলে। রাগ লাগে। কিছু করতে না পারার হতাশায় ডুবে যাই বারবার। কিন্তু এইভাবেতো চলতে দেয়া যায়না। আমাদের কি কিছুই করার নাই? স্বাধীনতার মাসে চলুন না আমরা অন্তত নাগরিক পর্যায় থেকে ১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আরো সরব হই। দেশের ভিতর ও বাইরে থেকে ফেইসবুক, টুইটার, আন্তর্জাতিক মিডিয়া তে যে যেভাবে পারি আন্তর্জাতিকভাবস জনমত গঠনের চেষ্টা করি। চলুন না সবাই মিলে যারযার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলে একটা নাগরিক ক্যাম্পেইন গড়ে তুলি।

আর্মেনিয়ান গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে শত বছর লেগেছে কিন্তু তারা প্রায় বিস্মৃত সেই গণহত্যার স্বীকৃতি আদায় করে ছেড়েছে। আমাদের তো অর্ধশতক ও হয়নি। একাত্তরের রক্তের দাগ এখনো শুকায় নি। শক্ত করে হাল ধরলে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে আমাদের খুব বেশিদিন লাগবে না।

চলুন সবাই এগিয়ে আসি। জন্মের ঋণ শোধ করার দায় কিন্তু আমাদের সকলেরই।

লেখক: প্রধান, বি হিউম্যান ফার্ষ্ট মুভমেন্ট।

শেয়ার করুন
By | ২০১৮-০৩-০৪T১০:১১:০৪+০০:০০ মার্চ ৪, ২০১৮|নারীর অধিকার|Comments Off on একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই