সুত্রপাত / অনন্যা / আপনার মেয়েকে মেয়ে-ই বলুন

আপনার মেয়েকে মেয়ে-ই বলুন

তামান্না তাবাসসুম: 

অনেকেই মেয়েকে নিয়ে গর্ব করে বলেন, “এ আমার মেয়ে না এ আমার ছেলে” । এই কথা দিয়েতো দিলেন আপনার কন্যার সেলফ আইডিন্টিটিকে অপমান করে।প্রশংসা করতে গিয়ে জেন্ডার চেইঞ্জ করে দিয়েন না। এই কথার দ্বারা ইনডিরেক্টলি এটাই প্রকাশ পায় যে কন্যা সন্তান নিয়ে আপনি খুশি না।

বা এমন বলেন যে “আমারমেয়েকে আমি ছেলের মতো করে মানুষ করবো”। এখন মেয়েকে ছেলের মতো করে গড়ে তোলা বলতে আপনি কি বোঝাতে চান ? আমার চেনা অনেক ছেলে আছে যারা ভ্যাগাবন্ড,নেশাখোর, দুইদিন পর পর পুলিশ ধরে নিয়ে যায় । তারাও তো ছেলে। ছেলে তো যাস্ট একটা জেন্ডার, ছেলে বলেই যে ভাল কিছু হবে এমনতো কোন কথা  নাই।

হরলিক্স এর বিজ্ঞাপনে দেখায় – আমি পাঞ্জা লড়ী আর ছেলেদের ও হারিয়ে দেই। বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলায় বলতে ইচ্ছা করে, খুকি ছেলেরা সুপিরিয়র কিছু না, তাদের হারায় দেয়ার মধ্যে স্পেশাল ক্রেডিটের কিছু নাই।  ছেলেদের হারানোর জন্য পাঞ্জা লড়তে হবে না, প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষা গুলোয় বরাবরই মেয়েরাই ভাল রেজাল্ট করছে। তেমনি কোন মেয়ের কাছে হেরে গেলেও ছেলেদের লজ্জার কিছু নেই। মেয়েরাও ইনফেরিওর কিছু না। কোন মানুষকে তার জেন্ডার দিয়ে জাজ করার মতো ক্ষ্যাত কন্সেপ্ট  এই যুগে আর খাটে না।

কেউ আবার চুল ছোট রেখে, সাজগোজ বর্জন করে, সিগারেট খেয়ে প্রমান করতে চান তারাও পুরুষের মতো । নিজের সাজগোজ অভ্যাস সেটা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাক্তেই পারে। কিন্তু সেটা যখন নিজের নারী পরিচয়কে অস্বীকার করার জন্য হয় তখন খুব খারাপ লাগে। নিজের স্পেশালিটিকে মুছে ফেলা বোকামি।

সেদিন ব্লগে আমার একটা কবিতায় একজন মন্তব্য করেছিলেন আমার কবিতায় নাকি মেয়েলি ভাব আছে। এখন কথা হচ্ছে কবি হতে হলে আমার নারী সূলভ ভাব বর্জন করতে হবে কেন, যেখানে পৃথীবির প্রথম কবি একজন নারী।

কিছুদিন আগে এক অনলাইন নিউজ দেখলাম , এক মেয়ের বিসিএস ক্যডার হবার খবর। সেখানে শিরোনামটা এমন- ওমুক দেখিয়ে দিলো মেয়ে হওয়া দূর্বলতা না। ভাবটা এমন যেন বাংলাদেশে সে-ই প্রথম মেয়ে যে বিসিএস ক্যডার হয়েছে।

যে কোন অর্জনের পর সে নারী হয়েও এতো দূর এসেছে এই কথা লিখে দিয়ে আমার মনে হয় তার অর্জনকে ছোট করে দেখানো হয়। সেই দিন বাংলাদেশ আরো আগেই পার করে এসেছে। এখন সেসব সেকেলে কথা বলা মানে সেই আগের পশ্চাৎপদ চিন্তাধারাকে লালন করা।

একটা ছেলেও মেয়েটির মতোই স্বাভাবিক মানুষ, তারা ঈস্বর শ্রেনীর কেউনা যে ছেলেদের মতো হয়ে একটা মেয়ে বিশাল কিছু হয়ে গেল। প্রকৃতি গত ভাবে  নারী পুরুষের এমন কিছু  আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে যেটা ছেলেরা পরে সেটা মেয়েরা পারেনা আবার যেটা মেয়েরা পারে সেটা ছেলেরা পারেনা। এখানে কোন পক্ষেরই গর্বের কিছু নেই। তুমি যা পার আমাকে তা পারতে হবে কেন, আমি যা পারি তা কি তুমি পার ?  আর নারী পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক, প্রতিপক্ষ না,এদের কেমেস্ট্রি প্রতিযোগীতারও না। এমন মনভাব পোষন করা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই না।

লেখক: শিক্ষার্থী, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments

comments