আগরবাতি

আগরবাতি

চারিদিকে আগরবাতির দম আটকানো গন্ধ। গন্ধটা এতই ঝাঁঝালো যে চোখ মেলে তাকাতে বাধ্য হলাম। আবছা আলো পড়েছে ঘরটাতে, আলোটির উৎস সম্পর্কে কোন ধারনা করতে পারছিনা। মনে হচ্ছে আলোর রঙ ও পরিবর্তিত হচ্ছে একটু পর পর, সাথে সাথে ঘরটির পরিবেশও পাল্টে যাচ্ছে। সবকিছুই অস্পষ্ট লাগলো প্রথমবার। এতদিনের চেনা পরিবেশটাও কেন জানি অচেনা লাগছে। আবছা আলো-ছায়া আর আগরবাতির গন্ধের জন্যেই হয়তো পরিবেশটাতে একটা পরলৌকিক ভাব চলে এসেছে। পাশের বাসায় এক হিন্দু পরিবার উঠেছে গত মাস থেকে। হালকা ঘণ্টির আওয়াজও আসছে কানে। হয়তো তারাই সন্ধ্যা প্রদীপের সাথে ধূপ জ্বালিয়েছে। ঘরময় ধূপের গন্ধই চেনা পরিবেশটা অচেনা করে তুলেছে।

আমাদের পাশের বাসায় হিন্দু পরিবার ভাড়া দেওয়ায় বাবা খুবই মেজাজ খারাপ করেছিলেন। বাবা কট্টরপন্থী মুসলমানদের একজন। বাড়িওয়ালার সাথে তার এই ব্যাপারে নাকি কথা কাটাকাটিও হয়েছিলো। গত সপ্তাহে একবার ঐ বাসার আন্টি এসেছিলেন আমাদের বাসায়। ধবধবে সাদা আন্টির গায়ের রঙ,পাতলা শরীর, খুবই স্মার্ট কথাবার্তায়। উনাকে দেখে মনেই হয়না উনার আমার থেকে বয়সে বড় একটি মেয়ে আছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। হাজবেন্ডের সাথে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। আরেকটি মেয়ে আছে ছোট। ঐদিন তিনি আমাদের জন্য পিঠাও বানিয়ে আনলেন। সাথে উনার ছোট মেয়েটাকেও নিয়ে এসেছিলেন। জিন্স প্যান্টের উপর মিনি স্কার্ট পড়ে এসেছিলো মেয়েটি। গোলগাল ফর্সা চেহারা, টানা টানা চোখ, সোনালি চুলে মনে হচ্ছিলো কোন বিদেশী মেয়ে। আমি নিশ্চিত তাদের দাদী কিংবা নানী কোন ব্রিটিশকে বিয়ে করেছিলেন। ঐদিন বাবা একবারের জন্যও উনাদের সামনে আসেননি। উনারা যাওয়ার পর মাকে অনেকগুলো কথা শুনিয়ে দেন বাবা। আমাদের কাউকে পিঠাগুলো ছুঁতে পর্যন্ত দেননি। খুবই মন খারাপ হয়েছিলো সেদিন। বাবার উপর অনেক রাগ হয়েছিলো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাবা ঠিকই করেছিলেন। এসব হিন্দুয়ানী ব্যাপার এই মুহূর্তে অসহ্য মনে হচ্ছে। কয়টা বাজবে এখন? নিশ্চই সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

