আদিবাসীদের অধিকারে এগিয়ে আসতে হবে

//আদিবাসীদের অধিকারে এগিয়ে আসতে হবে

আদিবাসীদের অধিকারে এগিয়ে আসতে হবে

প্রসেনজীৎ কুমার রায়:

আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে সমতলের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে প্রায় ৪৫টি জাতিসত্তার উপস্থিতির হার তুলনামূলক বেশি। এত নৃতাত্তিক গোষ্ঠীর সমাহার থাকলেও এদের প্রত্যেকের জীবনধারা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি আলাদা। সংগত কারণেই আদিবাসীদের আচার-সংস্কৃতি নিয়ে সমতলের মানুষদের আগ্রহ। এ আগ্রহ দেখা যায় বিদেশি পর্যটকদের মাঝেও। ৪৫টি জাতিগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বাংলাদেশের আদিবাসী : এথনোগ্রাফিয় গবেষণা নামে যে গবেষণাটি করেছে, এটিই প্রকাশিত হলো তিন খণ্ডে। প্রথম খণ্ডে রয়েছে অহমিয়া, খিয়াং, খুমী, গুর্খা, চাক, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, পাংখো, বম, মারমা, ম্রো ও লুসাই। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে কোচ, খাড়িয়া, গারো, ডালু, বানাই, হাজং, খাসিয়া, পাত্র, মণিপুরি ও রাখাইন। তৃতীয় খণ্ডে রয়েছে ওরাওঁ, কন্দ, কোল, গণ্ড, তুরি, পাহান, পাহাড়িয়া, বাগদি,
বেদিয়া, ভূমিজ, মাহাতো, মাহালি, মালো, মুণ্ডা, মুরারী, মুষহর, রাই, রাউতিয়া, রাজোয়াড় ও সাঁওতাল। আলাদা তিন খণ্ডের সম্পাদনা বিভাগও আলাদা। ১ম ও ২য় খণ্ড সম্পাদনা করেছেন মঙ্গল কুমার চাকমা, জেমস ওয়ার্ড খকশী, পল্লব চাকমা, মংসিংঞো মারমা, হেলেনা বাবলি তালাং এবং ৩য় খণ্ড সম্পাদনা করছেনে প্রফেসর মেসবাহ কামাল। ৪৫টি বর্ণাঢ্য জাতিগোষ্ঠীর বসবাস এ দেশকে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা, সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ।আদিবাসীদের এসব বর্ণাঢ্য কৃষ্টি সংস্কৃতির ধারাগুলো
একত্র করা আছে এই বইয়ে। বাংলাদেশের উপজাতিসমূহের তালিকা পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৭টি। এগুলো হচ্ছে:
চাকমা (৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৪৮ জন)
মারমা (২ লক্ষ ২ হাজার ৯৭৪ জন)
ত্রিপুরা (১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৯৮ জন)
ম্রো (৩৯ হাজার ৪ জন)
তঞ্চ্যঙ্গা (৪৪ হাজার ২৫৪ জন)
বম (১২ হাজার ৪২৪ জন)
পাঙ্খুয়া (দুই হাজার ২৭৪ জন)
চাক (দুই হাজার ৮৩৫ জন)
খেয়াং (তিন হাজার ৮৯৯ জন)
খুমি (তিন হাজার ৩৬৯ জন)
লুসাই (৯৫৯ জন)
কোচ (১৬ হাজার ৯০৩ জন)
সাঁওতাল (১ লক্ষ ৪৭ হাজার ১১২ জন)
ডালু (৮০৬ জন)
উসাই (৩৪৭ জন)
রাখাইন (১৩ হাজার ২৫৪ জন)
মণিপুরী (২৪ হাজার৬৯৫ জন)
গারো (৮৪ হাজার ৫৬৫ জন)
হাজং (৯ হাজার ১৬২ জন)
খাসিয়া বা খাসি (১১ হাজার ৬৯৭ জন)
মং (২৬৩ জন)
ওঁরাও (৮০ হাজার ৩৮৬ জন)
বর্ম্মন (৫৩ হাজার ৭৯২ জন)
পাহাড়ি (পাঁচ হাজার ৯০৮ জন)
মালপাহাড়ি (দুই হাজার ৮৪০ জন)
মুন্ডা (৩৮ হাজার ২১২ জন)
কোল (২ হাজার ৮৪৩ জন) [২]
কন্দ
পাংখো
পাংগোন
মুরং
রাজবংশী
পাত্র
গণ্ড
এখন কথা হচ্ছে এই আদিবাসীদের কি বাংলাদেশে অন্য অন্য রাষ্টের মত সম্মান দেয়া হয় ?  না হয় না!  বাংলাদেশ সরকারের মতে ” বাংলাদেশে কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই ! এত গুলো জাতিগোষ্ঠী থাকা সত্বেও জনগোষ্ঠী নেই বলছে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান এবং কি তাদের অধিকার সংস্কৃতি,ভাষা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এখন বাস্তবায়ন হয় নি। তাই আমাদের উচিৎ একজন মানুষ হিসাবে সকল আদিবাসীর অধিকার আদায় করার জন্য পাহাড় এবং সমতলে আন্দোলন শুরু করা। জয় হক সকল মানব জাতির।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, রাজবাড়ী জেলা ছাত্র ইউনিয়ন।
শেয়ার করুন
By | ২০১৮-০২-১৮T১০:৫৯:০০+০০:০০ ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮|রাজ্যের যুক্তি-তর্ক|Comments Off on আদিবাসীদের অধিকারে এগিয়ে আসতে হবে