কালকে আবার টার্ম প্যাপার জমা দেয়ায় শেষ দিন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই এক ঝামেলা। সারা বছর এক্সাম, প্রেজেন্টেশন, এস্যাইনমেন্ট লেগেই থাকে। একটু যে জীবন নিয়ে ছেলে-খেলা করবো তারও সুযোগ নেই। অন্য কোনদিন হলে পাশ ফিরে আবারো ঘুমানোর চেষ্টা করতাম এই মুহূর্তে। কিন্তু কালকের কথা মনে পড়তেই মেজাজটা বিগড়ে গেল। কাঁচা ঘুম ভাঙার জন্যেই হয়তো প্রচন্ড মাথা ধরেছে, মনে হচ্ছে মাথা থেকে যেন চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে। গরম এক কাপ চা গলা দিয়ে না নামা পর্যন্ত এই মাথা ব্যাথা যাবে না। বাধ্য হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলাম। কিন্তু কেন জানি মনে হলো শরীরটা খুবই হালকা। আমি যেন একটা পাখির পালক,শূন্যে ভাসছি। চা বানাতে রান্না ঘরের দিকে যাব তখনই শুনতে পেলাম অনেক দূর থেকে আম্মুর কান্না ভেসে আসছে। বিলাপ করে কাঁদছে আম্মু। কান্না করা এখন আম্মুর অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বলে বিলাপ করে কাঁদতে হবে? বিয়েই তো হয়েছে মেয়ের, মরে তো আর যায়নি। বড় আপুর বিয়ের পর থেকে দেখছি পান থেকে চুন খসলেই কারনে অকারনে তিনি কেঁদেই চলেছেন। মেয়ে তো বিদেশেও চলে যায়নি এমন করতে হবে, এই শহরেই আছে। স্বামী, শশুরবাড়ি নিয়ে অনেক সুখেই আছে তা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। গত সপ্তাহেই তো আসলো বাসায়। বিদ্যুৎ গতিতে আসলো আর ঝড়ের গতিতে চলে গেলো। কি সব রাজ্যের কাজ নাকি ফেলে এসেছে। একটু পর পর বিড় বিড় করছে। ইফতার এর সময় হয়ে যাবে। আমার শশুর-শাশুরি বয়স্ক মানুষ, উনাদের কে খাওয়াবে। তোমাদের জামাই চলে এসেছে মনে হয় এতক্ষণ। আমাকে ছাড়া ও বাসার কোন জিনিসই খুঁজে পায়না। মা অনেক করে বললো ইফতারটা আমাদের সাথে করে যেতে। কিন্তু ও ধড়ফড় করতে করতে চলে গেলো। তার এই ধরনের আচরন দেখে রাগে গা ঘিন ঘিন করতে থাকে আমার কিন্তু আম্মুর জন্য কিছুই বলতে পারিনা। তার জন্য শশুর বাড়িই যেন সবকিছু। আমরা কেউই না! ভাবছি কালকেই একবার আম্মুকে নিয়ে বড় আপুর বাসায় ঘুরে আসবো। আম্মুর জন্য বড়ই খারাপ লাগছে।

চা বানানোর জন্য রান্নাঘরে যাবো, ডাইনিং রুমে পা রাখতেই দেখি হিন্দু আন্টিটা তার বিদেশী মেয়েকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে আম্মুর রুমের দিকে যাচ্ছে। এমন বেগে যাচ্ছেন যেন মহাভারতের রাম-রাবণের যুদ্ধ বেঁধে গেছে আমাদের ঘরে। আগরবাতির ব্যাপারটা নিয়ে কিছু কঠিন কথা শোনাতে যাব তখনই দেখি উনি আমার সামনে দিয়ে এমনভাবে চলে গেলেন যেন আমাকে দেখতেই পাননি। এবার মেজাজ খারাপ হলো আম্মুর উপর। আব্বু পছন্দ করেন না যেনেও তিনি এই মহিলাটিকে কেন বাসায় ডেকেছেন?

কিন্তু আব্বু কই? হয়তো নামাজ পড়তে গেছেন। ইফতার এর পর আব্বু নামাজ মসজিদেই পড়েন। কিন্তু আমি তো আজকেও নামাজ পড়লাম না। আব্বু কত হাজার বার নামাজের কথা বলেছেন হিসেব নেই অথচ এই রোজার মাসেও আমি ঠিকমতো নামাজ আদায় করিনি। রোজার প্রথম দিকে বলেছিলাম তারাবি পড়বো। আব্বু অনেক খুশি হয়ে বললেন চল আমরা একসাথে ১৫ দিনে তারাবি খতম দিব। আমি আব্বুর মুখের উপর কঠিনভাবে বলেছিলাম আমি আমার বন্ধুদের সাথে রাস্তার উপারের মসজিদে পড়বো তারাবি। তুমি যাও তোমার মতো। বাবা আমার কথায় কষ্ট পেলেও খুশি হয়েছিলেন আমি তারাবি নামাজ পড়বো শুনে। কিন্তু আমি তারাবির নামাজ একদিনও পড়িনি। ইফতার করার পর পাগলা কুকুরের মতো অবস্থা হয় আমার বিড়ি টানার জন্য। ইফতার করেই নামাজের নাম করে বেড়িয়ে পড়তাম প্রতিদিন। স্কুল মাঠে রশিদ, নাফিস,নিলয় টুটুরা মিলে আড্ডা দিতে দিতে কখন তারাবির সময় শেষ হয়ে রাত হয়ে যেত বুঝতেই পারতাম না। রাত করে বাসায় ফিরতাম তাও বাবা কিছু বলতো না তারাবির নামাজ পড়ে আসছি ভেবে। কিন্তু ঐদিন নুহা স্কুল মাঠে দেখে ফেলাতে বাঁধে যত বিপত্তি। বান্ধবীর বাসায় ইফতারের দাওয়াত থেকে ফেরার পথে আমাকে দেখে ফেলে। বাসায় এসে আব্বুকে বলে দিবে বলে হুমকি দিতে থাকে। ওকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করি সেদিন। তবুও ভাগ্য ভাল যে সোজা বাবাকে বলেনি। এরপর বাধ্য হয়ে আব্বুকে বলি সেমিস্টার ফাইনাল এর ডেইট দিয়েছে, ঈদের পরেই এক্সাম। আমার তো তারাবি পড়া আর সম্ভব না। পড়ার অনেক চাপ। সন্ধ্যার পর আমার বের হওয়া বন্ধ হয়েছিলো সেদিন। ইশ! আজকে নামাজটা পর্যন্ত পড়া হলোনা ভেবে খারাপ লাগছে। বাবা জানলে খুব কষ্ট পাবেন। মনে ঠিক করলাম রোজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের একটাও বাদ দিবো না।

রান্নাঘরে আসলাম কিন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার অনেক চেষ্টা করেও গ্যাস জ্বালাতে পারলাম না। আজব ব্যাপার! মেজাজ আরো ধরে গেলো। রাগের মাথায় কাজের মেয়েটিকে ডাক দিতে যাব তখনই মনে পড়লো গত দুই মাস ধরে কাজের মেয়েটি নেই। বাবার ওসুখ বলে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো আর আসেনি। আম্মু অনেক বার কল দিয়েছেন কল ধরেনি। আম্মু ঐদিন মামাকে ফোনে বলছিলো শুনলাম কাজের মেয়েটির কথা। ও একা হাতেই সব কাজ সামলাতো বাসার। মায়ের দির্ঘদিন হার্টের সমস্যা থাকায় তেমন কাজ করতে পারেন না বললেই চলে। লাস্ট বার স্ট্রোক এর পর ডাক্তার ভারী কাজকর্ম করতে সম্পূর্ন নিষেধ করে দেন। তাই ঐদিন মামার কাছে মা আকুতি মিনতি করছিলেন যেন রোজার আগে একটা কাজের মেয়ে ঠিক করে দেন। মামা বলেছিলেন উনি কোন ব্যবস্থা করবেন কিন্তু মামা কথা রাখতে পারেন নি। এর মানে মা অসুস্থ শরীর নিয়ে বাসার সব কাজ করছেন। ইশ!! কেমন অপদার্থ ছেলে আমি এতদিন মাথায়ই আসেনি যে কাজের মেয়েটি নেই আর মা একাই সব কাজ করছেন। অথচ ঐদিন ইফতারে শরবতে চিনি একটু কম হওয়ায় কত চেঁচামেচিই না করলাম আমি । ঐদিনের কথা মনে পড়তেই নিজের উপর রাগ হতে লাগলো। না, আজকে থেকেই যতদূর পারি মাকে টুকটাক সাহায্য করতে হবে, না হয় আমার দোযখে যাওয়া কেউ ঠেকাতে পারবেনা।

এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ অনুভব করলাম আমার একটুও খিদে লাগছেনা। আচ্ছা আমি কি ইফতার করেছিলাম? কিছুতেই কিছু মনে করতে পারছিনা। মনে করতে চাইলেই মাথা ব্যাথাটা বেড়ে যাচ্ছে। কি হচ্ছে আজকে এসব। সবকিছু এলোমেলো লাগছে কেন?
ব্যাপার না! বিড়িতে একটান দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে ভেবে টিটুকে একটা কল দেয়ার জন্য পকেটে হাত রাখি কিন্তু পকেটে মোবাইল নাই। ধুর! মোবাইল আনতে রুমে যাবো, ড্রয়িং রুমে চোখ পড়তেই দেখি অনেক গুলো অচেনা লোক সেখানে। তাদের সাথে টিটু,রশিদ নাফিসরাও আছে। সবাই কি বিষয় নিয়ে গম্ভীরভাবে আলোচনা করছে। দেখে মনে হচ্ছে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরা সবাই এখানে কেন? নিশ্চই আম্মু সবাইকে ইফতার এর দাওয়াত দিয়েছেন। ঐদিন এবারের রোজায় আমার বন্ধুদের বাসায় কেন দাওয়াত দেয়া হবে না এ নিয়ে বন্ধুদের কাছে আমার মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে বলে মায়ের সাথে অনেক ঝগড়া করি। হয়তো ঐদিনের ঘটনার পর আম্মু আমার কথা রাখতেই ওদের দাওয়াত দিয়েছেন। ইশ! অসুস্থ শরীর নিয়ে মা এতজনের জন্য ইফতার বানিয়েছেন ভেবে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হলো।

কয়েকবার টিটুকে ইশারায় ডাকার চেষ্টা করলাম টিটু সাড়া দিলো না! ঐ শালা!! ঐ!

এবার দরজার দিকে চোখ পড়তেই চোখ আটকে গেলো। বাবা একটা লোকের সাথে খুব গম্ভীরভাবে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন। আশ্চর্যের বিষয় বাবার পাঞ্জাবীতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। লোকটাকে পরিচিত মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কোথায় যেন দেখেছি। কোথায় দেখেছি?
ও হ্যাঁ! এই সেই লোকটা যিনি আজকে বাসে আমার পাশে বসেছিলেন। উনার কথা মনে পড়তেই বিরক্তিতে আমার মুখ ব্যাঁকা হয়ে গেল। আস্তে আস্তে সব মনে পড়তে লাগলো।

খুবই বাঁচাল প্রকৃতির লোক ইনি!! গাড়িতে উঠার পর থেকেই অনবরত ফোনে কথা বলে যাচ্ছিলেন। হ্যালো মামুনি! হ্যাঁ,এইতো গাড়িতে আমি, বাসায় আসছি। তোমার জন্য কি নিয়েছি? হাহাহাহা। তোমার জন্য একটা পুতুল কিনেছি। জানো, পুতুলটি আবার কথাও বলতে পারে। হ্যালো, কি?তোমার মামুনির জন্য কি আনবো? হোহোহো। তোমার মামুনি তো পঁচা ওর জন্য কিছুই কিনিনি। হাহাহা, ভাল করেছি? হ্যাঁ, একদম ভাল করেছি তাইনা মামুনি। এবার বাবাকে একটা পাপ্পি দাওতো বলে তিনি ফোন কেটে দিলেন। ফোন কেটেই হুড়মুড় করে ব্যাগ ঘাটতে শুরু করলেন। ব্যাগ থেকে একটা কাগজের প্যাকেট বের করলেন। আমাকে দেখিয়ে বললেন ভাই এটা নিলাম আজকে মেয়ের জন্য। এতক্ষণ ফোনে ওর সাথেই কথা বলছিলাম, খেয়াল করেছেন নিশ্চই। কি আজব জিনিস দেখেছেন। আপনি যা বলবেন পুতুলটিও তাই বলবে। বিষয়টি আবার বিরক্তিকরও। একটা প্রাণহীন পুতুল আপনাকে নকল করছে ব্যাপারটা ব্যঙ্গ করার মতো না? আমি কোন জবাব না দিয়ে বিরক্তির সাথে তাকিয়ে রইলাম। লোকটি বলতে লাগলো, কিন্তু ব্যাপার কি জানেন ভাই, বাচ্চারা এই ধরনের জিনিস অনেক পছন্দ করে। এই সুযোগে দোকানদার হারামজাদাগুলোও অনেক দাম হাঁকিয়ে বসে। বলুন তো এই জিনিসটার দাম কতো পড়লো? গুনে গুনে ৮ টা ১০০ টাকার নোট। ভেবে দেখেন! এই জিনিসের দাম কত দিয়েছিলেন জানেন? ৩০০০ টাকা। আমি বললাম মগের মুল্লক নাকি? ৩০০০ টাকা দিয়ে আস্ত ছাগল কেনা যাবে মিয়া! ৫০০ টাকার এক টাকাও বেশি দেব না। শেষে ৮০০ টাকায় দিয়ে দিল। আবার ও ফোন বেজে উঠলো!
হ্যালো মামুনি, কি? ভাইয়া গাড়ী দিচ্ছেনা। দাড়াও আমি আসি। ওকে খুব করে বকা দিয়ে দিব। আচ্ছা রাখি মামুনি। বাবাকে একটা আপ্পি দাওতো এখন! টুট টুট!
অর্ধেকের বেশি রাস্তা উনার মেয়ের কথা শুনেই পার হয়ে গেলো। বিরক্ত হয়ে শেষে বলতে বাধ্য হলাম ভাই এবার থামেন তো! আমি সারারাত ঘুমাইনি। খুবই ঘুম পাচ্ছে। একটু ঘুমোতে দিন।

এরপর কি হয়ছিলো? ও হ্যা! যা হয়েছিলো তা মনে পড়তেই আমার মাথা ব্যাথাটা দ্বিগুন পরিমাণে বেড়ে গেল। মলে হলো মাথার ভিতরে কেউ হাতুড়ি দিয়ে বারি দিচ্ছে, আমার পুরো শরীরের মধ্যে দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। মনে হলো ঠান্ডায় আমার হাত পা জমে গেছে।

এরপর আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেও যা হয়েছিলো…..
আমিরাবাদ পার হয়ে চন্দনাইশ আসলে বাস নামাজ পড়ার জন্য বিরতি দেয়। আমার পাশের লোকটি আমি ঘুমাচ্ছি দেখে বিরক্ত হবো ভেবে আমাকে না ডেকেই নামাজ পড়ার জন্য নিচে নেমে যায়। গাড়ির সব যাত্রী নিচে ছিলো শুধুমাত্র আমি ছাড়া। কেউ নামাজ পড়ছিলো কেউ এদিক সেদিক হাটছিলো। আর তখনই বিকট শব্দে মালবাহী একটি ট্রাক আমাদের বাসে আছড়ে পড়ে। কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রচন্ড গতিতে আমার মাথা জানালায় ধাক্কা খায়। আমার মাথা থেতলে যায়। দুই সিটের মাঝে পিষ্ট হওয়া আমার দেহটা অনেক কষ্টে বের করে আনা হয়। পাশের লোকটি আর কয়েকজন যাত্রী মিলে আমাকে বিজিসি ট্রাস্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। নেয়ার পর ডাক্তার বলেন আমি অনেক আগেই মারা গিয়েছি।

আবারো আগরবাতির ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে লাগছে। এবার আর বুঝতে কষ্ট হয়না গন্ধটা কোত্থেকে আসছে। তীব্র যন্ত্রণায় আমি মাথায় হাত রাখি। হাতে গরম তরলের অনুভূতি পাই। এবার বুঝতে পারি সত্যিই আমার মাথা থেকে চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে!

লেখক: সীমান্ত বড়ুয়া।

শেয়ার করুন
  • 32
    Shares
By | ২০১৮-০৬-১৭T১৩:৩৭:১১+০০:০০ জুন ৪, ২০১৮|গল্প অথবা উপন্যাস|০ Comments

Leave A Comment